Voice of SYLHET | logo

৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জুন, ২০২১ ইং

৮০ শতাংশ রোগী ভারতীয় করোনার আক্রান্ত

প্রকাশিত : জুন ০৫, ২০২১, ১০:২১

৮০ শতাংশ রোগী ভারতীয় করোনার আক্রান্ত

উচ্চ হারে করোনা সংক্রমিত এলাকার করোনা শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৮০ শতাংশই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে (ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট) আক্রান্ত। এছাড়া ১৬ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টে (বিটা ভ্যারিয়েন্ট)। সরকারের রোগতত্ত্ব রোগ নির্ণয় ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষায় এই ফলাফল পাওয়া গেছে। গত ১৬ মের পর থেকে এই পরীক্ষাগুলো করা হয়েছে। দেশে উচ্চ সংক্রমিত করোনা আক্রান্ত এলাকা থেকে সরকারি সংস্থা আইইডিসিআর ও বেসরকারি সংস্থা আইদেশি উচ্চ সংক্রমিত এলাকার আরটি পিসিআর মেশিনের পরীক্ষায় নিশ্চিত (কনফার্মড) কোভিড-১৯ ভাইরাসের ৫০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে।

আইইডিসিআরের তথ্যানুসারে, এই ৫০টি নমুনার মধ্যে ৪০টি নমুনায় (৮০ শতাংশ) ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট ১০টি নমুনার মধ্যে ৮টি নমুনার (১৬ শতাংশ) জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।
আইইডিসিআর বলেছে, যেসব নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে সংগ্রহ করা হয় ১৬ নমুনা। এর মধ্যে ১৫টিতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। অপর দিকে গোপালগঞ্জ জেলা থেকে সংগৃহীত ৭টি নমুনার সবগুলোতেই এই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পেয়েছে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে। আইইডিসিআর ও আইদেশির পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ অথবা গোপালগঞ্জেই সীমাবদ্ধ নেই রাজধানী ঢাকাতেও পৌঁছে গেছে। রাজধানী থেকে সংগৃহীত ৪টি নমুনার ২টিতেই পাওয়া গেছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট। অপরদিকে রাজধানীর পাশেই নবাবগঞ্জ থানায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আগত এমন সাতজনের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে সাতটিতেই পাওয়া গেছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট। এছাড়া খুলনা শহর থেকে সংগৃহীত তিন নমুনার তিনটিতেই উল্লিখিত ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এর বাইরে ভারত থেকে সরাসরি চিকিৎসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন এমন তিনজনের নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে বলে আইইডিসিআর উল্লেখ করেছে। এই তিনজন চুয়াডাঙ্গা ও খুলনায় চিকিৎসাধীন আছেন।
শনাক্তকৃত ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের তিনজনের বয়স (৭ শতাংশ) ১০ বছরের নিচে। ৭ জনের বয়স (১৮ শতাং) ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে, ১০ জনের বয়স (২৫ শতাংশ) ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। ৮ জনের বয়স (২০ শতাংশ) ৪১ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে, চারজনের বয়স (১০ শতাংশ) ৫০ বছরের উর্ধ্বে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের মধ্যে ২৪ জন (৬০ শতাংশ) পুরুষ। এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জনের ভারত ভ্রমণ করেছেন। ১৮ জন বিদেশ থেকে যারা এসেছে তাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। ১৪ জন (৩৫ শতাং) রোগী বাংলাদেশের বাইরে কোথাও ভ্রমণ করেননি অথবা বিদেশ থেকে এসেছেন এমন কারো সংস্পর্শে আসার ইতিহাস পাওয়া যায়নি। আইইডিসিআর বলছে, কোভিড-১৯ এর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের (ভারতীয়) বাংলাদেশে কমিউনিটি সংক্রমণ ঘটেছে।

আইইডিসিআর বলেছে, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ অন্যান্য জেলায় বেড়ে যাচ্ছে। সংক্রমণের হার হ্রাস করার লক্ষ্যে এবং দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টসহ করোনার অন্যান্য ভ্যারিয়েন্ট বিস্তার রোধে আইইডিসিআর দেশের সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়েছে। স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে জনসমাগম এড়িয়ে চলা, অন্যদের থেকে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার কথা বলেছে।
ঈদের পর বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণ। আবারো ১০ শতাংশের উপরে উঠেছে শনাক্তের হার। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১৮ হাজার ৪৫৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০.৪০ শতাংশ নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষিত নমুনা থেকে ১ হাজার ৮৮৭ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত বছরের ৮ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৭ হাজার ৮৬৭ জন । গতকাল করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৪ জন। গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১২ হাজার ৭৫৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৭২৩ জন। করোনায় দেশে মোট সুস্থ হলেন ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৯টি এবং পরীক্ষা হয়েছে ১৮ হাজার ১৫১টি। দেশে এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬০ লাখ ২১ হাজার ১৪৫টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯৭টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৪৮টি পরীক্ষা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে ৫০৯টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার ১৩১টি, জিন এক্সপার্ট মেশিন ৪৪টি এবং র্যাপিড অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে ৩৩৪টি পরীক্ষাগারে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ধামইরহাটে ১ জনের মৃত্যু

ধামইরহাট (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর ধামইরহাটে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক পুরোহিতের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার আড়ানগর ইউনিয়নের অন্তর্গত পলাশবাড়ী গ্রামের সুনীল ভট্টাচার্যের ছেলে পুরোহিত সনাতন ভট্টাচার্য (৫৫) করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান। তার ছেলে সজীব ভট্টাচার্যও করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতির পিতা-মাতার মৃত্যু
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও উইজডম ভ্যালি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ কামাল হোসেনের পিতা-মাতা ইন্তেকাল করেছেন। গত বৃহস্পতিবার মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। গতকাল শুক্রবার সকালে তাদের গ্রামের বাড়ি উপজেলার লোকেরেপাড়া ইউনিয়নের গর্জনা গ্রামে জানাজা নামাজ শেষে তাদের দাফন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে তার বাবা সোহরাব আলী আকন্দ (৮৫) মাতা সুফিয়া বেগম (৭৫) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাদের দুজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরে নমুনা পরীক্ষার পর তারা দুজনই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে ডাক্তার নিশ্চিত করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বিকাল আনুমানিক ৫টায় তার মা সুফিয়া বেগম (৭৫) মারা যান। এর মাত্র ৫ ঘণ্টা পর রাত ১০টায় তার বাবা সোহরাব আলী আকন্দ (৮৫) মৃত্যুবরণ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 59 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

Design & Developed By : amdads.website