Voice of SYLHET | logo

১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং

গোলাপগঞ্জের ধর্ষক আলাল গ্রেফতার

প্রকাশিত : July 15, 2019, 19:17

গোলাপগঞ্জের ধর্ষক আলাল গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট গোলাপগঞ্জ উপজেলার হিলালপুরের তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী আলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার ভোরে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কাশেমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ জৈন্তাপুর চিকনাগুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার খালার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

আটককৃত আলাল হোসেন (২৫) লক্ষীপাশা ইউনিয়নের বাউসি গ্রামের মুছব্বির আলীর ছেলে। সে গত বৃহস্পতিবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক তরুণীকে (১৯) বিকেলে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে। ওই তরুণী উপজেলার ফুলবাড়ী ইউপির হেতিমগঞ্জে ব্র্যাক অফিসের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি হিলালপুর গ্রামে। এ ব্যাপারে ধর্ষণের শিকার তরুণী বাদি হয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আলাল হোসেনকে (২৫) আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

জানা যায়, ধর্ষণের শিকার তরুণী বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় ব্র্যাক অফিস হেতিমগঞ্জ চৌমুহনী থেকে নিজ বাড়ি হিলালপুর এলাকায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজি অটোরিকশায় উঠেন। এ সময় অটোরিকশায় অন্য কোনো যাত্রী ছিলেন না। সে সুযোগে অটোরিকশাচালক গন্তব্য স্থানের দিকে না গিয়ে অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে হেতিমগঞ্জ চৌমুহনী থেকে আরো দু’জনকে যাত্রী সাজিয়ে অটোরিকশায় তুলে গোলাপগঞ্জের দিকে রওনা দেয়। এ সময় ওই তরুণী অটোরিকশা থেকে নামতে চাইলে তার পাশে বসা আলাল হোসেন জোরপূর্বক তাকে আটকে রাখে। একপর্যায়ে অটোরিকশাচালক গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণ এলাকায় পাহাড়বেষ্টিত স্থানে নিয়ে তাদের নামিয়ে অটোরিকশা নিয়ে চলে যায়। এ সময় আলাল হোসেন ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরো দুই ব্যক্তি তরুণীকে একটি ভাঙা খালি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে।

ধর্ষক আলাল হোসেন জোরপূর্বক পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার কোনাচর বাজারে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তরুণীকে তুলে দিয়ে ধর্ষক আলাল পালিয়ে যায়। ওই সময় ধর্ষিতার চাচাতো ভাই ফোন দিলে ধর্ষিতা ভাইকে কোথায় আছে তিনি বলতে পারেননি। পরে বহনকারী অটোরিকশা চালক ধর্ষিতার চাচাতো ভাইকে বাউশি এলাকায় হস্তান্তর করলে তাকে গোলাপগঞ্জ থানায় নিয়ে আসেন ধর্ষিতার পরিবার। থানা পুলিশ তরুণীকে মেডিক্যাল রিপোর্টের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে ধর্ষিতা বাদি হয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় ধর্ষক আলাল হোসেনকে প্রধান আসামি করে ও অজ্ঞাত আরো দু’জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
তরুণীকে অপহরণ করে নেয়ার পর তরুণীর মা গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি জিডি করেছেন বলে জানা যায়।
এ দিকে মামলা রেকর্ড ও ধর্ষক আলাল হোসেনসহ জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয়রা গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার হেতিমগঞ্জ চৌমুহনীতে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে প্রায় অর্ধঘণ্টা ব্যারিকেড দিয়ে রাখেন। এ সময় সিলেটের পুলিশ সুপার বিয়ানীবাজারের যাওয়ার সময় তিনিও স্থানীয় জনতার ব্যারিকেডে আটকা পড়েন। পরে স্থানীয়রা ও থানা পুলিশ আসামি আলাল হোসেনকে আটকের আশ্বাস প্রদান করায় রাস্তা থেকে ব্যারিকেড তুলে নেয় হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 799 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।