Voice of SYLHET | logo

৩রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১৮ই আগস্ট, ২০২২ ইং

বিদায়ের আগে দুই ব্যর্থতার কথা বললেন আছাদুজ্জামান মিয়া

প্রকাশিত : August 08, 2019, 13:34

বিদায়ের আগে দুই ব্যর্থতার কথা বললেন আছাদুজ্জামান মিয়া

নিউজ ডেক্সঃ
বত্রিশ বছরের কর্মজীবনের সাড়ে চার বছর আছাদুজ্জামান মিয়া ছিলেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে থেকে অনেক সাফল্যের দেখা যেমন পেয়েছেন, তেমনি ব্যর্থতাও ছিল।

আর পাঁচদিন পর, আগামী ১৩ অগাস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যাবেন। তার আগে বৃহস্পতিবার শেষবারের মতো গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন সাফল্য-ব্যর্থতার কথা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত বিদায়ী মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখানে সফলতা যদি কিছু থাকে সেটি আমি বলব, আমার যে টিম ডিএমপি, ৩৪ হাজার পুলিশ সদস্যকে দেশের জন্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে জনগণের নিরাপত্তা বিধান করার জন্য এক সূত্রে রেখে কাজ করা সেটি আমার বড় সফলতা।

“জঙ্গি দমনে আমাদের সাফল্য দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে এবং এটি রোল মডেল হিসেবে সারা বিশ্ব নিয়েছে। আমরা একটি অনন্য কাজ করেছি; ভাড়াটিয়াদের ডেটাবেজ তৈরি করেছি। এ মুহূর্তে প্রায় ৭২ লাখ নাগরিকের ডেটাবেজ আমাদের সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিআইএমএস) আছে।এই ডেটাবেজের কারণে কোনো সন্ত্রাসী, অপরাধী পরিচয় গোপন করে ঢাকা শহরে লুকিয়ে থেকে অপরাধ করতে পারছে না বলে জানান তিনি।

এ পর্যায়ে ঢাকার পুলিশ প্রধান হিসেবে নিজের দুইটি ব্যর্থতার কথাও বলেন আছাদুজ্জামান মিয়া।ব্যর্থতার কথা যদি বলি, অকপটে বলব জনগণের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির যে একটি ব্যবধান, এটি আমরা অনেক কমিয়ে এনেছি। কিন্তু এখানে আমরা শতভাগ সফল হইনি। থানায় মানুষ যে ধরনের সেবা পায়। সে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য শতভাগ আমরা পূর্ণ করতে পারিনি।

দ্বিতীয় আরেকটি ব্যর্থতার কথা বলব, ঢাকা শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং একটি যানজটমুক্ত শহর করতে পারিনি।তবে এর দায় পুলিশের একার নয় বলে মনে করেন তিনি।

“এ দায়ভার শুধু ঢাকা মহানগর পুলিশের একার নয়। কারণ এখানে রাস্তা তৈরি করে সরকারের একটা সংস্থা, সিগন্যাল বাতি রক্ষণাবেক্ষণ করে আরেকটি সংস্থা। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা আমাদের দেশের মানুষের আইন না মানার প্রবণতা; উল্টো পথে যাওয়া, সিগন্যাল ভায়োলেশন করা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা।”

“এসব কারণে আমাদের যে লক্ষ্য ছিল- যানজটমুক্ত ঢাকা শহর, সেখানে আমরা সফল শতভাগ সফল হতে পারেনি আমাদের শত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও,” বলেন বিদায়ী ডিএমপি কমিশনার।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুলিশকে ব্যবহার যে অভিযোগ, সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আছাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। দেশের সংবিধান এবং ক্রিমিনাল ’ল এর বিধান অনুযায়ী পুলিশ দায়িত্ব পালন করে থাকে।

“রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ আমার কর্মকালের সময় কোনো কাজ করেছে, এমন কোনো সত্যতা নেই, এগুলো যারা বলে, তা বিভ্রান্তিমূলক, উদ্দেশ্যমূলক।”

তিনি বলেন, “আমরা যখন আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি, কেউ অবরোধ করেছে, আগুন দিয়েছে, মানুষের ওপর চড়াও হয়েছে, বোমা ছুড়েছে। এসব নৈরাজ্যমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করার দৃশ্যমান দায়িত্ব সংবিধান ও ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড আমাদের ওপর ন্যস্ত করেছে।
“এই কাজটি করতে গিয়ে কেউ যদি বলে পুলিশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কাজটি করেছি, এটা অত্যন্ত অন্যায় এবং আমি বলব এটি পুলিশকে শুধু বিতর্কিত করাই নয়, একটি প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করার নামান্তর।

হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য পুলিশকে এভাবে একটি মিথ্যা ব্লেম দেওয়া অপতৎপরতা বলে আমি মনে করি।”
পুলিশে দুর্নীতির প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “অন্যায়, দুর্নীতি বাংলাদেশের প্রত্যেকটা পেশাতেই কমবেশি আছে। ঢাকা মহানগরে জনগণের যাতে কোনো হয়রানি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে প্রত্যক্ষ ও নিবিড়ভাবে আমরা পর্যবেক্ষণ করি।”দায়িত্বপালনকালে সাংবাদিকদের কাছ থেকে নানাভাবে সহযোগিতা পাওয়ার কথা স্মরণ করে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আছাদুজ্জামান মিয়া।

ভবিষ্যতে থানাগুলো যেন মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে সে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১৯৬০ সালের ১৪ অগাস্ট ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জন্ম নেওয়া আছাদুজ্জামান ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন।

সিলেট, সুনামগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও রেঞ্জে দায়িত্ব পালনের পর হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজিও হয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি ডিএমপি কমিশনার পদে যোগ দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 836 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।