Voice of SYLHET | logo

১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং

শ্রীলঙ্কা সিরিজে ভরাডুবিঃসমস্যা কোথায়?

প্রকাশিত : July 31, 2019, 18:56

শ্রীলঙ্কা সিরিজে ভরাডুবিঃসমস্যা কোথায়?

শেখ রিদওয়ান হোসাইনঃসদ্য শেষ হওয়া শ্রীলঙ্কা সিরিজে চরম ব্যর্থতার স্বাক্ষর রাখলো বাংলাদেশ। একদিকে ঘরের মাটিতে শ্রীলঙ্কা ৪৪ মাস পর ওডিআই সিরিজ জিতলো,অপরদিকে বাংলাদেশ টানা ৫ ম্যাচ হারের বৃত্তের ভিতর ঘুরপাক খাচ্ছে। সিরিজের ৩ টি ম্যাচেই বাংলাদেশ লড়াই করতেও পারলো না! এমন ভরাডুবির পেছনের অংশটা দেখে পয়েন্ট আকারে দেখে নেওয়া যাক।

পয়েন্ট ১- ওপেনিং জটিলতা অথবা টপ অর্ডার জটিলতাও বলতে পারেন। সিরিজ শেষ পুরোপুরিই ব্যর্থ বাংলাদেশের টপ-৩। বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ওপেনার তামিম ইকবালের ব্যাট থেকে এসেছে ৩ ম্যাচে ৭ গড়ে মাত্র ২১ রান! অন্যদিকে অন্য ওপেনার সৌম্য শেষের ম্যাচে (ওয়ান ডাউনে নেমে) ৬৯ রানের ইনিংস সহ বাকি দুটো ইনিংসে করেছেন ১৫ ও ১১ রান। অর্থাৎ ৩ ম্যাচ শেষে সৌম্যর রান সংখ্যা ৯৫ রান। একটা দলের যখন ওপেনিং জুটি ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে ইনিংসটা বড় করে নেওয়া বা টার্গেট বিশাল করে নেওয়া সম্ভব হয় না। যার দরুণ ম্যাচে একটা বাজে প্রভাব ফেলে দেয় পাওয়ার-প্লেতে রান তুলার বদলে উইকেট বিলিয়ে দেওয়ায়।

পয়েন্ট ২- সিরিজের ৩ ম্যাচেই ধারাবাহিক ব্যর্থ মিথুন ও মাহমুদউল্লাহ। একদিকে সাকিব বিহীন ওয়ান ডাউন পজিশনে প্রথম দুই ম্যাচে চরম নির্বিষ মিথুন অন্যদিকে মিডল অর্ডারে মাহমুদউল্লাহর রানের খরা। ওয়ান ডাউন পজিশনে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা হলে ঘোচানোর জন্য এবং দলকে ভালো রান তৈরির প্লাটফর্ম করার জন্য বলা হয়ে থাকে। সেখানে ওয়ান ডাউনে খেলা মিথুনের প্রথম দুই ম্যাচের রান যথাক্রমে ১০ ও ১২ মোট মাত্র ২২ রান। টপ-৩ যেখানে ব্যর্থ, ঘোড়া দৌড়াবে কতদূর?
অন্যদিকে মিডল অর্ডারে মাহমুদউল্লাহর অবস্থাও একেবারে নাজুক। ৩ ম্যাচ মিলিয়ে তার রান সংখ্যা যথাক্রমে ৩,৬ ও ৯! মোট ১৮ রান আসে একজন অভিজ্ঞ মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যান থেকে। মিডল অর্ডারে শুধু ধারাবাহিক মুশফিক বাদে আর আর একটি মাত্র ইনিংস এসেছিলো সাব্বিরের ব্যাট থেকে ৫৬ বলে ৬০ রানের একটি ইনিংস।
যেখানে একটি দলের ওপেনার,ওয়ান ডাউনের ব্যাটসম্যান, মিডল অর্ডার সব বিভাগেই যখন চরম ব্যর্থ তখন দলীয় স্কোরও পেরোয় নি একবারোও আড়াইশর গন্ডি। তাই সমস্যা পুরো ব্যাটিং ডিপার্টমেন্ট জুড়েই।

পয়েন্ট ৩- ব্যাট হাতের পাশাপাশি বল হাতেও প্রাণহীন বাংলাদেশ। ৩ ম্যাচে একবারও প্রতিপক্ষকে অল-আউট করতে পারে নি যেখানে নিজেরাই দুই বারই অল-আউটের শিকার। বল হাতে সর্বোচ্চ শিকারি শফিউল (৬টি) হলেও রান দিতেও কার্পণ্য করেন নি খুব একটা। আর ডেথ ওভারে স্পেশালিষ্ট বোলার না থাকা বাংলাদেশকে এভাবেই ভোগাবে বারংবার। নিয়মিত বোলাররা যেখানে ব্যর্থ সেখানে অনিয়মিত বোলারদের উপর চেয়ে থাকতে হয় বাংলাদেশকে। তাসকিনকে দলে রেখে একটি ম্যাচেও সুযোগ দেওয়া হয় নি। মোসাদ্দেক, মিরাজ,মাহমুদুল্লাহরা বল হাতে নির্বিষ ভূমিকাই পালন করছিলেন।
অন্যদিকে রুবেলের ২ ম্যাচে উইকেট সংখ্যা মাত্র ২ টি।

ব্যাটিং-বোলিং দুই ডিপার্টমেন্টেই চরম ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে একটি ‘ভুলে যাবার মতো সিরিজ’ই কাটালো বাংলাদেশ। সাকিবের অনুপস্থিতি ব্যাটে-বলে দু দিকেই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বাংলাদেশ। দূর্দান্ত ফর্মে থাকা সাকিব ছুটি নিয়ে বিশ্রাম ও হজ্জে থাকায় বাংলাদেশকে যেনো সঙ্গ দিতে পারেন নি কেউই। মুশফিক দুই ম্যাচে লড়াই করে গেলেও সঙ্গীর ওভাবে দলকে দিতে পারেন নি কাঙ্খিত জয়। এ সিরিজের সব ব্যর্থতা ভুলে নতুন উদ্যমে ফিরবে বাংলাদেশ, এমন আশা রেখেই সমস্যার সমাপ্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 936 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।