Voice of SYLHET | logo

২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৭ই মে, ২০২১ ইং

ঈদ পর্যন্ত ঠেকতে পারে লকডাউন!

প্রকাশিত : এপ্রিল ৩০, ২০২১, ১৫:৪৯

ঈদ পর্যন্ত ঠেকতে পারে লকডাউন!

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় কঠোর লকডাউনের তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। আগামী ৫ মে মধ্যরাতে এই সর্বাত্মক লকডাউন শেষ হচ্ছে। এরপর আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর পর্যন্ত মাত্র তিনটি কর্মদিবস বাকি থাকে। অন্য দিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতে নতুন ধরনের করোনার ভয়াবহতা দিন দিন ভাবিয়ে তুলছে সবাইকে। বিমানের পর সড়ক পথও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, তবুও ওই ভাইরাস বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে কি নাÑ তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে চলমান লকডাউন আগামী ঈদ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। সরকারের সংশ্লিষ্টমহল এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে আরো এক-দু’দিন অপেক্ষা করতে হবে ।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৩ বা ১৪ মে দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ৫ মে লকডাউন শেষ হলে তিনটি কর্মদিবস বাকি থাকে।

এগুলো হচ্ছেÑ ৬ মে (বৃহস্পতিবার), ৯ মে রোববার ও ১১ মে (মঙ্গলবার)। এর মধ্যে ৭ ও ৮ মে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার। এরপর ১০ মে সোমবার শবে কদরের ছুটি। আগামী ১২ মে বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি। রমজান মাস যদি ২৯ দিনে শেষ হয় তাহলে ঈদুল ফিতর হবে ১৩ মে। এ ক্ষেত্রে ১৩ ও ১৪ মে’ও (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) ঈদের ছুটি থাকবে। তবে রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হলে ঈদের ছুটি আরো এক দিন বাড়বে। সে ক্ষেত্রে ১৫ মে শনিবারও ছুটি থাকবে।

ভারতে নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বিধায় সে দেশের সাথে বাংলাদেশের আকাশ, স্থল ও নৌ সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ দিকে দেশে সংক্রমণের হারও কিছুটা কমতে শুরু করেছে। সংক্রমণের হার কমার এই শুরুটা ধরে রাখতে না পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। তখন আর কোনো লকডাউনে কাজ হবে না বলে মনে করে সরকার। এ কারণে চলমান লকডাউনের মেয়াদ আরো কিছুদিন বাড়িয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে এবার সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চালু করার ভাবনাও আছে। সে ক্ষেত্রে কৌশল কী হবে তা নিয়েও শলাপরামর্শ হচ্ছে। বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমাদের চিন্তাভাবনা চলছে কী করব। তিনি বলেন, ৫ তারিখের পর বিধিনিষেধের কী হবেÑ সেটা এখনো চিন্তাভাবনার পর্যায়ে রয়েছে। আমরা ৫ তারিখের আগেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবো।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখনো ঝুঁকিতে রয়েছি। কবে নাগাদ ঝুঁকিমুক্ত হবো তা নিশ্চিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে সবকিছু স্বাভাবিক করে দেয়া কতখানি যুক্তিযুক্ত হবে তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। কোনো কিছুই চূড়ান্ত করা হয়নি। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। ভারতের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের করণীয় ঠিক করতে হবে। সংক্রমণ ও মৃত্যু তো ঠেকাতে হবে।’

লকডাউনে গণপরিবহন চালানোর অনুমতি দাবি মালিক সমিতির : ঈদ সামনে রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লকডাউনে গণপরিবহন চালানোর অনুমতিসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। নয়তো পরিবহন মালিকদের অনেকেই দেউলিয়া হয়ে যাবেন বলে আশঙ্কা করেন। গতকাল গাবতলীর বাগবাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশচন্দ্র ঘোষ এই দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিদিন কমপক্ষে দুই কোটি যাত্রী গণপরিবহনে সড়কপথে যাতায়াত করে থাকে। করোনা সংক্রমণ রোধে গত ৫ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় দফায় লকডাউনে মালিক-শ্রমিক, কর্মচারীদের পরিবারপরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। রমেশচন্দ্র ঘোষ বলেন, লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যয় চলমান রয়েছে। যেমন কাউন্টার ভাড়া, গ্যারেজ ভাড়া, স্টাফ বেতন, পার্কিং চার্জ, গাড়ি পাহারা ও পার্টস ড্যামেজ। সব মিলিয়ে দৈনিক প্রতিটি কোম্পানি বড় অঙ্কের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। গত বছর ৯০ দিনের লকডাউনে সড়ক পরিবহন সেক্টরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়, যা পরিবহন মালিকরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, বেশির ভাগ কমার্শিয়াল যানবাহন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণের মাধ্যমে নেয়া হয়েছে। ফলে বাসগুলোর বিপরীতে ঋণের বোঝা পরিবহন মালিকদের কাছে করোনা সংক্রমণের ভারের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। অনেক পরিবহন মালিক দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গণপরিবহন খাতের জন্য চার দফা দাবি উত্থাপন করেন রমেশচন্দ্র ঘোষ। প্রসঙ্গত করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার জনসমাগম এড়াতে প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরে এ নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। তবে সে সময় সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা, গণপরিবহন চালু ছিল। এরপর সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনে যায়, যাতে বন্ধ ছিল গণপরিবহন এবং দোকানপাট। সরকারের সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৫ মে পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধ থাকছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 37 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

Design & Developed By : amdads.website