Voice of SYLHET | logo

৬ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

নুরুলের দুর্নীতিতে ‘লজ্জিত’ দুর্নীতির অভিযোগে পদ হারানো রাব্বানী

প্রকাশিত : December 08, 2019, 18:05

নুরুলের দুর্নীতিতে ‘লজ্জিত’ দুর্নীতির অভিযোগে পদ হারানো রাব্বানী

 

নিউজ ডেস্কঃ
সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হকের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগে ‘লজ্জিত’ ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রতিনিধিরা৷ এই অভিযোগে ডাকসুর ভিপি পদ থেকে নুরুলের পদত্যাগ দাবি করেছেন দুর্নীতির অভিযোগে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ হারানো ডাকসুর জিএস (সাধারণ সম্পাদক) গোলাম রাব্বানীসহ ২৩ জন ছাত্র-প্রতিনিধি৷

আজ রোববার দুপুরে ডাকসুর সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে ছাত্রলীগের ডাকসু প্রতিনিধিরা নুরুলের পদত্যাগের দাবি জানান৷ ডাকসুর ভিপি নুরুল হকের ‘টেন্ডারবাজি, তদবির বাণিজ্য ও অনৈতিক অর্থ লেনদেনের’ প্রতিবাদে নিন্দাজ্ঞাপন, ভিপি পদ থেকে নুরুলকে পদত্যাগের আহ্বান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়৷

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর জিএস ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ হারানো গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ডাকসুর সর্বোচ্চ পদ যেটি, ভিপি পদ, নুরুল হক সেটিকে স্পষ্টভাবেই বিতর্কিত ও কলঙ্কিত করেছেন, আমরা তার প্রমাণও পেয়েছি৷ তাঁর অডিও ফোনালাপ গতকাল ভাইরাল হওয়া ভিডিও৷ আমরা ডাকসু পরিবার এই অপকর্মের দায়ভার নিতে রাজি নই৷ আমাদের আহ্বান, ডাকসুর ভিপি পদকে আর বিতর্কিত না করে নুরুল যেন অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করেন৷ তিনি যদি পদত্যাগ না করেন, আমরা ডাকসুর সভাপতির প্রতি আহ্বান জানাই, নৈতিক স্খলনের কারণে তিনি যেন নুরুলকে ডাকসুর ভিপি পদ থেকে বহিষ্কার করেন৷’

এ সময় নুরুলের একটি ভিডিও সাংবাদিকদের দেখান গোলাম রাব্বানী৷ সেখানে ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদারকে নুরুল বলছেন, ‘ডাকসু ভিপির জন্য মাত্র ১৩ কোটি টাকা কোনো বিষয় নয়৷ কত ১৩ কোটি টাকা আসবে-যাবে!’ রাব্বানী বলেন, যে কারও নামে অভিযোগ উঠতে পারে৷ অভিযোগ নিয়ে আমাদের কথা নেই৷ নুরুলের ক্ষেত্রে আমরা যেহেতু কিছু দালিলিক প্রমাণ পেয়েছি, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক৷

গত মার্চে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে গোলাম রাব্বানীর প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে তাঁকে নিয়মবহির্ভূতভাবে এমফিলে ভর্তির সুযোগ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন৷ এটি নৈতিক স্খলন নয় কি- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রাব্বানী বলেন, ‘এটা নিয়ে ইতিমধ্যে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হয়েছে, তদন্ত হয়েছে৷ আমি যে নিয়ম মেনেই ভর্তি হয়েছি, সেটা স্পষ্ট হয়েছে৷ এমফিলে ভর্তির কাগজপত্র যথাসময়েই আমি বিভাগে জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু বিভাগের দীর্ঘসূত্রতার কারণে যথাসময়ে তা জমা হয়নি৷ আমি যথাসময়েই জমা দিয়েছিলাম৷ সুতরাং, এখানে আমার কোনো ব্যর্থতা বা দায়বদ্ধতা নেই৷ কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়নি৷ একটা অভিযোগ উঠেছিল, যা পরে ভুল প্রমাণিত হয়েছে৷ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নিয়ম আছে, তা আমার জানার কথা নয়৷ সঠিক সময় ও মুহূর্তে আমি আমার সঠিক কাজটি করেছি৷ বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে তাঁদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে, সেটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ব্যাপার৷’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নপ্রকল্প থেকে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল, সে বিষয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে রাব্বানী তাঁর কোনো জবাব দেননি৷ এই প্রশ্নের জবাব দেন ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন৷ তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরে যা ঘটেছে, তা একটি ছাত্রসংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়৷ সেটির আলোকে কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ গোলাম রাব্বানী ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন৷ কিন্তু তাঁর কোনো ফোনালাপ বের হয়নি, তাঁর কোনো পারিবারিক ব্যবসার কথা বলা হয়নি, কোনো আন্টির কথা বলা হয়নি৷ তবু দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি সংগঠন থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন৷ সেদিক থেকে ভিপি নুরুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটি আরও বেশি জোরালো৷’

পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে নিজের কথোপকথনের একটি ফাঁস হওয়া অডিও প্রসঙ্গে কথা বলেন রাব্বানী৷ তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগরের ঘটনায় যে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, তা ওই ফোনালাপে পরিষ্কার হয়েছে৷ আমি যেহেতু তখন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম, আমার একটি ইউনিটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, আমি সে বিষয়ে কথা বলেছিলাম৷ এটি আমার বিষয় নয়, তাঁদের৷ তবু অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নৈতিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমি ও আমার সভাপতি অব্যাহতি নিয়েছি৷ এরপর থেকে আমরা ওই ঘটনার বারবার তদন্ত চেয়েছি, কোনো তদন্ত কমিটি কিন্তু করা হয়নি৷’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ডাকসুর সদস্য রাকিবুল হাসান৷

নিজেকে ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে হাজির করতে গিয়ে ভিপি নুরুল আজ ‘জাতীয় বেঈমানে’ পরিণত হয়েছেন- এমন মন্তব্য করে লিখিত বক্তব্যে রাকিবুল হাসান বলেন, ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত ২৩ জন ছাত্র-প্রতিনিধির একক ও যৌথ উদ্যোগে যখন বিভিন্ন বিভাগের উন্নয়ন ফি কমানো, গ্রন্থাগারের সময়সীমা বাড়িয়ে, একাডেমিক প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু, শিক্ষার্থীদের জীবনমান ও পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে নিরলসভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের কর্মযজ্ঞ হচ্ছে, তখন ডাকসুর ভিপি পদটি ব্যবহার করে নুরুল হকের টেন্ডারবাজি, তদবির বাণিজ্য ও অনৈতিক অর্থ লেনদেনের খবর আমাদের লজ্জিত করে৷ শিক্ষার্থীদের আবেগকে ব্যবহার করে নুরুল ডাকসুর ভিপি পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে অবস্থান করছেন৷ যে প্রত্যাশা নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁকে নির্বাচিত করেছিলেন, নুরুল একদিকে তার কিছুই পূরণ করতে পারেননি, জাতির সামনে শিক্ষার্থীদের লজ্জিত করেছেন৷ গত নয় মাসে ডাকসু ভিপির উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য একটিও কাজ না হলেও পদটিকে ব্যবহার করে তিনি নিজের রাজনৈতিক অভিলাষ পূরণের চেষ্টা করে চলেছেন পুরোদমে৷ একাধিক টেন্ডার বাণিজ্য, তদবির বাণিজ্য, নিয়োগ ও বদলিতে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন৷

সূত্রঃপ্রথম আলো

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 190 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।