Voice of SYLHET | logo

৭ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

গোয়ালাবাজারে নামাজের সময় মাছ ও শুটকি বিক্রি বন্ধ, ব্যবসায়ীরা সর্বমহলে প্রশংসিত

প্রকাশিত : October 15, 2019, 17:30

গোয়ালাবাজারে নামাজের সময় মাছ ও শুটকি বিক্রি বন্ধ, ব্যবসায়ীরা সর্বমহলে প্রশংসিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পুঁজিবাদি এ যুগে হালাল রুজি যেন সোনার হরিণ। শত চেষ্টা সত্ত্বেও হারাম উপার্জন থেকে বেঁচে থাকা কষ্টকর এবং প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে মনে যদি সাহস আর ভরসা থাকে আল্লাহর ওপর, তাহলে অবশ্যই সম্ভব। এমনটাই করে দেখাচ্ছেন ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারের মাছ ও শুটকি ব্যবসায়ীরা।

নামাজের সময় সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রেখে জামাতে শরিক হচ্ছেন। আযানের সাথে সাথে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা মাছ ও শুটকি বিক্রি বন্ধ রাখছেন। মাছ ও শুটকির চাংগা রেখেই চলে যাচ্ছেন নামাজ আদায় করতে। তাদের এই উদ্যোগ সর্ব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারি থেকে উপজেলার তাজপুর বাজার এবং চলতি মাস থেকে বালাগঞ্জ বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা নামাজের সময় মাছ বিক্রি বন্ধ রাখছেন।নামাজের সময় মাছ এবং শুটকি বিক্রি বন্ধ রেখে সর্বমহলে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন দুই উপজেলার ব্যবসায়ীরা।

মাওলানা সামছুল আলম বলেেন, নামাজের জন্য ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে ধর্মীয় অনুসরণের একটি উজ্জ্বল দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছেন তারা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হচ্ছে নামাজ। পরিতাপের বিষয় দুনিয়াবি বিভিন্ন কাজের অজুহাতে নামাজ আদায়ে অবহেলা করা হয়। কিন্তু সাহাবিরা নামাজের সময় হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দুনিয়াবি সব কাজের ব্যস্ততা ছুড়ে ফেলে জামাত কায়েম করার চেষ্টা করতেন। নামাজ আদায়ে সচেতন হওয়া আমাদের একান্ত কর্তব্য।

এদিকে বাজারের অনেক ব্যবসায়িরা বলেন, নামাজের সময় মাছ ও শুটকি বিক্রি বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরা নামাজে যাচ্ছে। এ বিষয়টি আমাদের যুব সমাজ এবং আমাদেকে ধর্মীয় পথে চলার উৎসাহ প্রদান করছে। তাদের এ উদ্যোগে আমরা সত্যিই গর্ববোধ করছি।

আমরা তালহা (রা.)’র ঘটনা জানি নামাজের প্রতি মনোযোগ নষ্ট হওয়ার কারণে তার প্রিয় বাগান আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিয়েছিলেন । এ সম্পর্কে আবদুল্লাহ বিন আবু বকর (রা.) বলেন, আবু তালহা আনসারি (রা.) একবার তার এক বাগানে নামাজ আদায় করছিলেন , আর বাগানের মধ্যে একটি পাখি উড়াউড়ি করছিল, মূলত পাখিটি বের হওয়ার চেষ্টা করছিল ,তলহা (রা:)’র এই দৃশ্য খুব ভালো লাগল। ফলে তিনি কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর নামাজের দিকে মনোযোগ দিলেন। কিন্তু তিনি স্মরণ করতে পারলেন না যে, নামাজ কত রাকাত আদায় করেছেন। তিনি বললেন, এই মাল আমাকে পরীক্ষায় ফেলেছে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং বাগানে তার সম্মুখে যে পরীক্ষা উপস্থিত হয়েছিল তা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এই মাল আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করছি। আপনি যেখানে পছন্দ করেন তা সেখানে ব্যয় করুন। (মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২১৪)।
সাহাবায়ে কেরাম (রা:)র এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে , নামাজ আদায়ে  সচেতন হওয়া আমাদের একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সাহাবায়ে কেরামের মতো নামাজ আদায় করার তৌফিক দিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 187 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।