Voice of SYLHET | logo

২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

একজন প্রেসিডেন্ট, একজন এরশাদ

প্রকাশিত : July 14, 2019, 15:56

একজন প্রেসিডেন্ট, একজন এরশাদ

সাকিল আহমেদ:

জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জন্মগ্রহন করেন রংপুর এর নানার বাড়িতে ১৯৩০ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি। তবে তার শৈশব এবং স্কুল জীবন কেটেছে বাবা মায়ের সাথে ভারতের কুচবিহারের দিনহাটায়। সেখান থেকেই তিনি এসএসসি পাশ করেন।

স্কুল জীবন শেষে করেই তিনি রংপুরে কারমাইকেল কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পড়েছেন। তার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্মাতক ডিগ্রী পর উকিল হওয়ার চিন্তা থেকে ল’কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু আইন পড়া শেষ হওয়ার আগেই ১৯৫২ সালে তিনি সেনাবাহিনীর চাকুরী পেয়ে তাতে যোগদান করেন।

এরশাদ খেলাধূলায়ও বেশ পারদর্শী ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবনে ফুটবলার হিসাবে পরিচিত হয়েছিলেন,তখন ফুটবল খেলা বেশ জনপ্রিয় ছিল। স্কুল জীবনে এরশাদ রংপুর অঞ্চলে বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে ভাড়ায় ফুটবল খেলতেন। এছাড়া তিনি তখন থেকেই কবিতা ছড়া ও প্রবন্ধ লেখতেন। তাছাড়া তিনি কারমাইকেল কালেজ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব ও পালন করেছিলেন। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা “দৈনিক বাংলায়” তার অনেক কবিতা ছাপা হয়েছিল। তাছাড়া তিনি একটি আত্মজিবনী লিখেছেন, তার নাম “আমার কর্ম,আমার জীবন”এছাড়া তার কয়েকটি কবিতার বইও বের হেয়েছে।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮৩ সালে তিনি ক্ষমতা দখল করেন এবং ক্ষমতা দখলের পর দেশে রাজনীতি নিষিদ্ধ করে তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বারের মত সামরিক শাসন জারি করে নিজেকে প্রধান সামরিক শাসক হিসাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখন তিনি নতুন একটি স্লোগান চালু করেছিলেন, সেটি ছিল “নতুন বাংলাদেশ গড়বো মোরা” ।

তার এই সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ করে ছাত্ররা। ১৯৮২ সালে ১১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবসকে কেন্দ্র করে মজিদ খানের প্রস্তাবিত শিক্ষানিতী বাতিলের দাবি নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছিল।সে বছরই নভেম্বর এ তৈরি হয়েছিল ছাত্র সঙ্গঠনের ঐক্যবদ্ধ ফোরাম “ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ”।বাংলাদেশের গন আন্দোলনের মুখে জেনারেল এরশাদ নয় বছরের শাসনের পতন হলেও তিনি রাজনিতীতে পুনর্বাসিত হয়েছেন। তিনি সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখলের পর জাতীয় পার্টি নামে দল গঠন করেন।

জেনারেল এরশাদ ১৮ দফা উন্নয়নের কর্মসূচী নিয়ে রাজনিতীতে নেমেছিলেন।এবং দেশকে কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করাসহ কিছু সংস্কারের পদক্ষেপ নিলেও তিনি পরে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তিনি হাইকোর্ট বা উচ্চ আদালতকে রাজধানীর ঢাকার বাইরে অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে স্থানান্তর এর উদ্দোগ্য নিয়েছিলেন। বিরোধীতার মুখে সেই উদ্যোগ ব্যার্থ হয়।

তিনি ক্ষমতা থাকাকালীন ইসলাম ধর্মকে নিয়ে বেশ কিছু প্রসংশনীয় আইন চালু করেন এর মধ্যে অন্যতম রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম।

এরশাদের অবদান:

· তিনি ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম করে সংবিধানে অষ্টম সংশোধনী আনেন।

· সংসদে বিসমিল্লাহ বহাল রাখেন।

· শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসাবে ঘোষণা করেন

· ইবতেদায়ো মাদ্রাসা স্বকৃতী প্রদান করেন।

· যাকাত বোর্ড ও যাকাত তহবিল ঘঠন করেন।

· আলিয়া মাদ্রাসা এমপিও ভুক্ত করা।

· মসজিদের পানি ও বিদ্যুৎ বিল মওকূফ করা।

· বায়তুল মোকাররকে জাতীয় মসজিদ ঘোষণা করা।

· মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিমের ভাতা প্রদান।

· রেডিও এবং টিভিতে পাঁচ ওয়াক্ত আজান নামাজের সময় প্রচার।

জেনারেল এরশাদের শাসনের পতনের পর তাকে জেলে নেয়া হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা এবং দুর্নীতি সহ বিভিন্ন অভিযোগে ডজনখানেক মামলা হয়েছে। ১৯৯১ সালে তিনি জেল থেকেই সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। সেই পরিস্থিতে তার দল জাতীয় পার্টি ৩৫ টি আসন পেয়েছিল। তিনি রংপুরের পাচঁটি আসন থেকে নির্বাচিন হয়েছিলেন। এর পরের সংসদ নির্বাচনগুলোতে তিনি নিজে কখনো পরাজিত হননি। ১৯৯৬ সালে তিনি জেল থেকে নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দিয়েছিলেন। তখন আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ছয় বছর জেল খাটার পর তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।তার মামলার কয়েকটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন আবার কয়েকটিতে খালাশ পেয়েছেন

২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি চরম নাটকীয়তার পর আওয়ামী লীগের সাথে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি আসন পায় ৩৪ টি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আসন পায় ২২ টি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার কারনে তিনি কখনই স্বাধীন অবস্থাত রাজনিতী করতে পারে নি।

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ২০১৯ সালের ১৪ই জুলাই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি প্রায় ১০ দিন ধরে ঢাকার সম্মিলিত হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। ৯০ বছর বয়সী এরশাদ মাইডোলিস্প্লাস্টিক সিনড্রোম এ আক্রান্ত ছিলেন। রক্তে হিমোগ্লোবিন স্বল্পতা,সেই সাথে ফুসুফুসে দেখা দিয়েছিল সংক্রমক। এছাড়া তার কিডনিও কাজ করছিলো না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1054 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।