Voice of SYLHET | logo

২৩শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ৭ই জুলাই, ২০২২ ইং

দিরাইয়ে স্বজন হারানোর বেদনা;থামছে না কান্নার রোল

প্রকাশিত : September 26, 2019, 14:42

দিরাইয়ে স্বজন হারানোর বেদনা;থামছে না কান্নার রোল

দিরাই সংবাদদাতা:

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের কালিকোঠা হাওরে নৌকাডুবিতে এ পর্যন্ত ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।স্থানীয় রফিনগর ইউপি চেয়ারম্যান রেজুয়ান হোসেন খান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার কালিকোঠা হাওরপাড়ের পেরুয়া থেকে ৩১ জন যাত্রী নিয়ে হাওরপাড়ের মাছিমপুরে যাচ্ছিল। বুধবার ছিল মোফাজ্জল মিয়ার বিয়ে। মামার বাড়ির আত্মীয়-স্বজনদের ট্রলার নিয়ে আনতে গিয়েছিল বরের ভাই। ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি মাছিমপুরের কাছাকাছি এসে ডুবে যায়। এসময় সাত যাত্রী সাঁতার কেটে পাড়ে ওঠেন। এলাকাবাসী চার শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।বিয়ের আনন্দের বদলে স্বজন হারানোর বেদনায় এই বাড়িতে চলছে কান্না রোল।
এই বেদনাবিধুর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পেরুয়া গ্রামের বর মোফাজ্জল মিয়ার বাড়িসহ তার আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বিয়ের তারিখ।নিহতরা সবাই পরস্পর আত্মীয়-স্বজন। একই পরিবারের মা-সন্তানসহ একাধিক সদস্য রয়েছেন নিহতের তালিকায়।

নৌকাডুবিতে নিহতেরা হলেন, বর মোফাজ্জল মিয়ার মামাতো ভাই শিশু শহিদুল মিয়া (৪), একই গ্রামের নসিবুল্লার স্ত্রী করিমা বিবি (৭৮), পার্শ্ববর্তী নোয়ারচর গ্রামের আফজাল হোসেনের দুই ছেলে সোহান মিয়া (২), আসাদ মিয়া (৪) ও স্ত্রী আজিরুন নেছা (৩৫)। আজিরুন নেছা করিমা বিবির মেয়ে এবং দুই শিশু সোহান ও আসাদ তার নাতি। রফিনগর ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের জমসেদ আলীর মেয়ে শান্তা মনি (৩), আরজ আলীর স্ত্রী রহিতুন্নেছা (৩৫), তার মেয়ে তাছমিনা বেগম (১১), বাবুল মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া (২), বদরুল মিয়ার ছেলে আবির মিয়া (৩)।

মঙ্গলবার রাতে উদ্ধার করা হয় শিশু আবির, শামীম, আজম ও সোহানের লাশ। অন্যদের লাশ উদ্ধার করা হয় বুধবার সকালে।নোয়ারচর গ্রামের নিহত আজিরুন নেছার চাচাতো ভাই পেরুয়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য হাবুল মিয়া বলেন,‘ বুধবার পেরুয়া গ্রামের ফিরোজ আলীর বাড়িতে আনন্দ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এখন এলাকাজুড়ে কান্নার রোল চলছে। আমার চাচী, চাচাতো বোন ও তিনটি ভাগ্নেকে হারিয়েছি হাওরে জলে। হাওরের সর্বনাশা ঢেউ আমাদের পরিবারের পাঁচজনকে কেড়ে নিয়েছে। আনন্দের পরিবর্তে কান্না দিয়েছে।’

তিনি জানান, বর মোফাজ্জলের মামার বাড়িতে তার এক চাচাতো বোনের বিয়ে হয়েছে। চাচী সেখানে গিয়েছিলেন বেড়াতে। বিয়ের নাইওরিদের সাথে আসতে গিয়ে এই দুর্ঘটনায় পড়েছেন তিনি।
স্ত্রী ও মেয়ে হারা মাছিমপুর গ্রামের আরজ আলী কান্না জড়িতকণ্ঠে বললেন, ‘আমার শ্যালিকার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল আমার ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী। পথে নৌকাডুবিতে আমার স্ত্রী ও মেয়ে মারা গেছে। আল্লাহ’র মেহেরবানীতে ছেলে কোনভাবে সাঁতরিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছে। হাওরের সর্বনাশা ঢেউ আনন্দ, হাসি-খুশির বদলে আমাদের শুধু কান্না দিয়েছে।’

রফিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজুয়ান খান বলেন, ‘এরকম ঘটনা আমাদের এলাকায় আগে কখনোই ঘটেনি। স্বজনহারা মানুষের কান্নায় হাওরের বাতাশ ভারী হয়ে উঠেছে।’
চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রতন তালুকদার জানান, নৌকাতে ৩১ জন যাত্রী ছিলেন। নৌকা ডুবে যাওয়ার পর অন্যরা সাতরে তীরে উঠলেও ১০ জন নিখোঁজ হন। এই ১০জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক, আনন্দের পরিবর্তে বিষাদে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা।’

দিরাই থানার ওসি কেএম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘হাওর থেকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 251 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।