Voice of SYLHET | logo

৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২১শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

‘নিষিদ্ধ’ প্রযুক্তি সিলেটে, হয়রানির শঙ্কা হুয়াওয়ে ক্যামেরায়

প্রকাশিত : September 12, 2019, 16:54

‘নিষিদ্ধ’ প্রযুক্তি সিলেটে, হয়রানির শঙ্কা হুয়াওয়ে ক্যামেরায়

নিউজ ডেস্কঃ অপরাধী শনাক্ত করতে গিয়ে আটকে দেয়া হচ্ছে নিরীহদের। সময় নষ্ট হচ্ছে পুলিশের, সাধারণ জনগণের হয়রানি! এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো, অকল্যান্ডসহ চারটি শহরের ‘ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির আদালত।

আসামি ও অপরাধী শনাক্তে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সিলেট নগরীতে বসেছে ১১০টি ক্যামেরা। এর মধ্যে ১০টি কাজ করবে অপরাধী শনাক্তে। এ সংক্রান্ত ক্যামেরা, ট্র্যাকিং সিস্টেম ও আনুষঙ্গিক ডিভাইসগুলো সরবরাহ করে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। বিভিন্ন দেশে নাগরিকদের হয়রানি করা ক্যামেরাটির কার্যকারিতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। পরীক্ষামূলক প্রস্তুতির সময় ফলস পজেটিভ (ভুল ব্যক্তি শনাক্ত) ফলাফল দিয়েছিল হুয়াওয়ের এ ক্যামেরা।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, যেকোনো আসামি, অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তি অথবা কালো তালিকাভুক্ত যানবাহনের নম্বর যদি আইপি ক্যামেরার আওতাভুক্ত কোনো এলাকায় ধরা পড়ে, তবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। কন্ট্রোল রুম থেকে দেখে শনাক্ত ব্যক্তি বা গাড়িটি ধরতে সরাসরি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হবে।

এ প্রযুক্তি সম্পর্কে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসিয়াল রিকগনিশন হচ্ছে একটি বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। চেহারার মাধ্যমে মানুষকে শনাক্ত করতে মূলত এটি কাজ করে। তবে অনেক সময় নিম্নমানের লেন্স ও সেন্সর হওয়ায় এটি ভুল আসামি শনাক্ত করে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কৃষ্ণাঙ্গ ও মেয়েদের চেহারা শনাক্তে ব্যর্থ হওয়ায় এবং ভুল আসামি ধরায় এটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’ নামে ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় ‘ইজি অটোমেশন লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। ১১০টি ক্যামেরা, ফুটেজ যাচাই-বাছাই-সংক্রান্ত সফটওয়্যারসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি মিলে প্রায় তিন কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিটি সিসিটিভি ক্যামেরার সেটআপসহ দাম দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা।

ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মহিদুর রহমান খান জাগো নিউজকে বলেন, এ প্রযুক্তির ভেতরে এলগোরিদম (নির্দেশাবলি) ব্যবহার করা হয়। আমাদের ক্যামেরাগুলোর সঙ্গে অপরাধীর চেহারা যদি ৮০ শতাংশ মিলে যায় তাহলে তাকে অপরাধী হিসেবে শনাক্ত করে কন্ট্রোল রুমে অ্যালার্ম দেবে। আমরা এগুলো স্থাপনের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় হুয়াওয়ের এ ক্যামেরাগুলোতে কিছু ফলস পজেটিভ (ভুল ব্যক্তি শনাক্ত) এসেছে বলেও জানান তিনি।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, সব ধরনের শর্ত মেনে ‘ইজি অটোমেশন লিমিটেড’-কে কাজটি দেয়া হয়েছে। ক্যামেরার ব্র্যান্ড নির্ধারণের চয়েজটাও তাদের ছিল। তবে তারা আমাদের সব শর্ত মেনেই কাজ পেয়েছে এবং সম্পন্ন করেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অকল্যান্ডে সম্প্রতি ফেসিয়াল রিকগনিশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে একটি আইন পাস হয়েছে। আইনটিতে বলা হয়েছে, ‘নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য নয়, এমন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারে গোটা শহরের মানদণ্ডে প্রভাব পড়ছে।’ এ আইনকে সমর্থন জানিয়ে শহরের কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট রেবেকা কাপলান এক খোলা চিঠিতে বলেন, ‘অকল্যান্ডের বাসিন্দাদের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার মোটেও নিরাপদ নয়। এটি ভুল তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাধা এবং বিচারকাজে বিভ্রান্ত তৈরি করতে পারে।’

চলতি বছরের এপ্রিলে অ্যাপেল স্টোরি চুরির ঘটনায় ফেস রিকগনিশন ক্যামেরায় ধরা পড়া ওসমান বাহ নামের ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় পুলিশের হাতে ছিল ক্যামেরার ছবিটি। যার সঙ্গে ওই তরুণের চেহারার কোনো মিল ছিল না। পরে ওই তরুণ অ্যাপেলের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলাও করেন।

যুক্তরাজ্যের স্কাই নিউজ জানিয়েছে, হয়রানির কথা বিবেচনা করে এ ক্যামেরা খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যুক্তরাজ্য। ২০১৭ সালের কার্ডিফে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনাল খেলায় স্টেডিয়ামে আগত দর্শকদের মধ্যে ২ হাজার জনকে অপরাধী ও মামলার আসামি বলে শনাক্ত করেছিল এ ক্যামেরা। পরে তাদের একজনকেও অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।

ক্যামেরাটি ব্যবহারের বিষয়ে তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান জোহা জাগো নিউজকে বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তিকে আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বলি। বাংলাদেশের জন্য এটি অবশ্যই একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এখানে অনেক ডাটা সংরক্ষিত থাকে। এগুলো রক্ষা ও নজরদারি করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এ প্রযুক্তিতে লেন্স ও সেন্সরের মাধ্যমে মানুষের চেহারা শনাক্ত করা হয়। যদি কোনো যন্ত্রের লেন্স ও সেন্সর নিম্নমানের থাকে তাহলে এটা ভুল ডিটেক্ট করবে। বাইরের দেশে এমনটিই ঘটেছে।

‘তথ্যের অভাব ও সমন্বয়হীনতার কারণে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে হয়রানির ঘটনা বাড়তে পারে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু আসামি শনাক্তের ক্ষেত্রে এ ক্যামেরা ব্যবহার করলে চলবে না। আসামি-সংক্রান্ত প্রতিটি সেক্টরে ডাটাবেজ আপডেট থাকতে হবে। যেমন- একজন আসামি যদি আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হন, এর পরপরই যদি ক্যামেরা তাকে আসামি হিসেবে শনাক্ত করে তাহলে এ প্রযুক্তির সুফল আমরা পাব না। আসামি জামিন পাওয়া, জেলখানায় থাকা ইত্যাদি তথ্য আপডেট করলেই প্রযুক্তি কাজে আসবে।

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাউকে গ্রেফতার করলে যাচাই-বাছাই করা উচিত। এ প্রযুক্তি যদি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয় তাহলে আরও বেশি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’

সিলেটে ইনস্টল করা ক্যামেরা কতটুকু যথার্থ (অ্যাকুরেট) ও কার্যকর তথ্য দেবে- জানতে চাইলে গত বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) হুয়াওয়ের পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে যোগাযোগ করা হয়। সেখানকার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠাতে বলেন। প্রশ্ন পাঠানোর চারদিন পরও তিনি কোনো উত্তর দেননি। উল্টো পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার তানভীর আহমেদ নামে আরেক কর

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 211 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।