Voice of SYLHET | logo

২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ৬ই জুলাই, ২০২২ ইং

সাড়ে আটশ টাকার বিদ্যুৎ এক হাজারে

প্রকাশিত : September 09, 2019, 18:15

সাড়ে আটশ টাকার বিদ্যুৎ এক হাজারে

রাজধানীতে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে শুরু থেকেই গ্রাহকের রয়েছে নানা অভিযোগ। বিল বেশি আসা, কার্ড রিচার্জে সমস্যা এমন কি মিটারে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) লাগানো প্রিপেইড মিটারে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানান গ্রাহকরা। প্রিপেইড মিটারের কার্ডে এক হাজার টাকা রিচার্জ করলে শুরুতেই ১২৮ টাকা ৫৯ পয়সা কেটে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রিপ্রেইড গ্রাহক সায়রা ইকবাল অতিরিক্ত বিল সম্পর্কে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমার প্রিপেইড মিটারে বিল অনেক বেশি আসে। ৪ মে কার্ড রিচার্জ করি ২ হাজার টাকা, ২২ মে টাকা শেষ। আবার ২ হাজার টাকা রিচার্জ করি, সেটাও ১২ জুনে শেষ হয়ে যায়। ঈদের জন্য আমি ৩ জুন থেকে ১০ জুন বাসায় ছিলাম না। আমার বাসায় ২টা ফ্রিজ, একটা এসি ১.৫ টন, ৪টা ফ্যান ও ৭টা লাইট জ্বলে। আগের মিটারে আমি গরমে ২ হাজার আর শীতে ১ হাজারের মতো বিল দিয়েছি। এখন প্রিপ্রেইডে আমার ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লাগছে। প্রিপেইড এ তো আরো কম হওয়া উচিত।

ডেসকোর প্রিপেইড মিটার নিয়ে এমন অভিযোগ অনেক গ্রাহকের। উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের নাছিমা আক্তার নামের এক গ্রাহক জানান, গত বছর তার বাসায় প্রিপেইড মিটার লাগানোর পর থেকেই মিটারের ব্যালেন্স কম দেখানোর লাল সংকেত লাইটটি জ্বলে থাকে। তাদের ভবনে ১৫টির মতো প্রিপেইড মিটার রয়েছে। এর মধ্যে চার থেকে পাঁচটিতেই এ সমস্যা রয়েছে।

গ্রাহকের অভিযোগের মধ্যে গুরুতর হলো মিটারে আগুন লাগা। গত মে মাসে মিরপুরের মনিপুরের আদর্শ রোডের ৮৯৪ নম্বর বাসার প্রিপেইড মিটারে আগুন লাগে। ১৫ মে ডেসকো এ বাসার সাধারণ মিটার পাল্টে প্রিপেইড মিটার লাগিয়ে দিয়েছিল। ওই মাসের ২০ তারিখ সকালে হঠাৎ করেই মিটারে আগুন লাগে। পরে স্থানীয়রা তা নিভিয়ে ফেলেন। বিষয়টি ডেসকোকে জানানো হলে তারা এসে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, পাশের আরেকটি বাসার মিটারেও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে প্রিপেইড মিটার নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ডেসকো সূত্রে জানা যায়, ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় এক লাখ ২২ হাজার ২৩৬টি প্রিপেইড মিটার এরইমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। আরো এক লাখ মিটার স্থাপনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এসব মিটারের অধিকাংশই চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে। এগুলোতে কোনো প্রকার দুর্ঘটনা হবে না বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।

আবু হাসান তারেক নামের এক গ্রাহক বলেন, আগে প্রিপেইড মিটারে যে কোনো এমাউন্ট রিচার্জ করা যেতো। এখন পাঁচশ টাকার নিচে রিচার্জ করা যায় না। কিন্তু কেনো? এইটা একটা অসুবিধার বিষয় কারণ একজন ভাড়াটিয়া যে মাসে চলে যাবে সে মাসের শেষের দিকে তার অল্প টাকার বিদ্যুতের প্রয়োজন কিন্তু সে পাঁচশ টাকা রিচার্জ করে কী করবে? তার যদি ৫০ থেকে ১০০ টাকার বিদ্যুৎ লাগে তাহলে বাকি টাকা লস।

তিনি আরো বলেন, এতে ডেসকোর তো অসুবিধা ছিলো না যে কোনো এমাউন্ট রিচার্জ করতে। গ্রাহক যে পরিমাণ টাকা রিচার্জ করুক না কেন ডেসকোর টাকা পেলেইতো হতো। আবার কোনো গ্রাহকের কাছে পাঁচশ টাকা নাও থাকতে পারে, সে চাইলে দুইশ টাকা রিচার্জ করে নিবে এতে ডেসকোর সমস্যা কোথায়? আশা করি আগের মতো যে কোনো পরিমাণ টাকা রিচার্জ করার সুবিধা চালু করা হবে।

খিলক্ষেতের বাসিন্দা সাগর আমহেদ বলেন, শুরু থেকেই প্রিপেইড মিটারে বিল দেয়ার একটা ভোগান্তি ছিল। লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে বিল দিতে হয়েছে। এতো সময় দেয়া কর্মজীবী মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে আগের থেকে ভোগান্তি অনেকটা কমেছে। কিন্তু শেষ বলা যাবে না।

প্রিপেইড মিটারে বাড়তি টাকা নেয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, কার্ডে এক হাজার টাকা ঢোকালে শুরুতেই ১২৮ টাকা ৫৯ পয়সা কেটে নিচ্ছে। এটাকে অতিরিক্ত বলে মনে করেছি।

হাজী ক্যাম্পের বাসিন্দা সরকারি চাকরিজীবী সুলতানা পারভীন বলেন, যদি বৃহস্পতিবার কার্ডের টাকা শেষ হয়, তাহলে আর কার্ডে টাকা দিতে পারি না। কার্ড কিনতে হয় ব্যাংক থেকে। যে কোনো জায়গা থেকে যেন কার্ডে রিচার্জ করা যায় এমন ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহিদ সারোয়ার বলেন, শুধু ঢাকাতেই প্রায় দুই লাখ গ্রাহকের বাসায় প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। যদি সেটা সেবা না হয়ে দুর্ঘটনা হয় তাহলে এটা দুঃখজনক। তিনি আরো বলেন, অতীতে এমন দুর্ঘটনার কথা শুনতে পাইনি আমরা। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঠিকাদার কোম্পানিকে বলা হয়েছে। এ জন্য চীন থেকেও লোক এসেছে।

গ্রাহকের দাবি মিটারের মান নিম্নমানের হওয়ার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে, এমন প্রশ্নের জবাবে শাহিদ সারোয়ার বলেন, পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দরপত্রের মাধ্যমে মিটার লাগানোর কাজ করছেন। তাই মান নিম্ন হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা এমন অভিযোগকে মাথায় নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।

এদিকে উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মিসেস ইকবাল জানান, প্রিপেইড মিটারে আগের তুলনায় বিল বেশি আসছে। আগে যখন ৭ নম্বর সেক্টরে ছিলাম তখন বিল আসতো ১২শ থেকে ১৪শ টাকা। এখন আসছে ১৯শ থেকে ২১শ টাকা।

ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহিদ সারোয়ার বলেন, এখন আর গ্রাহকদের ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে বিল দিতে হচ্ছে না। রকেট বা বিকাশের মাধ্যমেই প্রিপেইড মিটারের কার্ড রিচার্জ করা যাচ্ছে। তবে নতুন নেয়া অনেক গ্রাহক বিষয়টি না জানায় সমস্যায় পড়তে পারেন বলে জানান তিনি। সেক্ষেত্রে ডেসকোর বিলে এবং ওয়েবসাইটে আলাদা করে একটি পেজ করা হয়েছে। আর ডেসকোর অভিযোগ কেন্দ্র তো আছেই।

তিনি আরো বলেন, কার্ডের টাকা শেষ হলেও বাকিতে (ক্রেডিট) দুই দিন ব্যবহার করা যায়। গ্রাহক সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিলি করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 392 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।