Voice of SYLHET | logo

১২ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

ধ্বংসের পথে ভোলাগঞ্জের বাংকার

প্রকাশিত : September 02, 2019, 10:16

ধ্বংসের পথে ভোলাগঞ্জের বাংকার

 

লবীব আহমদ, কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি :-কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারি ভোলাগঞ্জ থেকে উত্তোলিত পাথর পরিবহনে স্থল ও জলপথের বিকল্প হিসেবে রজ্জুপথ স্থাপন করে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এটি নির্মাণ শুরু হয় ১৯৬৪ সালে। ১৯৭০ সালের শেষদিকে চালু হয়। এর ১১৯টি খুঁটি রয়েছে, দৈর্ঘ্য ১৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার। রজ্জুপথের লোডিং স্টেশন (বাঙ্কার) ভোলাগঞ্জে ও খালাস স্টেশন ছাতকে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় রজ্জুপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় টানা আট বছর এটি বন্ধ থাকে। সংস্কার শেষে ১৯৭৮ সালে পুনরায় পাথর পরিবহন শুরু হয়। পাথর পরিবহনে ৪২৫টি বাক্স নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ৩০৫টি বাক্স পরিত্যক্ত। রেলওয়ের গুদামে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে ১২০টি বাক্স। এ ছাড়াও পাথর লোডিং এলাকায় এক্সক্যাভেটর, জেনারেটরসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মাল পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়।
২০১৫ সালে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে রজ্জুপথের ইসলামপুর ইউনিয়নের হাওর এলাকায় ৪১/৪২ নং খুঁটির মাঝখানে রজ্জুপথের কেবল ছিঁড়ে গেলে পাথর পরিবহন বন্ধ হয়ে পড়ে। সর্বশেষ একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ৪৩ নং খুঁটির ফাউন্ডেশনসহ খুঁটি উপড়ে হাওরের পানিতে পড়ে পাথর পরিবহন বন্ধ হয়ে পড়ে।
বর্তমানে এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতায় এখন ধ্বংসের পথে। প্রতিদিন সংরক্ষিত এলাকায় কতিপয় প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় বোমা মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। দিনের পর দিন পথটি বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। অরক্ষিতভাবে পড়ে থাকায় ইতিমধ্যে এর অনেক যন্রাংশও চুরি হয়েছে। কিন্তু, রজ্জুপথ বন্ধ থাকলেও এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল জোন থেকে প্রতি মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা বেতন ভাতা দিতে হচ্ছে।

আর এদিকে বাংকার এর নিরাপত্তায় থাকা আরএনবি এর সদস্যরাও পাথর ডাকাতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। এতদিন  রাতে চাঁদাবাজি হলেও এখন দিন-দুপুরেই শুরু হয়েছে বালু-পাথর ভর্তি নৌকায়। বালু ভর্তি নৌকা ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা আর পাথর / চিপ ভর্তি নৌকা ৪০০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।

এরকম অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যৎতে আর রেলওয়ে রজ্জুপথ( বাংকার) বলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবেনা। তাই যত দ্রুত সম্ভব এর প্রতিকারের জন্য একটা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 277 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।