Voice of SYLHET | logo

১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৪শে মে, ২০২২ ইং

জবাইয়ের পর সেই টাইগার বিক্রি হলো পাঁচ লাখ টাকা

প্রকাশিত : August 25, 2019, 20:50

জবাইয়ের পর সেই টাইগার বিক্রি হলো পাঁচ লাখ টাকা

 

নিউজ ডেস্ক: গরুর নাম আবার টাইগার হয় নাকি! নাম শুনেই অনেকের চোখ কপালে উঠে। এবারের ঈদুল আজহায় রাজধানীর হাটে বেশ নাম ফাটিয়েছে এই নামের ষাঁড় গরুটি। টাইগারকে একনজর দেখার জন্য ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। ৪২ মণ ওজনের এই ষাঁড়টির মালিক হাটে এর দাম চেয়েছিলেন ৩০ লাখ টাকা। আলোচিত সেই টাইগারকে অবশেষে জবাই করে গোশত বিক্রি করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে গোয়াল ঘরে পা পিছলে দুই পা ভেঙে যাওয়ায় এতে অসুস্থ হয়ে পড়ে ষাঁড়টি। এতে বিমর্ষ হয়ে পড়েন টাইগারের মালিক মিনারুল ইসলাম ও স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা। ধরে রাখতে পারেননি চোখের পানি।
পরে অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও কিছুটা লোকসান ঠেকাতে প্রিয় ষাঁড় গরুটি জবাই করতে বাধ্য হন মালিক মিনারুল ইসলাম। বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে টাইগারের গোশত বিক্রি করা হয়। এ খবর শুনে মিনারুলের বাড়িতে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। প্রিয় গরুটির জন্য স্বজন, গরু লালন পালনকারী শ্রমিক, উপস্থিত মানুষদের অনেকের চোখই ছিল অশ্রুসজল।

শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে সরেজমিনে পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছোট গুয়াখড়া গ্রামের মিনারুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টাইগারকে জবাইয়ের পর চামড়া ছাড়ানোর কাজ করছেন কসাইরা। সেখানে ভিড় জমেছে হাজারো উৎসুক মানুষের। তারা যেন শেষবারের মতো টাইগারকে দেখছেন। উপস্থিত সবারই মন ছিল বিষণ্ণ। খামারি মিনারুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানার চোখ ছিল অশ্রুসজল।

সর্বশেষ টাইগারের মোট ২৪ মণ গোশত বিক্রি হয়েছে। ৫শ’ টাকা কেজি হিসেবে গোস্ত কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর ক্রেতার সমাগম ঘটে সেখানে। গরুর মালিক এই গোশত বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে জানা যায়।

ষাঁড় গরুটির মালিক মিনারুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেল চারটার দিকে গোয়াল ঘরে পা পিছলে পড়ে যায় টাইগার। এতে পিছন ও সামনের ডান পা দুটি ভেঙে যায়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়ে টাইগার। পরে স্বজন ও প্রতিবেশী সবার পরামর্শে জবাই করে গোশত বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মিনারুল ও তার স্ত্রী জাকিয়া বলেন, টাইগারকে সন্তানের মতো লালন পালন করতাম। তাকে এভাবে হারাতে হবে বুঝতে পারিনি। খুব কষ্ট হচ্ছে। সব স্বপ্ন ভেঙে গেল।

৯ ফুট দৈর্ঘ্য আর সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতার ফিজিয়ান জাতের ষাঁড় গরুটির ওজন হয়েছিল ৪২ মণ। কালো আর সাদা রঙ মিশ্রিত সুঠাম দেহের অধিকারী ষাঁড় গরুটির নাম দেয়া হয়েছিল ‘টাইগার’। কোরবানির আগে টাইগারের দাম ৩০ লাখ টাকা হেঁকে আলোচনায় আসেন খামারি মিনারুল ইসলাম।

এ বছর ঢাকার মোহাম্মদপুরে ঈদুল আযহার হাটে টাইগারের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ১৮ লাখ টাকা। কাঙ্খিত দাম না পেয়ে বিক্রি না করে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন খামারি মিনারুল। ইচ্ছা ছিল আরো এক বছর লালন পালনের পর আগামী ঈদুল আজহায় টাইগারকে বিক্রি করা। কিন্তু তার সে ইচ্ছা আর পূরণ হলো না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 578 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।