Voice of SYLHET | logo

৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৩শে মে, ২০২২ ইং

আমাজন ও সুন্দরবন ধ্বংসের নৈপথ্য

প্রকাশিত : August 25, 2019, 11:04

আমাজন ও সুন্দরবন ধ্বংসের নৈপথ্য

নিউজ ডেস্ক:
আমাজন দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদী বিধৌত অঞ্চলে অবস্থিত বিশাল বনভূমি। ৭০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার অববাহিকা পরিবেষ্টিত এই অরন্যের প্রায় ৫৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকাটি মূলত আর্দ্র জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত। ৯ টি দেশ জুড়ে এই অরণ্য বিস্তৃত। আমাজন অরণ্য ৬০% রয়েছে ব্রাজিলে, ১৩% রয়েছে পেরুতে এবং বাকি অংশ রয়েছে কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম এবং ফরাসি গায়ানা। পৃথিবী জুড়ে যে রেইনফরেস্ট তার অর্ধেক টাই এই অরণ্য নিজেই। নানা রকম প্রজাতির বাসস্থান হিসেবে সমৃদ্ধ এই আমাজন।এই বনে প্রায় ৩৯০ বিলিয়ন বৃক্ষ রয়েছে যেগুলো প্রায় ১৬০০০ প্রজাতিতে বিভক্ত।

পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত আমাজন আজ আগুনে পুড়ে ছাইভস্ম হয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের রক্ষাবাচক ও জীববৈচিত্র্যের অপরূপ লীলা ভূমি নিয়ে আজ পুরো বিশ্ব খুবই চিন্তিত,বিচলিত।সারা পৃথিবীর মোট অক্সিজেনের ২০ শতাংশ উৎস পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বন এই আমাজন। স্বার্থ অণ্বেষী মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিকেই রাখার স্বার্থেই আজ আমাজন নিয়ে এতটা উদ্বিগ্ন।আবার এই আমাজন ধ্বংসের কারিগরও মানুষ। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এই আগুনের উৎসস্থলও মানুষ। জায়ার বোলসোনারো। ব্রাজিলের উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট। ‘দক্ষিণ আমেরিকার ট্রাম্প’ নামে পরিচিত। ট্রাম্পের মতোই তিনি বলেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন, কার্বন নিঃসরণ—এগুলো সব ‘মিডিয়ার সৃষ্টি’।

তাঁর প্রধান লক্ষ্য ই নাকি আমাজনের খনিজ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ব্যবস্থাকে তরাণ্বিত করা। আমাজনের বনাঞ্চল ধ্বংস করে খনিজ সম্পদ উত্তোলন করা, সয়াবিন চাষের জন্য কৃষি জমির সম্প্রসারণ করা,গোচরণ বানানো । ইতিমধ্যে আমাজনের ৪ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার ইতিমধ্যেই গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে আমাজনে ৭৫ হাজারেরও বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর আগস্ট পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার। আরও ভয়ংকর তথ্য হলো, ২০১৩ সালে পুরো ব্রাজিলে যত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, চার মাস বাকি থাকতেই এ বছর তার চেয়ে বেশি আগুন লেগেছে। শুষ্ক মৌসুমে, বিশেষ করে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমাজনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা একেবারে বিরল নয়। কিন্তু এবারের মতো এত ভয়াবহ আগুনে কখনো পোড়েনি বিশ্বের বৃহত্তম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এই বনাঞ্চল।
পরিবেশবাদীদের ধারণা এসব অগ্নিকান্ডের ঘটনার বেশির ভাগই মানবসৃষ্ট যার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রেসিডেন্টের মদত রয়েছে।

আমাজন ও সুন্দরবন একই সূত্রে গাঁথা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। সিডর-আইলার ভয়াবহতা আমাদের চিন্তার সীমাকেও ছাড়িয়ে যেত, যদি এই সুন্দরবন নিজেকে উজাড় না করে দিয়ে আমাদেরকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হত। ৫ লক্ষ মানুষের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই সুন্দরবনের অর্থনৈতিক গুরুত্বও অপরিসীম। কিন্তু উন্নয়নের দোহায় দিয়ে, কাঠখেকোদের অপতৎপরতায় আজ আজ এই সুন্দরবনও উজাড় করা হচ্ছে।

সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে অনুমোদিত ১৯০টি ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর৷ এর মধ্যে ২৪টি প্রকল্প মারাত্মক দূষণকারী ‘লাল’ শ্রেণিভুক্ত৷ লাল শ্রেণিভুক্তির অর্থ এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে সুন্দরবনের মাটি, পানি ও বাতাসের মারাত্মক দূষণ ও ক্ষতি হবার আশঙ্কা রয়েছে৷বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ অর্থায়নে সরকার কয়লা ভিত্তিক রামপুরা বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করছে সুন্দরবন থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু সুন্দরবনের মূল এলাকার আশেপাশে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত এর বাফার জোন৷ সেখানে কোনো প্রকল্প অনুমোদিত না হবারই কথা৷ কিন্তু তা তো করা হয়েছেই, বরং অনুমোদিত কয়েকটি প্রকল্প পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ৷
এছাড়াও সুন্দরবনের কাঠখেকোরা গাছপালা কেটে সুন্দরবনকে টাকলা মাথা বানিয়ে ফেলেছ। বনভূমি উজার করে শুটকি পল্লী গড়ে তোলা হচ্ছে।

সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তের পর ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্ট পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় হতে সরকার কর্তৃক সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের চারদিকে দশ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে ঘোষণা করে৷ পরিবেশ দূষণ যাতে ভয়াবহ রূপ নিতে না পারে এবং এই অঞ্চলের জীব বৈচিত্র্যে যাতে কোনো প্রকার নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সে লক্ষ্যে এই ঘোষণা দেয় সরকার৷কিন্তু সুন্দরবনের আশে-পাশে যেভাবে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে তা নিশ্চিত পক্ষেই সুন্দরবনের জন্য বিপদ জনক।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জীববৈচিত্র রক্ষায় বিশ্বনেতৃত্বকে নতুন করে ভাবতে হবে। পৃথিবীকে বসবাস যোগ্য রাখতে আমাজন -সুন্দরবনের মতো বনগুলো রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে বনভূমি ছাড়া, কোন উন্নয়নই দেশের জন্য মঙ্গলকর হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 512 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।