Voice of SYLHET | logo

২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ৬ই জুলাই, ২০২২ ইং

জাফলং সীমান্ত : অবাধে আসছে ভারতীয় পণ্য

প্রকাশিত : August 22, 2019, 01:00

জাফলং সীমান্ত : অবাধে আসছে ভারতীয় পণ্য

ভয়েস অব সিলেটঃ

সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটে সীমান্তপথে অবৈধভাবে প্রতিদিন বাংলাদেশে ঢুকছে ভারতীয় পণ্য। অবৈধ পথে শুল্ক না দিয়ে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার মালামাল আসছে। আগে এসব রাতের আঁধারে চললেও এখন তা দিনের বেলা প্রকাশ্যেই চলছে। অভিযোগ রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায়ই এমনটি ঘটছে। কথিত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও থেমে নেই সীমান্তের চোরাচালান।
সিলেটের জাফলং সীমান্ত এলাকার স্থানীয় লোকজন বলছেন, ভারত থেকে গরুর পাশাপাশি শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকস এবং মসলাসহ বিভিন্ন পণ্য আসছে। চোরাই পথে আসা পণ্যের দখলে চলে গেছে বাংলাদেশের বাজার। অভিযোগ আছে, উপজেলার জাফলং, বিছনাকান্দি, সোনারহাট সীমান্তে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে চোরাচালান সিন্ডিকেট অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য আনছে। দিনে দিনে এ চোরাকারবারি সিন্ডিকেট ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, চোরাকারবারি চক্র বিজিবির কিছু অসাধু সদস্যকে ম্যানেজ করে এসব সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পথে ভারতীয় পণ্য নিয়ে আসছে। বিশেষ করে জাফলং, বিছনাকান্দি, সোনারহাট সীমান্ত ব্যবহার করে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য অবাধে দেশে প্রবেশ করছে। চোরাই পথে আসা ভারতীয় পণ্যের মধ্যে রয়েছে শাড়ি, থ্রি-পিস, শার্ট ও প্যান্টের থান কাপড়, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, বিয়ার, মোটর সাইকেল, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, গরু মোটা-তাজাকরণের স্টেরয়েড ট্যাবলেট, হলুদ, জিরা, এলাচি, দারুচিনি, গোলমরিচসহ যাবতীয় মসলাসহ বিভিন্ন প্রসাধনসামগ্রি। এসব চোরাই মালামালের কিছু কিছু মাঝে মধ্যে বিজিবি আটক করলেও পরবর্তীতে কাস্টমসে জমা দেয়ার আগে বেশিরভাগই পেছনের দরজা দিয়ে চলে যায় চোরাই সিন্ডিকেটের হাতে, এমন অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে এ বছর কয়েক কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়েছে। এর ৮০ ভাগই ভারত থেকে এসেছে। কিন্তু এসব পণ্য বৈধপথে আসেনি। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে এসব দেশে ঢুকেছে। এরফলে কোটি কোটি টাকা চলে যাচ্ছে ভারতে। ভারতীয় পণ্যের অবৈধ আমদানির কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় শিল্পোৎপাদন। অবৈধ পথে আমদানিকারকদের শুল্ক পরিশোধ করতে হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারত এবং বাংলাদেশের শক্তিশালী সিন্ডিকেট এ কাজে জড়িত। রাজনৈতিক প্রভাব আর প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকায় ভারতীয় পণ্য এ দেশে বাজারজাতকরণে তাদের খুব একটা বেগ পেতে হয় না।
ব্যবসায়ীরা জানান, চোরাই পণ্য বিক্রিতে লাভ বেশি। শুল্ক না থাকায় এসব পণ্যের বাজারমূল্য অনেক কম থাকে। এ কারণে দেশীয় উৎপাদনমুখী শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারতীয় পণ্যের কাছে মূল্য ও মানে অনেক দেশীয় পণ্য মার খাচ্ছে। এ ছাড়া বৈধপথে আমদানিকারকরাও এতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। বেশি লাভজনক হওয়ায় বৈধ আমদানির চেয়ে অবৈধ আমদানির দিকেই ঝুঁকছেন ব্যাবসায়ীরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, সারা বছরজুড়েই চোরাই পথে দেশে ডুকে প্রায় শতাধিক ভারতীয় পণ্য। এর মধ্যে পোশাক, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক্স, বিভিন্ন মশলা জাতীয় পণ্য, শিশুখাদ্য, শুঁটকি, চিনি, মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ইত্যাদিও রয়েছে।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় মাঝে মাঝে কিছু চোরাচালানের মালামাল জব্দ করা হয়, তবে তা দেশে প্রবেশ করা পণ্যের তুলনায় একেবারে নগণ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাফলং এলাকার এক চোরাকারবারী জানান, শুল্ক দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করলে দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পড়ায় ব্যবসায়ীরা চোরাকারবারের দিকেই ঝুঁকছে। আর এসব কাজে তাদেরকে মৌন সহযোগিতা করছে কতিপয় বিজিবি সদস্য। তিনি প্রশ্ন করেন, যদি বিজিবি সদস্যরা সহযোগিতা নাইবা করতো তাহলে প্রকাশ্যে এসব পণ্য আসছে কেমনে?
জাফলং সংগ্রামপুঞ্জি বিজিবি ক্যাম্পের পরিচালক বাবুল বলেন আমি এখানে নতুন এসেছি, চোরাকারবারিদের সাথে বিজিবি সদস্যদের যোগসাজশের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, তবে প্রশ্ন যেখান উঠেছে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে বিজিবি’র কোনো সদস্য এই চোরাকারবারীদের সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্রঃ একাত্তরের কথা

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 418 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।