Voice of SYLHET | logo

১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ ইং

ফের ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকিতে দেশ

প্রকাশিত : August 16, 2019, 12:22

ফের ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকিতে দেশ

নিউজ ডেস্ক: ঈদের আমেজ শেষ হয়েছে। রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা প্রায় এক কোটি মানুষ ব্যস্ত নগরীতে ইতোমধ্যে ফিরতে শুরু করেছে। যাদের একটি অংশ ডেঙ্গু আক্রান্ত। কিংবা জ্বরজ্বর অনুভব করলেই নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা করাতে আসবে। তখন নতুন রোগী বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবার টানা বৃষ্টির কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে চিকিৎসকরা বলছেন, ঈদের ছুটি শেষে মানুষ রাজধানীতে ফিরলে আরেক দফা চাপ বাড়বে হাসপাতালগুলোতে।গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজারের মতো রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অতিরিক্ত পরিচালক ডা. নাজমুল করিম মানিক বলেছেন, প্রায় এক কোটি লোক ঈদ উপলক্ষে বাইরে চলে গেছে।

এই লোকগুলো ফিরে এলে অন্তত আক্রান্ত না হোক, কিন্তু পরীক্ষা করার জন্য বা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তারা অবশ্যই আবার হাসপাতালে আসবেন। আবার আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হবে। তাই বলা যায়, আরও এক মাস ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

ঈদের পর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেছেন, ঈদের পর একটা বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে, যার কারণে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি।

এখনো এমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আমরা নিইনি, যে কারণে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমে যাবে।ঈদ শেষে বাড়ি থেকে ফিরে যারা কয়েক দিনের বন্ধ ঘরে আসবেন, প্রথমেই তাদের ঘরকে মশামুক্ত করার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

এ বিষয়ে ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, বাড়িতে আসার পর, কোনো পাত্রে পানি যদি একটু জমে থাকে, এগুলো প্রথমে এসেই ফেলে দেয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করব। আপনারা মশারি ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে বাসায় নেট ব্যবহার করুন।

মৃতের মিছিল প্রতিদিন লম্বা হচ্ছে
ভয়াবহ আকার ধারণ করা মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থেমে নেই। ঈদের ছুটির মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বাপেক্স) কর্মকর্তা, সিআইডির সদস্য, বৃদ্ধ ও শিশু রয়েছে।

সরকারিভাবে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৪০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ও বিভিন্ন জেলার চিকিৎসকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে সারা দেশে অন্তত ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) মৌসুমি আক্তার (২৫) নামে এক গার্মেন্ট কর্মীর মৃত্যু হয়।মৌসুমির গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায়। স্বামীর সঙ্গে আগারগাঁওয়ের তালতলার মোল্লাপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

এর আগে গত বুধবার রাতে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে আবু বকর সিদ্দিক সিয়াম (১৪) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে চাঁদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পথে মারা যায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আওলাদ হোসেন (৩২) নামে একজনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদরে। বাবার নাম তোফাজ্জল হোসেন।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আওলাদকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আওলাদ হোসেনের মামা আক্তার হোসেন বলেন, তিন থেকে চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন আওলাদ। গতকাল শরীর খুব খারাপ হওয়ায় এখানে আনা হয়। ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) নাছির উদ্দিন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

মাদারীপুরের শিবচরে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাজি আবদুল মজিদ (৭৫) নামে আরও এক রোগী মারা গেছেন। এ নিয়ে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত জেলায় ছয়জনের মৃত্যু হলো। গতকাল ভোর রাতে শিবচরের নিজ বাড়িতে আবদুল মজিদের মৃত্যু হয়। তিনি গত এক সপ্তাহ ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

মাদারীপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এখন পর্যন্ত ছয়জন ডেঙ্গুরোগী মারা গেছেন। যার মধ্যে কালকিনি ও শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন মারা গেছেন। বাকি চারজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, বরিশাল মেডিকেল কলেজ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

দেশে বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৯২৯ জন।

এদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি আছে ৮১১ জন। এদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩১ জন। মিটফোর্ড হাসপাতালে ৬৭ জন। সরকারি শিশু হাসপাতালে ২৫ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৬ জন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১ জন। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৯ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৬৫ জন এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ২৩ জন।

এছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ২৮৬ জন ভর্তি আছেন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকে ভর্তি আছেন এক হাজার ১১৮ জন।

ঢাকা শহর ব্যতীত ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ২৯৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০৯, খুলনা বিভাগে ১৫১, রংপুর বিভাগের ৮১, রাজশাহী বিভাগের ১৩০, বরিশাল বিভাগে ১৭১, সিলেট বিভাগে ২৫ ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৫৬ জন ভর্তি হন।

চলতি বছরের পয়লা জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮ হাজার ২৮০ জন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে এখনো হাসপাতালে রয়েছেন ৭ হাজার ৫৭০ জন।

চিকিৎসাসেবা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪০ হাজার ৬৭০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে শুধু ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ৬৩৬ জন। হাসপাতালে আছেন ৩ হাজার ৯১০ জন। আর বাড়ি ফিরেছেন ২৬ হাজার ৬৮৭ জন। শুধু বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৪ হাজার ১১২ জন।

এদের মধ্যে এখনো হাসপাতালে আছেন এক হাজার ৪৩০ জন। আর বাড়ি ফির

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 990 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।