Voice of SYLHET | logo

৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২২শে মে, ২০২২ ইং

দাবি আদায়ে অনড় শাবি শিক্ষার্থীরা: অসুস্থ ১৪, হাসপাতালে ভর্তি ৪ অনশনকারী

প্রকাশিত : January 20, 2022, 22:28

দাবি আদায়ে অনড় শাবি শিক্ষার্থীরা: অসুস্থ ১৪, হাসপাতালে ভর্তি ৪ অনশনকারী

শাবি প্রতিনিধিঃ টানা ৭ দিন ধরে চলছে আন্দোলন। প্রথমে তাদের দাবি ছিলো একটি হলের প্রাধ্যক্ষর পদত্যাগ, হলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর করে সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত এবং ছাত্রীবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রাধ্যক্ষ কমিটি নিয়োগের। সর্বশেষ  সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে এখন চালাচ্ছেন আন্দোলন। আন্দোলনের শেষ সূচি আমরণ অনশন। অনশনে  বসেছেন ২৪ শিক্ষার্থী। এরইমধ্যে ১৪ অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়ায় ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ১০ জনের শরীরে অনশনস্থলেই স্যালাইন পুশ করা হয়েছে। তবে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অপসারণে কোনো ধরনের তদন্ত কমিটি না চাওয়াতে বিষয়টি সচেতনমহলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (20 জানুয়ারী) সরেজমিন দেখা যায়- অনশনরতদের মধ্য থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া ১০ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের মাঠেই স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে এবং ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনশনস্থলে যারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারা শারীরিক দুর্বলতায় ওঠে বসতে পারছেন না। এ সময় তদন্ত কমিটি না চাওয়ার বিষয়ে  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় একমাত্র উপাচার্যই দায়ী। এজন্য উপাচার্যকে অপসারণে তদন্ত কমিটির প্রয়োজন মনে করছে না শিক্ষার্থীরা।
উপাচার্যকে অপসারণের আগে তার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রপতি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করুক, সেটা শিক্ষার্থীরা চান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট যে উপাচার্যের মদদেই পুলিশ আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা তাই উপাচার্যের অপসারণ চাই। অপসারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা রাষ্ট্রপতি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করুক তা আমরা চাই না।

এদিকে বিকেল ৫টায়  সিলেট এম এ জি উসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মেডিকেল টিম এসে উপস্থিত হয়। এ সময় তারা প্রয়োজনীয় স্যালাইন এবং ওষুধ দিয়ে সহায়তা করছেন। অনশনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে মেডিকেল টিমের সদস্য মো. নাজমুল হাসান বলেন, এখানে অনশনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। দুইজন শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর। এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছি। গত চব্বিশ ঘণ্টার ওপর কেউ কিছুই খায়নি। সবাই পানি স্বল্পতায় ভুগছে। তিনি আরও বলেন, যাদের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে তাদের জন্য স্যালাইনসহ ওষুধের ব্যবস্থা করছি। আর যদি কোনো জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হয় তাহলে তাদের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজে বেডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে  শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কাজল দাস নামের এক শিক্ষার্থীকে নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে  পাঠানো হয়। তিনি পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত। বুধবার বিকেল ৩টা থেকে অনশন করে আসছিলেন তিনি। প্রায় ২১ ঘন্টা না খাওয়া ও তীব্র শীতের কারণে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে তার। এর আগে বুধবার রাতে বাংলা বিভাগের মোজাম্মেল হক ও সমাজকর্ম বিভাগের দীপান্বিতা বৃষ্টি নামের দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদেরকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া মরিয়ম নামের এক ছাত্রী বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিশাত নামের আরেক শিক্ষার্থীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা  হয়। এই অসুস্থ ৫ জনের মধ্য থেকে বর্তমানে ৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর একজন বাবার অসুস্থতাজনিত কারণে  বাসায় ফিরেছেন।

অনশনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাব। কোনো প্রতিবন্ধকতাই আমাদের টলাতে পারবে না। শুধু ওয়াশ রুমের প্রয়োজন ছাড়া আমরা এই জায়গা থেকে উঠছি না। কোনো ধরনের খাবারও গ্রহণ করছি না।’উল্লেখ্য, শাবির বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্টের অসদাচরণের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই হলের ছাত্রীদের মাধ্যমে সূচিত হয় আন্দোলন। গত শনিবার আন্দোলনরতদের ওপর ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে নতুন মাত্রা পায় আন্দোলন। হলের প্রভোস্টের অপসারণ, অব্যবস্থপনা দূর, ছাত্রলীগের হামলার বিচার চেয়ে পরদিন রবিবার সকল শিক্ষার্থী আন্দোলনে সামিল হন। সেদিন উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাকে মুক্ত করতে অ্যাকশনে যায় পুলিশ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাঁধে সংঘর্ষ। এতে শিক্ষার্থীসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। পরে উত্তুঙ্গে ওঠে আন্দোলন। গত রবিবার পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনায় দুই থেকে তিনশ’ অজ্ঞাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলার এজাহারে পুলিশ লিখেছে, সেদিন শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর গুলিও ছুঁড়েছিল। এ মামলা প্রত্যাহারে আলটিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিনভর উত্তপ্ত ছিল শাবি ক্যাম্পাস। সকাল থেকে ক্যাম্পাসের গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের অপসারণ, প্রক্টর ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগানে দিনভর মুখর ছিল ক্যাম্পাস। এ সময় কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 327 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।