Voice of SYLHET | logo

১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৫শে মে, ২০২২ ইং

অনির্দিষ্টকালের জন্য শাবি বন্ধ: শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ

প্রকাশিত : January 16, 2022, 23:08

অনির্দিষ্টকালের জন্য শাবি বন্ধ: শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ

নিউজ ডেস্কঃ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের পর জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রোববার রাতে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ  ঘোষণা জানান। তিনি আরও জানান, যার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিলেন সেই প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করেছেন। তার পরিবর্তে বেগম সিরাজুন্নেসা হলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরীকে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদেরকে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করছিল পুলিশ। আর বাইরে শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি গেট খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছিল। শিক্ষার্থীদের গগনবিদারী শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল পুরো সিলেট। তিন দফা দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষক সমিতির নেতারা ও প্রক্টরিয়াল বডি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে আসেন। এ সময় কোষাধ্যক্ষ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বলেন, ভেতরে অবরুদ্ধ থাকায় উপাচার্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে বাসায় নিয়ে যেতে হবে। তখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। এ সময় শিক্ষকদের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে প্রবেশ করে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে মুক্ত করতে যান। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা পুলিশকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন। এর জেরে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করেন। তখন শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে কিছু সময়ের জন্য পুলিশ পিছু হটলেও একটু পরই সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর পুলিশ আইসিটি ভবনে প্রবেশ করে উপাচার্যকে উদ্ধার করে তাঁর বাসভবনে নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে থাকা সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেছেন, পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়নি। ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বোঝাতে গিয়েছিলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাঁদের ওপর চড়াও হয়েছেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের পেছনে অবস্থান নিয়েছিল। শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন। তাঁরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলাও চালান। এতে তিনিসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। তাই পুলিশ জানমাল রক্ষার্থে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে। বর্তমানে পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

জানা যায়- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বিক্ষোভ করে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের আবাসিক ছাত্রীরা। দফায় দফায় তাদের এই আন্দোলন চলে আসছিল। এতে একপর্যায়ে উপাচার্য  তাদের সঙ্গে আলাপ করে দাবী মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আল্টিমেটাম দিয়ে ঘরে ফিরে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবী না মানায় রোববার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তাকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের বিশেষ বাহিনী ‘ক্রাইসিস রেসপন্স টিম’ (সিআরটি)। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনের তালা ভেঙে পুলিশি নিরাপত্তায় ভিসিকে বের করে আনা হয়। এ সময় বাধা দিলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফোঁসে ওঠেন ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে আরো জানা যায়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তিন দফা যথাক্রমে- প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার পদত্যাগ, হলের ভেতরের অব্যবস্থাপনা দূর করা ও অবিলম্বে ছাত্রীবান্ধব হল প্রভোস্ট নিয়োগের দাবিতে আবারও কর্মসূচি পালন নামে। শান্তিপুর্ণ ভাবেই চলছিল  শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন। এত আরও শিক্ষার্থী একাত্মতা পোষণ করে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। কিন্তু শনিবার (১৫ জানুয়ারি) দিনে ফের আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তাই, রাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তিন দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলনে নামে। এ সময় তারা ক্যাম্পাসের গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নেন। আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে কিছু সংখ্যক ছাত্রও এসে কর্মসূচিতে যোগ দেন। এই অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্স শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভস্থলে আটকা পড়ে। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা এসে আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। ছাত্রলীগ নেতা আশরাফ কামাল আরিফসহ কয়েকজন জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিতে গেলে তারা (আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা) বাধা দেয়। তখন এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়।
দৈনিক জৈন্তা বার্তার শাবিপ্রবি প্রিতিনিধি নাজমুল ইসলাম জানান- রোববার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনের সামনে প্রথমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। এর আগে বিকেলে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি মেনে না নেওয়ায় উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যকে পুলিশ উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন? প্রশাসন জবাব চাই’ স্লোগানে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। পরে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে আইআইসিটি ভবন থেকে উপাচার্যকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এতে ক্যাম্পাসে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা  ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 796 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।