Voice of SYLHET | logo

১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে ছাত্রলীগ নেতাদের চাঁদা দাবি: দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত : January 14, 2022, 23:49

শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে ছাত্রলীগ নেতাদের চাঁদা দাবি: দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের সাবেক দুই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে দাপট খাটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পদোন্নতি পেয়ে বদলি হওয়া তিন শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি,শিক্ষকদের লাঞ্চিত ও প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করেছেন তারা।বহিরাগত হয়ে প্রতিষ্ঠানটির একটি হোস্টেল দখল করে আধিপত্য বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাছাড়া ইনস্টিটিউটের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডারবাজির পাশাপাশি চাঁদাও দাবি করেন তারা- এমন অভিযোগে ওই দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে উক্ত মামলাটি করেছেন।অভিযুক্তরা হচ্ছেন- সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈকত চন্দ রিমি (৩৫) এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. তাওহীদ ইসলাম (২৭)। তারা দুজনই সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র ছিলেন। এর মধ্যে সৈকত চন্দ নেত্রকোনা জেলার নেত্রকোনা সদর থানার কাটলি গ্রামের ডা. নির্মল চন্দ্র চন্দের ছেলে ও তাওহীদ পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার আমিরাবাদ গ্রামের মোসলেম উদ্দিন শিকদারের ছেলে। এছাড়া মামলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ছাত্রসহ বহিরাগত অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, সৈকত চন্দ ও তাওহীদ প্রাক্তন শিক্ষার্থী হয়েও সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অজ্ঞাতনামা ছাত্র ও বহিরাগতদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সুরমা আবাসিক হোস্টেল দখল করে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ইনস্টিটিউটের প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করছিলেন। গত মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটের তিন শিক্ষক অমল কৃষ্ণ চক্রবর্তী, মো. মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী ও মো. গোলাম কিবরিয়াকে পদোন্নতি প্রদান করে বিভিন্ন স্থানে পদায়ন করা হয়। শিক্ষকদের পদোন্নতি ও বদলির আদেশ বাতিলের দাবি নিয়ে গত বুধবার বেলা পৌনে একটার দিকে সৈকত চন্দ ও তাওহীদ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও বহিরাগত অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে নিয়ে দুই দলে বিভক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এবং বিভাগীয় প্রধানের কক্ষে যান। অধ্যক্ষ বিষয়টিতে তার কিছু করার নেই, বোর্ডের অধীন পদোন্নতি ও পদায়ন করা হয়েছে জানালে প্রতিষ্ঠানের অজ্ঞাতনামা ছাত্ররা ইনস্টিটিউটের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিভাগীয় প্রধানের কক্ষে পদোন্নতি ও পদায়নপ্রাপ্ত শিক্ষক অমল কৃষ্ণ চক্রবর্তীকে আটকে রেখে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ফয়সল মুফতির কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। খবর পেয়ে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলমসহ অন্য শিক্ষকেরা অমল কৃষ্ণ চক্রবর্তীকে উদ্ধার করতে গেলে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন দুই শিক্ষার্থী ও তাঁদের সহযোগীরা গালিগালাজ করেন। এতে শিক্ষকেরা প্রতিবাদ করলে তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়। পরে চাঁদা দেওয়ার দাবিতে প্রতিষ্ঠানের ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন তাঁরা।
একপর্যায়ে দুপুর সোয়া ১২টা থেকে বেলা সোয়া ২টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যালয় ও ক্যাম্পাসে প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে বিষয়টি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে জানতে অধ্যক্ষ রিহান উদ্দিনের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে ফোন দেওয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। মামলার বাদী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও প্রিন্সিপালের প্রটোকল অফিসার মো. মাহবুবুল আলমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি জানান আমরা এখন এমপি মহোদয়ের বাসায় আছি। এ বিষয় সমাধানের জন্য আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মামলার আসামী সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈকত চন্দ রিমির কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ভয়েস অব সিলেটকে বলেন– আমি অমল কৃষ্ণ চক্রবর্তী স্যারকে অবরুদ্ধ করে বিভাগীয় প্রধানের কাছে চাঁদা দাবির যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কোন একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার গণমাধ্যমে বলেন, গত রাতে ইনস্টিটিউটের আবাসিক হলে তল্লাশি চালানো হয়। সে সময় মামলায় উল্লেখিত আসামিসহ বহিরাগত কাউকে পাওয়া যায়নি। মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 846 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।