Voice of SYLHET | logo

১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ ইং

শ্রীমঙ্গলে সরকারি গুদামে ধান সংগ্রহে অনিয়ম, তদন্তে দুদক টিম

প্রকাশিত : August 09, 2019, 09:40

শ্রীমঙ্গলে সরকারি গুদামে ধান সংগ্রহে অনিয়ম, তদন্তে দুদক টিম

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বোরো মৌসুমে সরকারি ধান সংগ্রহকালে স্থানীয় কৃষকদের হয়রানী ও ঘুষ নিয়ে গুদামে ধান বিক্রির অভিযোগের তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কৃষকদের অভিযোগ, খাদ্যগুদামের খন্ডকালীন ঝাড়–দার শামীমের মাধ্যমে খাদ্যগুদামের লোকজন সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করছেন টাকা আদায় করেন। দুদক মহাপরিচালকের নির্দেশে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত নামে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক সমন্বিত কার্যালয় হবিগঞ্জ। 

জেলা কার্যালয় দুর্নীতি দমন কমিশন হবিগঞ্জের সহকারি পরিচালক মো.এরশাদ মিয়া’র নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল প্রথমে সরকারি খাদ্য গুদাম, উপজেলা কৃষি অফিসের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এ বিষয়ে তাদের লিখিত বক্তব্য নেয়। পরে তদন্ত দল সরেজমিন শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের রুপসপুর, পশ্চিম ভাড়াউড়া, দক্ষিণ ভাড়াউড়া ও পশ্চিম শ্রীমঙ্গলের সরকারি গুদামে ধান বিক্রয়কারী  ২৫/৩০ জন সাধারণ কৃষককের কাছে তাদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চান এবং প্রত্যেক কৃষকের দেয়া বক্তব্য  আলাদাভাবে লিপিবদ্ধ করেন দুদক কর্মকর্তা।

পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামের কৃষক সাহেব আলী, বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের সম্পুরক কৃষক তালিকায় তার নাম রয়েছে ৫১৫ নম্বর ক্রমিকে। তিনি দুদক তদন্তদলকে বলেন, ‘আমি আর আমার ভাগনে মিলে গত ২৮ জুলাই দুই নামে ৩০ মণ ধান নিয়ে গুদামে গেছি। প্রথমে ধানগুলোকে আনফিট বলে। পরে টাকা পয়সা নিয়ে বলে ফিট।’ তিনি জানান, প্রথমে দিই ৪০০ টাকা। চাল বেয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠার সময় দিতে হয় আরো ৪০০ টাকা। চেকে দস্তখত দেওয়ার সময় বেটেখাটো চশমা চোখের আরেক ‘স্যার’কে দিতে আরো ২০০ টাকা। ৩০ মণ ধানে মোট ১ হাজার টাকা দিতে হয় সাহেব আলীকে।

দক্ষিণ উত্তরসুরের কৃষক একদ উল্ল্যা জানান প্রথমধাপে লেবার খরচ বাবদ ১৫ মণ ধান বিক্রি করতে গিয়ে ১০০০ টাকা দিয়েছি। এরকমভাবে যার কাছ থেকে যত টাকা নিতে পারছে,সেভাবেই নিচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খাদ্য গুদামের কর্মকর্তার নামে মণ প্রতি সর্বনিম্ন ১৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা করে উৎকোচ  গ্রহণ করছে শামীম নামের এক শ্রমিক। কৃষকরা বলছেন, খাদ্যগুদামের খন্ডকালীন ঝাড়–দার শামীমের মাধ্যমে গুদামের লোকজনই টাকা আদায় করেন।
গুদামে কর্মরত শামীমকে প্রতি কৃষক ১৫ মণ ধান বিক্রি করতে ২০০ টাকা দিয়ে প্রথমে কৃষকদের বিক্রির জন্য নিয়ে আসা ধান গুদামে ঢুকায়। এর পর ওজন করতে আবার মণ প্রতি ১৫ থেকে ২৫ টাকা আদায় করে। কারও কাছ থেকে ১৫ মণে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করছে। অভিযোগ উঠেছে, কৃষি অফিসের তালিকায় অনেক কৃষককের নাম দেয়া হয়েছে তারা কৃষিকাজে জড়িত থাকলেও বোরো ফসল অনেকেই ফলাননি। অথচ ধান বিক্রির তালিকায় তাদের নাম রেখে একটি সিন্ডিকেট গুদামের লোকজনের সাথে আতাঁত করে ধান বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। অনেক কৃষক এখনো জানেনই না তাদের নাম সরকারের কাছে ধান বিক্রির তালিকায় আছে কিন্ত এসব কৃষকের নাম দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান বিক্রি হচ্ছে।

সিন্দুরখান ইউনিয়নের ষাড়েরগজ গ্রামের কৃষক আলিম উল্লা ১৫ মণ ধান এনে গুদামের সামনে ফেলে রাখেন অনেক অনুনয় বিনয় করেও গুদামের লোকজনের মনগ লাতে পারেননি তিনি। ফেলে রাখা এই ধান তিনদিন পরে গুদামে ওজন দিয়ে বিক্রি করেন তিনি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবনে আর কোনো দিন গুদামে ধান নিয়ে আসব না। তিনি বলেন, এই ১৫ মণ ধান বিক্রি করতে গুদামের শামীমকে ৩৪০ টাকা করে দিতে হয়েছে।  আমার প্রতি মণ ধানের দাম পড়েছে ৭০০ টাকা। এর চেয়ে বাইরে বিক্রি করা অনেক ভালো ছিলো। 
উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ১০৪০ টাকা মণ দরে গত ২৫ মে থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ধাপে ২৬১ টন ও দ্বিতীয় ধাপে ৪৩৪ মে.টন ধান কেনার বরাদ্ধ আসে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে উপজেলার ২৬১ জন ও দ্বিতীয় ধাপে ৭৯৪ জন কৃষকের তালিকা কৃষি অফিস তৈরি করে দেয়। সে অনুযায়ী উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির সিদ্ধান্তমতে প্রথম ধাপে প্রত্যেক কৃষক ১টন ও দ্বিতীয় ধাপে প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে ১৫ মণ ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত প্রদান করে। সে অনুযায়ী গত ২১ মে থেকে ধান কেনার এ কার্যক্রম শুরু করে উপজেলা খাদ্য অফিস। চলবে চলতি মাসের ৩১ তারিখ  পর্যন্ত ।

খাদ্য কর্মকর্তা তকবির হোসেন জানান, ৬ আগস্ট পর্যন্ত দুইধাপে মোট ৪৮৩ টন ধান কেনা হয়েছে। অবশিষ্ট  ২১২ টন ধান কেনা হবে  ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
সমন্বিত জেলা কার্যালয় দুর্নীতি দমন কমিশন হবিগঞ্জের সহকারি পরিচালক মো.এরশাদ মিয়া বলেন, তদন্তে আমরা ভুক্তভোগি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছি। খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করেন এমন ২৫/৩০ জন কৃষকের বক্তব্য সরেজমিন তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রহণ করেছি। প্রত্যেক কৃষকেই অভিযোগ করেন, লেবার খরচের নামে প্রত্যেক কৃষক নিম্নে ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত খাদ্যগুদামে ধান বিক্রয়কালে দিতে হয়েছে। এ রিপোর্ট উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পর পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 818 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।