করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ভোলাগঞ্জ স্থলশুল্ক স্টেশন দিয়ে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। এতে বেকার হয়ে পড়েন স্থলশুল্ক স্টেশনের পণ্য লোড-আনলোডের সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার শ্রমিক। দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ থাকার পর ভোলাগঞ্জ স্থলশুল্ক স্টেশন দিয়ে ফের শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকাল পর্যন্ত ভারত থেকে পাথরবোঝাই পাঁচটি ট্রাক এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আজ মঙ্গলবার থেকে স্থলশুল্ক স্টেশনটি দিয়ে পুরোদমে আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে দীর্ঘদিন থেকে কর্মহীন থাকা শ্রমিকদের মাঝেও ফিরতে শুরু করেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

বিগত কয়েক দিন ধরে স্থলশুল্করের ব্যবসায়ী সংগঠন এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে কয়েকটি বিধি-নিষেধ মেনে এই স্থলশুল্ক স্টেশন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মিন্টু জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা বেশ বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন। শুধু ব্যবসায়ীই নন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভোলাগঞ্জ স্থলশুল্ক স্টেশন সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার শ্রমিক। এই স্থলশুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকদের পাশাপাশি বিগত পাঁচ মাসে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে ব্যবসায়ী এবং শ্রমিক মিলে এই স্থলশুল্ক স্টেশনের উপর প্রায় ২০ হাজার মানুষ নির্ভরশীল। তাই আজ থেকে এই স্থলশুল্ক স্টেশন দিয়ে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি চালু হওয়ায় এলাকার সর্বত্রই খুশির আমেজ বইছে।

এ বিষয়ে স্থলশুল্ক স্টেশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ থেকে এই বন্দর দিয়ে ফের আমদানি রপ্তানি চালু হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সতর্কতা হিসেবে স্থলশুল্ক স্টেশন প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের সহযোগিতায় পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় প্রতিটি ট্রাককে স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রাকগুলো বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বাধ্যতামূলকভাবে স্যানিটাইজ করা হবে।