Voice of SYLHET | logo

১৫ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জুন, ২০২২ ইং

তিন সপ্তাহ বন্ধের পর বুধবার খুলছে ধলই চা বাগান

প্রকাশিত : August 18, 2020, 10:55

তিন সপ্তাহ বন্ধের পর বুধবার খুলছে ধলই চা বাগান

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃঃ-  

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকা ধলই চা-বাগান খুলছে আগামী বুধবার। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকালে ধলই চা-বাগানে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে মঙ্গলবার থেকে বাগান খোলার সিদ্ধান্ত হয়। পরে বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে চা-বাগানের অফিস খোলা হবে। পরদিন বুধবার থেকে শ্রমিকেরা চা-পাতা তোলা ও কারখানায় কাজ শুরু করবেন।

এ বাগানের বিতর্কিত ব্যবস্থাপককে বাইরে রাখার এবং ঘোষিত বেআইনি নোটিশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয় বৈঠকে। পরবর্তী বৈঠকে চা-শ্রমিকদের ২১ দিনের মজুরি ও রেশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় ধলই চা-বাগান কোম্পানির পক্ষে আকস্মিকভাবে এক নোটিশ দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধলই চা-বাগান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ২৮ জুলাই চা-শ্রমিক মনু-ধলাই ভ্যালির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরদিন সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকে ধলই চা-বাগানের শ্রমিকদের এক সপ্তাহের মজুরি প্রদানের সিদ্ধান্ত হলেও চা-বাগান খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এরপর আগস্টে আবারও কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বৈঠক বসে। এ বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়নি বলে সেদিন সন্ধ্যায় ধলই চা-বাগান থেকে আসা সহস্রাধিক নারী-পুরুষ চা-শ্রমিক উপজেলা প্রশাসন এলাকায় বিক্ষোভ করেন।

 

এদিকে দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ধরে ধলই চা-বাগান বন্ধ থাকায় কোনো প্রকার মজুরি ও রেশন না পেয়ে এক হাজার শ্রমিক পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকাল ৪টায় মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে ধলই চা-বাগানে গিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বৈঠক করেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক, কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিছ বেগম, শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের শ্রম কর্মকর্তা মোশাহিদ বক্স চৌধুরী, ধলই চা-বাগান কোম্পানির এজিএম খালেদ খান ও চা-শ্রমিকনেতারা।

বৈঠকে চা-শ্রমিকদের কিছু অভিযোগ এবং ২১ দিনের মানবেতর জীবন যাপনের কথা শোনে সাংসদ নির্দেশনা দিয়েছেন; ২৭ জুলাই ঘোষিত নোটিশ সোমবার প্রত্যাহার করে মঙ্গলবার থেকে ধলই চা-বাগান খুলে দিতে হবে। আর বিতর্কিত ব্যবস্থাপককে ধলই চা-বাগান কোম্পানির সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হবে। চা-শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য সমস্যা নিয়ে পরে আলোচনা করা হবে। বৈঠকে ২১ দিন ধলই চা-বাগান বন্ধ থাকায় শুধু চা-শ্রমিকদের ক্ষতি নয়, চা-বাগানের উৎপাদনেরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে সাংসদ তুলে ধরেন। এ নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে ধলই চা-বাগান কোম্পানির প্রতিনিধি মেনে নেন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী বলেন, অবশেষে সাংসদ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে বৈঠকে মঙ্গলবার থেকে ধলই চা-বাগান খোলার সিদ্ধান্ত হয়।

সোমবার রাতে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক জানান- মঙ্গলবার নয়, বুধবার সকাল থেকে ধলই চা বাগান খুলবে। ধলই চা বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে টানা ৩ সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার দুপুরে ধলই চা বাগানের অফিস খুলবে। পরদিন বুধবার সকাল থেকে চা বাগানের শ্রমিকেরা প্ল্যান্টেশন এলাকার পাতা উত্তোলন শুরু করবেন। পাশাপাশি চা কারখানা খোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, বৈঠক শেষে সোমবার ধলই চা বাগান শ্রমিক পরিবারের মাঝে সাংসদের পক্ষ থেকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 185 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।