Voice of SYLHET | logo

২০শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জুলাই, ২০২২ ইং

মশার ঔষুধ আমদানী নিয়ে চলছে সরকার বিভাগ ও ঢাকা দুই সিটির মধ্যে ঠেলাঠেলি!

প্রকাশিত : August 01, 2019, 10:45

মশার ঔষুধ  আমদানী নিয়ে চলছে সরকার বিভাগ ও ঢাকা দুই সিটির মধ্যে ঠেলাঠেলি!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যখন এ রোগের বাহক এডিস মশা মারার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলছে, তখন মশা মরার ওষুধ কে আমদানি করবে- তাই নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ আর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে চলছে ঠেলাঠেলি।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের শুনানিতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আসায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে তলব করে বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর হাই কোর্ট বেঞ্চ।

আসছে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ার শঙ্কা যেহেতু আছে, সেহেতু সরকারিভাবে দ্রুত মশা মারার ওষুধ আনা সম্ভব কি না- হেলালুদ্দীনের কাছে তা জানতে চায় আদালত।

কিন্তু তিনি স্পষ্ট কিছু বলতে না পারায় হাই কোর্ট তাকে বিকাল ৪টার মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশ দেয়।

ঢাকায় এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুজ্বরে প্রকোপ বাড়তে শুরু করে গত জুন মাস থেকে। জুলাইয়ের শেষে এসে তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের সব জেলায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১৯ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সংবাদপত্রে আসা খবরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা এ বছর অর্ধশত ছাড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে এডিস মশার প্রজননস্থানগুলো ধ্বংসে সফলতা না এলে এ রোগের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রমে শিথিলতার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন মশা মারতে যে ওষুধ দিচ্ছে তা কার্যকর নয় বলে আইসিডিডিআর,বির গবেষণায় উঠে আসে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে মশা নিধনে কার্যকর ওষুধ আনতে কত দিন লাগবে, তা গত ২৫ জুলাই জানতে চেয়েছিল হাই কোর্ট। তখন সময় নিয়ে এদিনও সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে পারেনি সিটি করপোরেশন ও রাষ্ট্রপক্ষ।

আদালত গত মঙ্গলবার এক আদেশে মশা মারার যথাযথ ওষুধ আনতে কত সময় লাগবে, তা বৃহস্পতিবারের দুপুরের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেয়। দুই সিটি করপোরেশন ও রাষ্ট্রপক্ষকে সুনির্দিষ্টভাবে তা হলফনামা আকারে জানাতে বলা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সায়রা ফাইরোজ।

দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মশার ওষুধ আনার দায়িত্ব সরকারের। ছিটানোর দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, মশা মারার ওষুধ সিটি করপোরেশনই আনবে। সরকার এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

তখন জরুরি পরিস্থিতিতে মশা মারার ওষুধ আনার বিষয়ে জানতে স্থানীয় সরকার সচিবকে তলব করে হাই কোর্ট। তাকে বেলা ২টার মধ্যে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।

সে অনুযায়ী বেলা ২টার দিকে হাই কোর্টে হাজির হন স্থানীয় সরকার সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানও তার সঙ্গে ছিলেন।

মশা মারার ওষুধ কে আনবে- সে বিষয়ে আদালতের প্রশ্নে হেলাল উদ্দিন বলেন, “অনেকের ধারণা, মশার যে ওষুধটি চলছে সেটা দিয়ে মশা মরছে না। ফলে ২৮ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এলজিইডি, দুই সিটি করপোরেশন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মিটিং হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে ওষুধ আনবে সিটি করপোরেশন। আমরা টাকাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেব।”

হাই কোর্ট বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি তারিক-উল হাকিম তখন বলেন, “তারা (সিটি করপোরেশন) তো বলছে ভিন্ন কথা। দক্ষিণ সিটি করপোরেশ তো দরখাস্ত দিয়ে নির্দেশনা চাইছে যাতে আপনারা ওষুধ আনেন।”

উত্তর সিটির প্রধার নির্বাহী কর্মকর্তা এ সময় আদালতকে বলেন, নতুন ওষুধের নমুনা আনা হচ্ছে, ইতোমধ্যে তা দেশের পথে রয়েছে।

বিচারক তখন বলেন, “আপনারা বলছেন তারা আনবে, আর তারা বলছে আপনারা আনবেন। সরাসরি আপনাদের আনতে অসুবিধা কি? একটা ক্রাইসিস পিরিয়ড চলছে। বলেন আপনারা (সরকার) আনতে পারবেন কিনা?”

উত্তরে সচিব বলেন, “আমরা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন মিলে দ্রুত ব্যবস্থা করব।”

বিচারক তখন বলেন, অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়বে। আমাদের জানান- জি টু জি পদ্ধতিতে আনা সম্ভব কিনা, আমরা আদেশ দেব।”

পরে আদালত ৪টার ওই সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশনা দিয়ে শুনানি মুলতবি করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 932 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।