Voice of SYLHET | logo

১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৯শে মে, ২০২২ ইং

আর্থিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কায় সিলেটের সাংবাদিকরা

প্রকাশিত : April 21, 2020, 15:24

আর্থিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কায় সিলেটের সাংবাদিকরা

নিউজ ডেস্ক:-

করোনাভাইরাসে সারা বিশ্ব আক্রান্ত। এর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তাই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন টেলিভিশন, অনলাইন নিউজ পোর্টালের সিলেটে কর্মরত সংবাদকর্মীরা। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ঘরে বসে করোনাভাইরাসসহ দেশ বিদেশের খবর পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু তাদের সুরক্ষা দিতে গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিভাবক সংগঠনগুলো উদাসীন। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সংবাদকর্মীদের বেতন পর্যন্ত দিচ্ছে না। এ অবস্থায় নিজের সুরক্ষা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় সিলেটের সংবাদকর্মীরা।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, করোনাভাইরাসের ভয়ঙ্কর থাবা থেকে দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সিলেটে কর্মরত সংবাদকর্মীরা। তাদের লেখনীর মাধ্যমে বেরিয়ে আসে সমাজের অসঙ্গতি। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে তারা কার্যকর তথ্য পৌঁছে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষের কাছে। জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে রাখছেন অনন্য ভূমিকা। তাই সংবাদকর্মীদের সুরক্ষা ও আর্থিক সুবিধা, বেতন-ভাতা আদায়ে এগিয়ে আসতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় অভিভাবক সংগঠনগুলোকে। বিশেষ করে স্থানীয় প্রেসক্লাবগুলোর নেতৃবৃন্দ সংবাদকর্মীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে সোচ্চার হতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের টনক নড়াতে রাখতে হবে জোরাল ভূমিকা।
টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ২৪ এর সিলেটে কর্মরত ক্যামেরাপার্সন শফি আহমেদ বলেন, প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গণমাধ্যমে কাজ করতে হয়। নির্ঘাত মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও করোনাকালে দেশ ও দেশের মানুষকে মরণঘাতী করোনাভাইরাসসহ দেশ বিদেশের খবর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে স্থানীয় সকল স্টাফদের বেলায় কর্তৃপক্ষ উদাসীন। এখন পর্যন্ত কোনো সুরক্ষা সামগ্রী বা কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাই নি। নিজের টাকায় ক্রয় করেছি একটি মাস্ক। আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা) থেকে পেয়েছি একটি পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই)। এই হলো আমাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ বিষয়ে এটিএন নিউজ সিলেট প্রতিনিধি ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা)’র সাধারণ সম্পাদক সজল ছত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে যতটুকু নিরাপদে থেকে কাজ করা যায়, ততটুকুই করা উচিত। প্রতিটি সংবাদকর্মীর নিরাপত্তার বিষয়টি তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে খেয়াল রাখা উচিত। এমন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পাঠানো উচিত নয়, যেখানে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া যাবে না। আর সংবাদকর্মীদেরও উচিত প্রতিষ্ঠানকে খুশি করতে অতিউৎসাহী হয়ে কাজ না করা।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবাদকর্মীদের সুরক্ষার জন্য সব সংগঠনই কোনো না কোনা পদক্ষেপ নিয়েছে। স্থানীয় প্রেসক্লাবগুলোর আর্থিক অবস্থাও তেমন ভালো না। ইমজা’র পক্ষ থেকে ঢালাওভাবে কোনো কিছু দেওয়া সম্ভব নয়, তবে গোপনে সদস্যদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। তাদের জন্য পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) প্রদান করা হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় সংগঠন চেষ্টা করছে সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে।
করোনাকালে সরকার ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে এটিএন নিউজ সিলেট প্রতিনিধি সজল ছত্রী বলেন, একজন মফস্বল সাংবাদিক হিসাবে বলতে পারি যে যদিও সরকার প্রণোদনা দেয়, তাহলে আমাদের হাতে এসে এটি পৌঁছাবে না। ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের বিশাল বহর এই সুবিধা পাবেন। মফস্বলে এটি এসে পৌঁছানোটাও দুষ্কর। তারপরও যদি বিধি মোতাবেক যে দুই চারজনের মাঝে এসে পৌঁছাবে, তারা এমনিতেই এতো বেশি সুবিধাভোগ করছে, যা আমরা সাধারণ সংবাদকর্মীরা পাচ্ছি না। সিস্টেমটা এমনই যে যারা সুবিধা পাচ্ছে, তার জন্য আরো সুবিধা আসছে, আর যে পাচ্ছে না, সে কোনোই সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। আর এখন সরকার সংবাদ মাধ্যমকে প্রণোদনা দিলেও মফস্বল সাংবাদিক যারা আছে তাদের ২৫% এর মাঝে এই সুবিধা পৌছাবে না।
তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমে কর্মরত কোনো কর্মীকে কোনোভাবেই চাকরীচ্যুত না করা, বেতন-ভাতা বন্ধ না করা এবং বেতন-ভাতা ঠিকমতো পাচ্ছে কি না এই বিষয়গুলো সরকার যদি ঠিকমতো খোঁজ-খবর রাখে বা তদারকি করে তাহলে কোনো প্রণোদনারই প্রয়োজন পড়বে বলে আমি মনে করি না।
এদিকে করোনা দুর্যোগে মাঠে থেকে যারা কাজ করছেন তাদের মাঝে ফটোসাংবাদিকরা অন্যতম। তাদের ছবির মাঝে ফুটে উঠছে সমাজের চিত্র। করোনা পরিস্থিতির মাঝে কিভাবে কাজ করছেন এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মামুন হাসান বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছি। আমাদের সংগঠনে প্রায় ৩৬ জনের মতো সদস্য আছেন। তাদের মাঝে ২৫ জনের মতো সদস্যকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৫ দিনের খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
করোনাভাইরাসের সুরক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা কালে সবাই মাঠে কাজ করছেন না। যারা করছেন তাদের মাঝে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকেই নিজ নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করেছেন।
এ বিষয়ে সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকি বলেন, ক্লাবের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় নাই। তবে কেউ যদি সমস্যায় থাকেন তাহলে খোঁজ নিয়ে তাকে সহযোগিতা করা হবে।
করোনাভাইরাস থেকে সংবাদকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন’র সিলেটের ব্যুরো প্রধান ও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ দিদার আলম নবেল বলেন, করোনাকালে সবার আগে যে বিষয়টি দরকার তা হলো সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সদস্যদের জন্য পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই), মাস্ক, গ্লাভসের ব্যবস্থা করা হয় এবং কিছু খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়। যাদের প্রয়োজন তারা প্রেসক্লাব থেকে নিয়েছেন। কিন্তু তা সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। সামনে আরো দুঃসময় আসছে। আজকে যে সংবাদকর্মী সচ্ছল আছে, সামনের দিনগুলোতে যদি দুর্যোগ আরো প্রকট হয়, তাহলে তার এই সচ্ছলতা থাকবে না। ইতোমধ্যে অনেক গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো তাদের অনলাইন ভার্সন দিয়ে টিকে আছে। এই অবস্থায় অনেক সংবাদকর্মীর বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিবে। সামনের দিনগুলোতে আর্থিক সংকট দেখা দিবে সিলেটে কর্মরত সংবাদকর্মীদের। তাদের এই দুর্দিনে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আরো কিছু সহযোগিতা করার পরিকল্পনা আছে।
বিভাগীয় তথ্য উপ-পরিচালক জুলিয়া যেসমিন মিলি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনো পরিকল্পনা নাই। তবে ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে মন্ত্রী মহোদয় কিছু সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিভাগীয় পর্যায়ে চাকরি করে আমাদের পক্ষ থেকে আসলে কোনো কিছু করার নাই

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 218 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।