Voice of SYLHET | logo

১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ ইং

ফ্রিল্যান্সিং: বাংলাদেশের ভবিষ্যত ডিজিটাল অর্থনীতির রূপকার 

প্রকাশিত : July 28, 2019, 15:56

ফ্রিল্যান্সিং: বাংলাদেশের ভবিষ্যত ডিজিটাল অর্থনীতির রূপকার 

আশফাক আহমদ:বর্তমান যুগে আই.সি.টি সেক্টর ছাড়া কল্পনা করা যায় না। আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে আই.সি.টির প্রভাব। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের প্রথম ১০ জনের মধ্যে প্রথম দুই জন এই আই.সি.টি বিভাগের।
১। জেফ বেজোসঃ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইকমার্স ওয়েবসাইট আমাজনের উদ্যোক্তা ও সিইও জেফ বেজোস পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১১২ বিলিয়ন ডলার। জেফ আমাজন শুরু করেন তার বেডরুমে। আমাজন প্রথমে একটা অনলাইন ভিত্তিক বই বিক্রির দোকান ছিল। আজকে সেখান থেকেই জেফ পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুশে পরিনত হয়েছেন।
২। বিল গেটসঃ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মোট সম্পদের পরিমাণ ৯০ বিলিয়ন ডলার। ১৯৭৫ সালে বিল গেটস ও পল এলেন মাইক্রোসফট শুরু করেন। তিনি ২০১৪ সাল পর্যন্ত মাইক্রোসফটের ম্যানাজিং ডিরেক্টর পদে ছিলেন।
সেই আই.সি.টি বিভাগে বাংলাদেশ কতটুকু সফল। বর্তমান সময়ে দেশে প্রায় ৫ লক্ষ্য সফল ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন।। এই ৫ লক্ষ্য সফল ফ্রীলান্সার হতে পেরেছেন শুধুমাত্র সৎ প্রতিষ্ঠানে কারণে,এবং তারা আউটসোর্সিং সম্পর্কে ধারণা নিয়ে, সঠিক জায়গায় গিয়েছেন। প্রায় ১৬ লক্ষ্য ফ্রিল্যান্সার জরে পড়েছে। খোঁজ নিলে দেখা যাবে বেশিরভাগেরই একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের যে যোগ্যতা লাগে তা নাই, যে স্কিল দরকার তা নাই।তাছাড়া সঠিক গাইডলাইনের অভাবে কেউ হতে পারেছে না। একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে হলে আপনি লোভ করতে পারবেন না। যারা মনে করবে একসাথে সব কিছু অল্প দিনে অল্প টাকায় করে বেশি বেশি আয় করবে। এই জায়গায় সবচেয়ে বড় ভুল, এর ফলে বিভিন্ন অসাধু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, কারণ আপনারা ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে অজ্ঞ, এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে এক ধরনের অসাধু চক্র। আপনারা এসব প্রতিষ্ঠান ভর্তি হন, আর নিজের ক্যারিয়ারের ধ্বংস ডেকে আনেন। বাংলাদেশের অন্তত ২০ লাখ তরুণ-তরুণীকে ২০২১ সালের মধ্যে আউটসোর্সিং খাতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।এশিয়ায় বাংলাদেশের মতো এরকম অল্প কয়েকটি দেশ আছে যেখানে তরুনের সংখ্যা অনেক বেশি। এই তরুনের ৬৫ শতাংশই ২৫ বছরের নিচে। এই তরুনদের গ্লোবাল মার্কেটে ভালো করার পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এই হাজারো তরুনদের নিয়মিত ট্রেনিং দরকার ও সরকারের উচিত হবে তরুনদের সবদিক দিয়ে সহযোগিতা করা। যেসব তরুন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত আসতে পারেনি তাদের নিয়ে পরিকল্পনা করার এখনই সঠিক সময়। সরকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার যে টার্গেট নির্ধারণ করেছে তা পূরণ করতে হলে আউটসোর্সিং এ আরও নজর দিতে হবে।
বিশ্বের দিকে তাকালে দেখবেন কোথায় বিশ্ব কোথায় আমরা বাঙালিরা।এইতো আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত যাদের আইসিটি সেক্টর এতই শক্তিশালী গুগলের সিইও পর্যন্ত ভারতীয় ব্যক্তি, উকিপিডিয়া ভারতীয় ব্যক্তি। বর্তমানে সরকার ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে এই এই সেক্টর কে এগিয়ে নিতে। একটি একটি সম্ভাবনাময় বিভাগ,বর্তমানে আমাদের দেশে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান পাবেন যারা আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং শেখার নামে ধান্দা করছে ।একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে হলে অনেক কিছু শেখা দরকার। পুরো বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত একটি সেরা প্রতিষ্ঠান আছে ফ্রিল্যান্সিং শিখানোর জন্য। কিন্তু আমাদের দেশে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান পাবেন যারা আপনাকে খুবই অল্প সময়ে অল্প টাকায় ৩-৪ টি কোর্স করে দিতে সক্ষম। আসলেই কি তা সম্ভব?
উত্তর: না। এগুলো তারা ধান্দা করছে ফ্রীলান্সিং শেখানোর নামে।এসব কোর্স করে আপনি কখনই সফল ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন না।একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে হলে আপনাকে দীর্ঘ ৮ থেকে ৯ মাস সময় লাগে। এবং স্কিল এর প্রয়োজন।এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ আইসিটি খাতে ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়ে লুটে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আপনারা এসব প্রতারণার শিকার হবেন না। এসব অসাধু চক্রের জন্য বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের বিদেশে সুনাম অর্জন করতে পারছে না। বাঙালি শুনলেই কেমন যেন অবহেলা কাজ করে। এখনই সময় সচেতন হওয়ার। বাংলাদেশের একটি বিপ্লব সৃষ্টি করবে আইসিটি বিভাগ যদি যোগ্য সৎ প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়। এবং দুই নম্বর প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদেরকে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানতে হবে,জানাতে হবে তবেই আমরা আইসিটি সেক্টরে এগিয়ে যেতে পারবো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 560 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।