Voice of SYLHET | logo

১১ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

ইয়াহিয়া ভেবেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ভেঙ্গে যাবে

প্রকাশিত : December 09, 2019, 21:10

ইয়াহিয়া ভেবেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ভেঙ্গে যাবে

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ

৯ ডিসেম্বর, ১৯৭১। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারের নির্দেশে নৌবহর তার যুদ্ধযাত্রা শুরু করে। ইয়াহিয়া খান ভেবেছিল, এতে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ভেঙ্গে যাবে। ঘটনার প্রতিক্রিয়া হয় উল্টো। মুক্তিযোদ্ধারা আরো বিপুল উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়েন দেশমাতৃকাকে মুক্তি করার যুদ্ধে।
আজকের দিনে সকালে হানাদার বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দফতর ঢাকা থেকে প্রথমবারের মতো জেনারেল নিয়াজী স্বীকার করেন, পরিস্থিতি নিদারুণ সংকটপূর্ণ। আকাশে শত্রুর প্রভুত্বের কারণে পুনর্বিন্যাসকরণ সম্ভব নয় বলে একটি সংকেতবাণীও পাঠানো হয় রাওয়ালপিন্ডিতে। দ্রুত মুক্ত হতে থাকে একের পর এক জায়গা। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধকে নস্যাৎ করে দেয়ার জন্য পাকিস্তানের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা থেমে থাকেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ সময় পাকিস্তানকে সহযোগিতা করার পদক্ষেপ নেয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর প্রতিরোধের জন্য নিজেদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর হুমকি দিলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।

এইদিন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীসভা ও আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি জাতীয় কংগ্রেসের সমন্বয়ে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারত ও ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের পর উপদেষ্টা পরিষদের এটিই ছিল প্রথম বৈঠক। বৈঠকে মুক্ত এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনের কার্যক্রম শুরু এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিকেলে ভারতীয় বিমানবাহিনী জামালপুরে হানাদার ঘাঁটির ওপর এক ঘণ্টা ধরে কয়েক হাজার পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করে। এর ফলে পাকসেনারা পালাতে আরম্ভ করে। জামালপুর থেকে পালিয়ে যাবার সময় ভারত-বাংলা যৌথ বাহিনীর কাছে ৬শ’ হানাদার সেনা ধরা পড়ে।

মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে যে জায়গাগুলো শত্রুমুক্ত হয়, তাদের অন্যতম হলো দাউদকান্দি, গাইবান্ধা, কপিলমুনি, ত্রিশাল, নকলা, ঈশ্বরগঞ্জ, নেত্রকোনা, পাইকগাছা, শ্রীপুর, অভয়নগর, পূর্বধলা, চট্টগ্রামের নাজিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকা। ভারতের হাফলং এর বিএসএফ ট্রেনিং সেন্টার হতে ট্রেনিংপ্রাপ্তদের একটি মুক্তিযোদ্ধা দল গ্রুপ কমান্ডার নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ৯ ডিসেম্বর কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ও বালুখালীতে গেরিলা অপারেশন পরিচালনা করে। এ যুদ্ধে গ্রুপ কমান্ডার নাজিম উদ্দিন এবং মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ জাফর শহীদ হন। দাউদকান্দি শত্রুমুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে মূলত মেঘনার সম্পূর্ণ পূর্বাঞ্চল মুক্তিবাহিনীর দখলে আসে।

এর আগে কুমিল্লা মুক্ত হওয়ার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে দাউদকান্দির মুক্তিযোদ্ধারা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুক্তিবাহিনীর হামলায় টিকতে না পেরে পাক হানাদার বাহিনী ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনী চারপাশ থেকে রাজধানী ঢাকাকেও ঘিরে ফেলেছিল। প্রায় প্রতিদিনই যৌথবাহিনীর বিমান হামলায় পাকবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছিল। ঘনিয়ে আসছিল তাদের পরাজয়ের ক্ষণ।

ভয়েস অব সিলেট/ আর

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 174 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।