Voice of SYLHET | logo

১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৮শে মে, ২০২০ ইং

সিলেটের তিন জেলার ২ লাখ ৪০ হাজার পরিবার পাবে ত্রাণ সহায়তা

প্রকাশিত : মে ১২, ২০২০, ১৯:০৭

সিলেটের তিন জেলার ২ লাখ ৪০ হাজার পরিবার পাবে ত্রাণ সহায়তা

নিউজ ডেস্ক:-

সিলেট জেলার ৯০ হাজার পরিবার পাবে নতুন করে ত্রাণ সহায়তা। হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে ত্রাণ পাবে ৭৫ হাজার করে পরিবার।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. শাহ কামাল গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, নতুন করে সারাদেশে ৫০ লাখ পরিবার ত্রাণ সহায়তা পাবে। এই সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম আগামী বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শুরু হবে।
করোনাভাইরাসের কারণে মানবিক দুর্যোগ শুরুর পর গত ২৪ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক কোটি পরিবারকে ত্রাণসহায়তা দিয়েছে সরকার। জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ মহানগর ও সিটি করপোরেশন এলাকা বেশি ত্রাণ পেয়েছে। এত দিন ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হলেও এখন ত্রাণের পরিমাণ বাড়িয়ে চলতি মাসে আরও ৫০ লাখ পরিবারকে ২০ কেজি করে (মাসে একবার) চাল দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি এসব পরিবারকে দেওয়া হবে নগদ সহায়তাও।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, আগামী বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এই কার্যক্রম শুরু হবে। যদিও উপকারভোগীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ৩৪ লাখ পরিবারের তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। তথ্যে ঘাটতি ও অসংগতি থাকায় ১৬ লাখের তালিকা গতকাল দুপুর পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। এই তালিকা চূড়ান্ত না হওয়ায় আগের মতো ত্রাণ দিতে গতকাল আরও ১০ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন ত্রাণ বরাদ্দ করেছে ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ১৬ লাখের তালিকাও খুব তাড়াতাড়ি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। অনিয়ম ঠেকাতে এবার উপকারভোগীদের নামে করা ডিজিটাল কার্ডের ভিত্তিতে এই সহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্যই তালিকা করতে কিছু সময় লাগছে।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি চলছে। একই সঙ্গে সারা দেশে লকডাউন (অবরুদ্ধ) পরিস্থিতি শুরু হয়। ফলে লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। এতে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন গরিব ও শ্রমজীবী মানুষ। এ জন্য এসব লোককে খাদ্যসহায়তা দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তা অব্যাহত আছে।
মহানগর ও সিটি এলাকায় ত্রাণ বেশি: ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৯৯ লাখ ৪ হাজার ৯৭৭টি পরিবারকে (৪ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ) ত্রাণসহায়তা দিয়েছে সরকার। ৬৪ জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে ত্রাণ মন্ত্রণালয়। গত রবিবার পর্যন্ত সারা দেশে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮০২ মেট্রিক টন।
এ ছাড়া প্রায় ৩ কোটি ৬ লাখ ২ হাজার মানুষকে দেওয়া হয়েছে ৫১ কোটি ৬৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা। যদিও নগদ টাকা বরাদ্দ আছে প্রায় ৮০ কোটি। আর শিশুখাদ্যসহায়তা হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি পৌনে ১০ লাখ টাকা। এতে উপকারভোগী মানুষ প্রায় ৭ লাখ ৮৯ হাজার।
ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, মহানগরসহ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ (সিটিসহ), চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, জামালপুর, সাতক্ষীরা জেলায় বেশি ত্রাণ গেছে। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব গণমাধ্যমকে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী জনসংখ্যা ও দরিদ্র মানুষ বিবেচনায় ত্রাণ দেওয়া হয়।
এত দিন ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হতো। এর সঙ্গে নগদ বরাদ্দ থেকে কিনে ডাল, তেল, আলুও দেওয়া হতো। এত দিন কেউ কেউ একাধিকবার সহায়তা পেয়েছেন। কেউ কেউ সরকারের অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পেলেও ত্রাণের সুবিধাও নিয়েছেন। এতে আবার কেউ কেউ প্রয়োজন থাকলেও পাননি। এমন বাস্তবতায় সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, উপকারভোগীর নাম সফটওয়্যারের মাধ্যমে তথ্যভান্ডার করে কার্ডের ভিত্তিতে এ মাসে ৫০ লাখ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। যাঁরা সরকারের অন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের বাদ রেখে অন্যদের এই ত্রাণের সুবিধা দেওয়া হবে। এই ২০ কেজি চালের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে নগদ আড়াই হাজার টাকাও দেওয়া হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, এই ৫০ লাখ পরিবারের তালিকা করে ৩ মের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে মাঠ প্রশাসনকে বলা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত ১৬ লাখ পরিবারের কারও মোবাইল বা ঠিকানা ঠিকমতো না থাকাসহ অন্যান্য কিছু অসংগতি থাকায় পুরো তালিকাটি চূড়ান্ত হয়নি। সেটি সংশোধন হচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. শাহ কামাল গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, এই ৫০ লাখ পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম ১৪ মে শুরু হবে।
পাঁচ এলাকা পাবে বেশি ত্রাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য, পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য, জনসংখ্যা, দারিদ্র্যের হার, সম্পদের প্রাপ্যতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে কোন জেলায় কত পরিবার ত্রাণ পাবে, সেই সংখ্যাটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সংখ্যার ভিত্তিতে উপকারভোগী পরিবার বাছাই করা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন, জামালপুর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলার প্রতিটিতে এক লাখ করে পরিবার এই সুবিধা পাবে। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ জেলার প্রতিটিতে ৯০ হাজার পরিবার এই সহায়তা পাবে। গাজীপুর, রাজশাহী ও রংপুর জেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার প্রতিটিতে ৮০ হাজার পরিবার এই সুবিধা পাবে। তালিকায় ৭৫ হাজার করে পরিবার আছে ফরিদপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নওগাঁ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, বাগেরহাট, যশোর, কুষ্টিয়া, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায়। নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ ও দিনাজপুর জেলার একেকটিতে ৭৭ হাজার পরিবার এই সহায়তা পাবে। বাকি এলাকাগুলোতে ৪০ হাজার থেকে শুরু করে ৭২ হাজার পর্যন্ত পরিবার রয়েছে

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 44 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

Design & Developed By : amdads.website