Voice of SYLHET | logo

৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং

সংবাদ সম্মেলন: মানবজামিন পত্রিকায় কমলগঞ্জের রনিকে নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ

প্রকাশিত : অক্টোবর ৩১, ২০২০, ১০:৫৯

সংবাদ সম্মেলন: মানবজামিন পত্রিকায় কমলগঞ্জের রনিকে নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:
কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের উত্তরভাগ এলাকায় গত ০২ অক্টোবর মধ্যরাতে লুডু খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে রনি আহমদের (২১) হাতের কবজি কাটে একদল সন্ত্রাসী। এঘটনায় চারজনকে আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন আহত রনির মামা দেলোয়ার হোসেন। গুরুতর আহত রনি সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

লুডু খেলার বিরোধ নিয়ে কবজি কাটার ঘটনার বিষয়ে সেসময় দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা দৈনিক কালেরকণ্ঠ ও সমকালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু ঘটনার ২০ দিন পর মানবজমিন পত্রিকার কমলগঞ্জ প্রতিনিধি সাজিদুর রহমান সাজু লুডু খেলা বিরোধে কবজি কাটার ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভূক্তভোগীর পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে গুরুতর আহত রনির ভাই জসিম, তার মামা দেলোয়ার ও সবুজ মিয়া বলেন, হামলায় গুরুতর আহত রনিকে নিয়ে মানবজমিন পত্রিকায় গত ২৩ অক্টোবর ‘রনিকে নিয়ে কমলগঞ্জে আতঙ্ক’ শিরোনামে ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ তৈরি করে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেন। কিন্তু বাস্তবে এই প্রতিবেদনটির নূন্যতম ভিত্তি নেই। জনপ্রিয় পত্রিকার একজন সাংবাদিক এধরণের ডাহা মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি করবেন এমনটা কেউ আশা করে না।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি করা ঐ প্রতিবেদনে সুকৌশলে লুডু খেলা বিরোধে গুরুতর আহত হওয়া রনিকে জড়িয়ে আজগুবি সব তথ্য ও অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া আদমপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সবুজ মিয়া’র নামে নানা বিষয় জুড়ে কল্পকাহিনীর মতো গল্প রচনা করা হয়। সাংবাদিক স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারের যোগসাজশে মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসুত একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভুল ও মিথ্যা আছে উল্লেখ করে তারা বলেন- ০১. মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- রনির মূল বাড়ি ব্রাম্মণবাড়িয়া নয়, তার মূল বাড়ি শ্রীমঙ্গলে উপজেলায়। এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে রনির বাবা নিরুদ্দেশ। অথচ তিনি বর্তমানে শ্রীমঙ্গলে বসবাস করেন।

০২. প্রতিবেদনে বলা হয়- ‘গত ২রা অক্টোবর রাত ৩টার দিকে উত্তরভাগ গ্রামের মাসুক মিয়ার বসতঘরের বাঁশের বেড়া ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তার স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে রনি। এ সময় কিশোরীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠলে রনি পালানোর সময় তার হাতে কাঁচি দিয়ে আঘাত করে কিশোরী।’

অথচ কবজি কাটার পর মুঠোফোনে তোলা ছবি দেখলেই বুঝা যায় কাচি দ্বারা কখনো এভাবে কবজি কাটার কথা নয়। কবজি দায়ের কোপেই কেটেছে। যার কারণে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

০৩. ‍নিউজটির এর পরের অংশে বলা হয়েছে- ‘পরে তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা রনিকে আটক করেন। খবর পেয়ে রাতেই ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদ্বয় উপযুক্ত বিচারের আশ্বাসে চিকিৎসার জন্য রনিকে তার বড় ভাই জসিমের জিম্মায় দেয়া হয়।’

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে উল্টো। কবজি কাটার পর হামলাকারিরা সিএনজি অটোরিকশা রিজাভ করে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে কর্ত্যবরত চিকিৎসকের পরামর্শে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নিয়ে যায় তারা। সেখানে গুরুতর আহত রনির অবস্থার অবনতি হলে তাকে রেখে পালিয়ে যায় তারা।

০৪. ‘এদিকে রনির নানা আছকর মিয়া বলেন, রনির মাথায় আঘাত করলে সেই আঘাত তার বাম হাতে পড়ে কেটে অঙ্গহানি হয়। মাথায় আঘাত ফেরালে হাতের নিচের অংশ কাটার কথা সেখানে উপরের অংশ কাটলো কি করে?’- প্রতিবেদনে এমন একটি অবান্তর প্রশ্নের নিয়ে এসেছেন সাংবাদিক। কেউ দা দিয়ে কোপ দিতে গেলে আত্নরক্ষার্থে যে কেউ তা হাত দিয়ে আটকাতে চাইবে। এক্ষেত্রে হাতের ওপরের অংশ কি নিচের অংশ কাটা যাবে তা কেউই লক্ষ্য রাখে না।

০৫. প্রতিবেদনে রনি বেপরোয়া হয়ে উঠছে উল্লেখ করে এর পেছনে তার মামা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সবুজ মিয়াকে জড়িত রয়েছেন বলা হয়। অথচ সবুজ মিয়া ছাত্রলীগের উক্ত পদেই বহাল নয়। সাংবাদিক স্হানীয় নেতা কোন পদে আছেন তা তিনি নিজে না জেনেই লিখছেন সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। বস্তুত, বর্তমানে এক শ্রেণীর সাংবাদিক আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মানহানি ও সমাজে হেয় করতে মিথ্যা প্রেপাগান্ডা চালাতে দেখা যায়। বাস্তবে সবুজ মিয়া বতমানে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক পদে রয়েছেন। সাংবাদিক ভুল তথ্য দিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে জনগনকে বিভ্রান্ত করছেন। এছাড়া রনি সবুজ মিয়া’র ফুফাতো বোনের ছেলে।

প্রতিবেদনে বলা হয়- ‘কেউ সাহস করে থানায় অভিযোগ করলেও চাপে পড়ে স্হানীয় ভাবে মিটমাট করতে বাধ্য হয়েছেন।’ উক্ত কথাটি আশ্চর্য্যজনক হলেও সাংবাদিক কি বুঝাতে চাইলেন তা একমাত্র তিনিই ভালো জানেন। তাহলে কি থানা প্রশাসনে অভিযোগ দিলেও শেষমেষ আপোষে সমাধান করতে বাধ্য হোন ভুক্তভোগীরা? প্রশাসনকে হেয় করার উদ্দেশ্য এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ছাত্রসংগঠনের নেতা হলে প্রশাসন সম্পূর্ণ বিষয়টি এড়িয়ে যান? এই ধরনের সংবাদের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনকেও বিতর্কিত করা হয়েছে। সাংবাদিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব লেখার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। প্রশাসনকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার তৈরি এবং বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করার দায়ে উনাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।

এছাড়াও প্রতিবেদনের শুরুতে মারধর আর শ্রমিক নেতার মেয়েকে যদি ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং রনি গণপিটুনির শিকার হয়েছে এধরণের কথা বলা হয়। কিন্তু আশ্চর্য্যজনক বিষয় হলো- এ ব্যাপারে কেউই আইনগত সহায়তার জন্য কেউ অভিযাগ করেছেন এমনটি অত্র এলাকার কেউ কস্মিনকালেও শুনেননি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে তার প্রমাণপত্র এবং সাক্ষীও রয়েছে। সত্য নির্ভর তথ্যর উপর ভিত্তি করে মামলা রেকর্ড হয় কমলগঞ্জ থানায়। এসব সাজানো গল্প মূলত ভূক্তভোগী রনিকে নিয়ে ২রা অক্টোবরের মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা। আমরা প্রত্যাশা করি আপনাদের মতো দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসী একজন সাংবাদিকের কল্পনাপ্রসূত সাজানো গল্প ও প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে অবগত হবে। এসব ঘটনায় জড়িতরা সাজা ভোগ করুক আমরা সেই প্রত্যাশাই করি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 162 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

Design & Developed By : amdads.website