Voice of SYLHET | logo

৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

ভারতে স্বাগত জানাতে শেখ হাসিনাকে ‘অবহেলা’, সমালোচনার ঝড়

প্রকাশিত : নভেম্বর ২৪, ২০১৯, ১৮:২৯

ভারতে স্বাগত জানাতে শেখ হাসিনাকে ‘অবহেলা’, সমালোচনার ঝড়

ভয়েসঅবসিলেট ডেস্ক:

ঐতিহাসিক বাংলাদেশ-ভারত টেস্টের প্রথম দিনে কলকাতার ইডেনে হাজির হয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এ সফর ও আনুষাঙ্গিক বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী এক গণমাধ্যম।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর দেশের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘যথাযথ সম্মান’ দিয়ে ভারতে স্বাগত না জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ভারতের মিত্র বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন বিষয়ে ভারতকে ছাড় দিলেও দেশের সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে কূটনৈতিক নিয়মে সম্মান না জানানোয় প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন বাংলাদেশিরা।

আজ রোববার (২৪ নভেম্বর) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী বাংলা সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি লিখেছেন অগ্নি রায়। প্রতিবেদনটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

অক্টোবরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিমান যখন নয়াদিল্লিতে নামে, তখন তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রথমবারের সাংসদ তথা নারী ও শিশু কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। হাসিনার সফরসঙ্গী নেতারা ঘরোয়াভাবে জানিয়েছিলেন, এটা ‘যেচে অপমান নেওয়া’। প্রতিবেশী বলয়ে ভারতের ‘পরম মিত্র’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে বা কোনো সিনিয়র ক্যাবিনেট মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন- এটাই ছিল প্রত্যাশা। প্রথমবার জিতে আসা কোনো প্রতিমন্ত্রী নন।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে কলকাতায় এলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। কিন্তু তাঁকে স্বাগত জানাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্ত্রী, এমনকি শীর্ষ আমলাকেও পাঠানো হয়নি। যা কিনা বাঁধাধরা কূটনৈতিক প্রথা এবং সৌজন্যের বিরোধী। কেন এমন উদাসীনতা প্রদর্শন, সে বিষয়ে সরকারিভাবে মুখ খুলতে চাইছে না সাউথ ব্লক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, ঘরোয়া রাজনীতির বাধ্যবাধকতাই কারণ। একদিকে তারা যখন দেশজুড়ে এনআরসি করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দেশছাড়া করার কথা বলছেন, সেই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে পরিচিত এনআরসি-বিরোধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর বিষয়টিকে এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা। কিন্তু সিনিয়র কোনো আমলাকেও কেন কলকাতায় পাঠায়নি মোদি সরকার, তা নিয়ে চুপ সাউথ ব্লকের কর্তারা। সব মিলিয়ে দিল্লির এই আচরণে প্রতিবেশী বলয়ে ভারতের অস্বস্তি যে আরও বেড়ে গেল, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই কূটনীতিকদের।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, বিভিন্ন মঞ্চে এ কথা বার বার বলেছেন খোদ মোদি। পাকিস্তান সীমান্তের ওপার থেকে আসা জঙ্গিপনায় ভারত যখন চাপে, সেই সময় হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারত-বিরোধী সন্ত্রাস উৎখাত করবেন। সে কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেশীদের মধ্যে একমাত্র ঢাকাকেই বিভিন্ন চড়াই-উতরাইয়ে পাশে পেয়েছে দিল্লি। সম্প্রতি ভারতের অনুরোধে ঢাকা তাদের দেশের ভিতর দিয়ে আসাম-ত্রিপুরায় পণ্য পরিবহণের জন্য ‘ফি’ এক ধাক্কায় টন প্রতি ১০৫৪ টাকা থেকে কমিয়ে করেছে ১৯২ টাকায়। এমন ‘পরম মিত্রের’ ভারত সফরে দিল্লির এই উদাসীনতা কেন, সে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ রা কাড়তে না চাইলেও দিল্লির এই উদাসীনতা যে ঘরোয়া রাজনীতিতে হাসিনার পক্ষে চাপের, সে কথা ঘরোয়াভাবে জানানো হচ্ছে। এনআরসি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হুমকির ফলে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধীতা বাড়ছে। দিল্লির আচরণ তাকে উস্কে দিতে পারে।

চীনপন্থী গোটাবায়া রাজাপক্ষ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হয়ে আসার পরে সে দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চীনের কাছে ঋণের ফাঁসে কার্যত বন্দী কলম্বো তাদের হাম্বানটোটা বন্দরটি তুলে দিয়েছে বেইজিংয়ের হাতে। ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপরাষ্ট্রে ভারত-বিরোধী ঘাঁটি তৈরির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং। এবার গোটাবায়ার জমানায় সেই কাজ মসৃণ হওয়ার সম্ভাবনা।

ডোকলাম পরবর্তী ভুটান এবং চীনপন্থী সরকার হওয়ার পরে নেপালও খোলাখুলিভাবেই বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় পর্যটকদের জন্য মোটা পর্যটন শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভুটান। অন্যদিকে চীনের উপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা ক্রমশ বাড়ায় নয়াদিল্লির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে নেপালের। ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত যৌথ সেনা মহড়া থেকে কাঠমান্ডুর সরে দাঁড়ানো, চীনের সঙ্গে পণ্য পরিবহণ চুক্তি করা, বেইজিংয়ের মহাযোগাযোগ প্রকল্প ওবর-এ নিজেদের সামিল করার মতো বিষয়গুলি থেকে সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। এমন একটি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সফরকারী রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দিল্লির এমন শীতল ব্যবহারে অবাক অনেকেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 46 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

Design & Developed By : amdads.website