Voice of SYLHET | logo

১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

বড়লেখা ট্রাজেডি: অবশেষে কানন বালাও না ফেরার দেশে

প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৮, ২০২০, ০০:১১

বড়লেখা ট্রাজেডি: অবশেষে কানন বালাও না ফেরার দেশে

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের বড়লেখার পাল্লাথল চা বাগানে স্ত্রী শাশুড়িসহ ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যার পর ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত কানন বালাও চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
চা বাগানে মৃত্যুর মিছিলে ঘাতকসহ ৫ জনের সঙ্গে যোগ হল আরও একজন।

৮ দিন ওসমানী হাসপাতালের ফ্লোরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তর শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন এবং পাল্লাথল চা-বাগানের ফ্যাক্টরি ক্লার্ক অঞ্জন দাস।

গত ১৯ জানুয়ারি ভোরে ননদের স্বামী জামাই নির্মল কর্মকারের দায়ের কোপে কানন বালা গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় নিহত হন কানন বালার স্বামী, শাশুড়ি, ননদ ও মেয়ে।

অভিযোগ উঠেছে, ৭ দিনেও সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের একটি বেডও ভাগ্যে জুটেনি চাঞ্চল্যকর হামলায় আহত কানন বালার। অবশেষে হাসপাতালের ফ্লোরেই অনেকটা বিনা চিকিৎসায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার পাল্লাথল চা বাগানে পারিবারিক কলহের জের ধরে নির্মল কর্মকার তার স্ত্রী জলি বুনার্জিকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় জলিকে বাঁচাতে গিয়ে নির্মলের দায়ের কোপে নিহত হন জলির মা লক্ষ্মী বুনার্জি।
স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যা করেও ক্ষান্ত হয়নি নির্মল। তার দায়ের কোপে নিহত হন তার স্ত্রীর বড়ভাই বসন্ত বক্তা এবং বসন্তের মেয়ে শিউলী বক্তা। এ সময় গুরুতর আহত হন বসন্তের স্ত্রী কানন বালা।
ঘটনার সময় পালিয়ে বেঁচে যায় জলির ৯ বছরের শিশুকন্যা চন্দনা বুনার্জি।

একে একে ৪ জনকে হত্যার পর নিজেকেও শেষ করে দেয় নির্মল। প্রথমে নিজের মাথায় দা দিয়ে কোপ দেয়। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে।পুলিশ আহতাবস্থায় কানন বালাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং নিহত ৫ জনের লাশ মর্গে পাঠায়।

ঘটনার রাতেই পাল্লাথল বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন।পাল্লাথল চা-বাগানের ফ্যাক্টরি ক্লার্ক অঞ্জন দাস সোমবার বিকালে জানান, এ ঘটনায় পুরো বাগানবাসী স্তব্ধ। একসঙ্গে এতজনের মৃত্যু, ভাবতেই কষ্ট লাগছে। সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগছে, নির্মলের হাত থেকে তার স্ত্রী জলিকে বাঁচাতে গিয়ে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি।

বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন জানান, কানন বালা চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালে সোমবার সকালে মারা গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পাল্লাথল চা-বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান জানান, পাঁচজনের মৃত্যুর পর আহত নারীও সোমবার সকালে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে মারা গেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। রোববার পাল্লাথল চা বাগানের শোকাহত শ্রমিকদের সমবেদনা জানাতে যান। তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 36 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

Design & Developed By : amdads.website