২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে ৩.৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (৯ জানুয়ারি) সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সড়কে পাল্লা দিয়ে মৃত্যুর মিছিল বাড়লেও অনিরাপদ হয়ে উঠছে রেল যাত্রাও। আর নৌপথেও প্রতিনিয়তই বাড়ছে প্রাণহানি।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির ওই প্রতিবেদনে জানানো হয় বিদায়ী ২০২০ সালে দেশে মোট সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ৪৮৯১ টি। একই সময় রেলপথে ৩২৩ টি ও নৌপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে মোট ১৮৩ টি। বছরজুড়ে এসব দুর্ঘটনায় সড়কে ঝরেছে ৬৬৮৬ প্রাণ। আর আহত হয়েছেন ৮৬০০ জন। একই সময়ে রেলপথে প্রাণহানি হয়েছে ৩১৮ জনের। আর আহত হয়েছেন ৭৯ জন। এছাড়াও বছরজুড়ে নৌপথে ৩১৩ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ৩৪২ জন। নৌপথের দুর্ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন ৩৭১ জন।

 

সব মিলে সড়ক, রেল, নৌ-পথে সর্বমোট ৫৩৯৭ টি দুর্ঘটনায় ৭৩১৭ জন নিহত এবং ৯০২১ জন আহত হয়েছেন।

দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রসমূহে প্রচারিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ২০৩৯ জন চালক, ১৫৯৪ জন পথচারী, ৭৫৭ জন পরিবহণ শ্রমিক, ৭০৬ জন ছাত্র-ছাত্রী, ১০৪ জন শিক্ষক, ২০০ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৯১৮ জন নারী, ৫৪১ জন শিশু, ২৯ জন সাংবাদিক, ২৭ জন চিকিৎসক, ৮ জন আইনজীবী ও ৫ জন প্রকৌশলী এবং ১৪৪ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ৯ জন মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় মিলেছে।

আর নিহতদের মধ্যে ১৩৯২ জন পথচারী, ১৫ জন সেনা সদস্য, ৫২ জন পুলিশ, ১৫ জন আনসার সদস্য, ১ জন র‌্যাব সদস্য, ০২ জন বিজিবি সদস্য, ০১ জন সিআইডি সদস্য, ০১ জন নৌ-বাহিনীর সদস্য, ০১ জন বিমানবাহিনীর সদস্য ০৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ০৫ জন সাংবাদিক, ৬৫৬ জন নারী, ৪১৮ জন শিশু, ৩৭৫ জন ছাত্র-ছাত্রী, ৯২ জন শিক্ষক, ১৩৯০ জন চালক, ৩৫৫ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪ জন প্রকৌশলী, ১ জন আইনজীবী, ১১১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২৩ জন চিকিৎসক রয়েছেন।

দুর্ঘটনায় সর্বমোট ৬৭৩৬ টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে মিলেছে বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলে হয়, ১৩.১২ শতাংশ বাস, ২৮.৩৯ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৫.৪১ শতাংশ কার-জীপ-মাইক্রোবাস, ৮.৫২ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২৪.৮০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ৯.০৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ১০.৬৪ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৫২.৯৬ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২২.০৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭.০৮ শতাংশ খাদে পড়ে, ৬.৭১ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৩৪ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০.৮১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত যানবাহনের ৩.৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেলে, ৩.৩২ শতাংশ নসিমন-মাহিন্দ্রা-লেগুনায়, ১.০৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইকে, ০.১৯ শতাংশ কার- জীপ-মাইক্রোবাসে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও ৫.৮৭ শতাংশ বাস, ১.৪২ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-লরি, ০.৮৩ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনা কমেছে।

পরিসংখ্যানের তুলনামূলক বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, ২০১৯ সালের তুলনায় বিদায়ী ২০২০ সালে পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ৩.৩৯ শতাংশ, বেপরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনা ০.৯৯ শতাংশ ও ট্রেন যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ০.১৬ শতাংশ কমলেও মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ৩.৭ শতাংশ বেড়েছে।

দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে এই বছর মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ২৮.৯৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৪.৬৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১৯.১১ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪.৩৭ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ২.০৬ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৮১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

বিগত বছরের চেয়ে বিদায়ী বছরে আঞ্চলিক মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা ৬.৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও জাতীয় মহাসড়কে ৩.৪৫ শতাংশ, রেলক্রসিং এ ০.১৬ শতাংশ, ফিডার রোডে ২.১৯ শতাংশ কমেছে।