Voice of SYLHET | logo

১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৩১শে মে, ২০২০ ইং

প্রাথমিক পর্যায়ে সংগৃহীত ১০০টি ভাইরাসের জেনোম সিকোয়েন্সিং করবে ঢাবি

প্রকাশিত : মে ১৪, ২০২০, ১৯:৩০

প্রাথমিক পর্যায়ে সংগৃহীত ১০০টি ভাইরাসের জেনোম সিকোয়েন্সিং করবে ঢাবি

ঢাবি প্রতিনিধি:

বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারন করা করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) জিনোম সিকোয়েন্সিং ও মানবদেহে এর ভিন্নমাত্রার প্রভাব নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে সংগৃহীত নমুনা থেকে প্রায় ১০০টি ভাইরাসের জেনোম সিকোয়েন্স নিয়ে কাজ করবে। পরবর্তী সময়ে ফান্ড পেলে এটি অব্যাহত রাখা হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্স রিসার্চ ইন সায়েন্স (কার্স) ভবনের কনফারেন্স রুমে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্যে করোনা ভাইরাস রেসপন্স টেকনিক্যাল কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান এ তথ্য জানান।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, যেহেতু নভেল করোনা ভাইরাস একটি নতুন ধরনের ভাইরাস, জীববিজ্ঞান অনুষদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকগণ বাংলাদেশে প্রবাহমান করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং সহ আক্রান্ত ব্যক্তিদের এক্সোম (মােট জিনের সমন্বয়) সিকোয়েন্সিং-এর একটি বিস্তৃত গবেষণা প্রকল্পে নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সংগৃহীত নমুনা থেকে প্রায় ১০০টি ভাইরাসের জেনোম সিকোয়েন্স করা হবে। যেহেতু ভাইরাসটি ক্রমাগত মিউটেশনের মাধ্যমে তার জিনগত বৈশিষ্টের পরিবর্তন ঘটিয়েছে সেহেতু অধিক সংখ্যক ভাইরাসের জেনােম সিকোয়েন্সিং-এর মাধ্যমেই একমাত্র এর আচরণগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা পাওয়া সম্ভব।

জেনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে কি কি তথ্য জানা সহজ হবে তা জানিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশে কোন ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশী ঘটেছে, এর সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি কি ছিল, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণের যে হটস্পটগুলি তা কি ধরণের প্রভাব ফেলেছে, আরএনএ সিকোয়েন্সে কি ধরনের পরিবর্তন হলে এটি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অথবা আমাদের দেশের আবহাওয়া এই ভাইরাসটি উপর আদৌ কোন প্রভাব ফেলেছে কি না ইত্যাদি জানা অনেক সহজ হবে।

লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভাইরাসের জেনোম সিকোয়েন্স হয়তাে আমাদের আরও অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর দেবে যা এ মুহূর্তে আমাদের সকলের অজানা যেমন; কেন এই ভাইরাস কোন কোন দেশে মারাত্মকভাবে আঘাত হেনেছে অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায়? কেন প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের আপাতদৃষ্টিতে কম সংবেদনশীল মনে হচ্ছে? এই ভাইরাস কি ভবিষ্যৎে আবারও আঘাত হানতে পারে? এবং যদি তাই হয় তার তীব্রতা কিরকম হবে? এই ভাইরাসের মিউটেশনের হার কিরকম? অথবা ভাইরাসটির প্রকৃত উৎস কি?

সরকারী, বেসরকারী সংস্থাকে এই প্রকল্পে অর্থায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ে কাজটি শুরু করার জন্য আংশিক ব্যয় নির্বাহের জন্য দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের এ্যালামনাইবৃন্দ প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন। তবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য আরও আর্থিক সংস্থানের প্রয়োজন হবে। এ ব্যাপারে সরকারী, বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানাচ্ছি।

জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, এই প্রকল্পে জীববিজ্ঞান অনুষদ ভুক্ত প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের ইউজিসি অধ্যাপক ড. মাে. আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সিরাজ, অধ্যাপক ড. হাসিনা খান, অধ্যাপক ড, মামুন আহমেদ, জীন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মােহাম্মদ নাজমুল আহসান ও ড. এবিএম খামেদুল ইসলাম এবং অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান ও কার্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. এ. মালেক গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত থাকবেন। উক্ত গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করােনাভাইরাস রেসপন্স টেকনিক্যাল কমিটির আহবায়ক ও জীন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স সম্পন্ন হয় গত মঙ্গলবার। চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল যে এ জিনোম সিকোয়েন্স ভাইরাসটির গতি-প্রকৃতি ও প্রতিরোধের উপায় খুঁজতে সহায়তা করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 30 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

Design & Developed By : amdads.website