Voice of SYLHET | logo

৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বাস্তবায়নে বাজেট শূন্য!

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ০৩, ২০১৯, ০৮:৪৫

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বাস্তবায়নে বাজেট শূন্য!

নিউজ ডেস্ক

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন হয়েছে ২০১৩ সালে। তবে গত ৬ বছরেও সংশ্লিষ্ট খাতের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবন্ধী নাগরিকের অধিকার ও সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটা বড় অঙ্কের টাকা যায়। এর একটা অংশ সামাজিক সুরক্ষার আওতায় মাসে ৭৫০ টাকা করে প্রতিবন্ধীদের দেওয়া হচ্ছে। এ সময়ে এই টাকা যা খুবই অপ্রতুল।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ১৭ লাখ। তবে বেসরকারি নানা হিসাবে এ সংখ্যা দেড় কোটির মতো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউিএইচও) বলছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ১৫ শতাংশ মানুষ কোনও না কোনোভাবে ডিজঅ্যাবিলিটি নিয়ে বাস করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য কাঠামোগতভাবে খরচের কোনও বরাদ্দ নেই। ফলে বাস্তবে আইনের কোনও প্রতিফলন নেই। প্রতিটি জেলায় কমিটি রয়েছে, তাদের কার্যক্রমের জন্য বাজেট থাকার কথা থাকলেও তা নেই।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩-এর ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রসহ প্রযোজ্য সব ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রয়োজনীয় স্বাচ্ছন্দ্যের উপযোগী পরিবেশ ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য দেশব্যাপী প্রায় এক হাজার ২০০টি কমিটি রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে থাকা দুটি কমিটির একটির সভাপতি সমাজকল্যাণমন্ত্রী, আরেকটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব। ৬৪টি জেলাসহ উপজেলা ও শহর পর্যায়ে থাকা এসব কমিটি পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য সদস্য সচিবের নেতৃত্বে কমিটি করা হয়েছে। সেটিরও বাজেট নেই। এ কারণে এসব কমিটির প্রতি তিন মাসে একটি করে মিটিং করার কথা থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হয় না। ফলে সেগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিট ইন ডেভলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী এ এইচ এম নোমান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইন প্রয়োগের জন্য শিক্ষা-স্বাস্থ্য, জীবনধারণ, চাকরি সবক্ষেত্রে বরাদ্দ থাকার কথা ছিল। আইন প্রয়োগের জন্য কাঠামোগত ব্যবস্থার জন্যও কোনও বরাদ্দ নেই বাজেটে। যার ফলে কাগজে-কলমে আইন রয়ে গেছে, কার্যকর ভূমিকা নেই।’

তিনি বলেন, ডাব্লিউএইচও’র হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা হবে অন্তত ১ কোটি ৬০ লাখ। এর মধ্যে মাত্র ১৭ লাখ মানুষকে সরকারিভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ছিল প্রতিবন্ধী হিসেবে এই ১৭ লাখ মানুষকে ভাতার ভেতরে আনার। কিন্তু সে সংখ্যাও খুবই নগণ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ এইচ এম নোমান খান বলেন, ‘সামাজিক সুরক্ষা আইনের ভেতরে এই বাজেট দেওয়া হয়েছে। ৭৫০ টাকা করে যে বিভিন্ন মানুষকে দেওয়া হয়, এর একটা অংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পেয়ে থাকেন।’ আর এ টাকাও সবাই পান না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সামাজিক সুরক্ষা আইনের ভেতরে যত মানুষের জন্য কাভার করা যায়, তার থেকেই কিছু অংশ প্রতিবন্ধীদের জন্য দেওয়া হয়, যেটা একেবারেই নগণ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, যদি এ আইনকে বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে আইনের প্রতিটি ধারায় যা যা করার কথা রয়েছে, সেসব নিয়মতান্ত্রিকভাবে করতে হবে। যদিও প্রতিবন্ধীদের জন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অনেক কিছু রয়েছে, কিন্তু সেসব করতে হলে বাজেট দরকার বলে মত দেন তিনি।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলন বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিটির সদস্য মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আইনে অধিকার রয়েছে, কিন্তু এই অধিকারের মাধ্যমে দেশের একজন প্রতিবন্ধী নাগরিক খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি উপকার পেয়েছেন।’ এটা আইনের করুণ চিত্র বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘তারপরও বলা যায়, বর্তমান সরকার একটি আইন করেছে, আইনের নিমিত্তে কেউ চাইলে আদালতে যেতে পারেন।’

তিনি বলেন, এই আইনের উপকার পেতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মরতদের ভূমিকা রাখতে হবে। কিন্তু সেটা সঠিকভাবে হয় না। এই কমিটিগুলোর কাজ করার জন্য কোনও সচিবালয় নির্ধারিত নেই বলেও জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 29 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

Design & Developed By : amdads.website