Voice of SYLHET | logo

৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২১শে এপ্রিল, ২০২১ ইং

নগরজুড়ে মশার রাজত্ব, অতিষ্ঠ নগরবাসী, আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ সিসিকের

প্রকাশিত : মার্চ ১০, ২০২১, ০১:১৪

নগরজুড়ে মশার রাজত্ব, অতিষ্ঠ নগরবাসী, আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ সিসিকের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শীতের মৌসুম শেষ হয়ে আসলে প্রতিবছর ঢাকঢোল পিটিয়ে মশা নিধন কর্মসূচি শুরু করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। ফটোসেশন আর দু’একদিনের কর্মসূচি পালন করেই শেষ হয় তাদের কার্যক্রম। এমন বাস্তবতায় মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ সিলেটের জনজীবন। বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত সর্বত্রই এখন মশার উপদ্রব। মশার কামড় থেকে রেহাই পেতে দিনের বেলা মশারি ব্যবহার করছেন অনেকেই। বিঘ্ন ঘটছে শিশুদের পড়ালেখায়।

এ অবস্থায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি নগরবাসীর। যদিও তৃতীয় ধাপে মশার ঔষধ ছিটালে এ উপদ্রব কমে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে মশার উপদ্রবে নাকাল নগরবাসীকে রক্ষার আহ্বান জানিয়ে সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, নগরীতে এখন চলছে মশার রাজত্ব। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন মশার উপদ্রব চার গুণ বেশি। শুধু রাতে নয়, দিনের আলোয়ও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে নগরবাসী। কার্যকরভাবে পূর্ব প্রস্তুতি না নেওয়ার ফলেই এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, বাজার, উন্মুক্ত স্থান, সড়ক, পার্ক, খেলার মাঠ, মসজিদ সর্বত্রই এখন মশার রাজত্ব। গত কয়েকদিন ধরে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবে কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে মশা নিধনের ওষুধের চেয়ে মশা আরো শক্তিশালী।

মশা নিধনের বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত (সনতু) বলেন, আমার এলাকায় গত বৃহস্পতিবার থেকে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। আগামীকাল পর্যন্ত ছিটানো হবে। এতে মশার উপদ্রব কমবে বলে ধারণা করছি।

নগরীর পূর্ব সাদাটিকর এলাকার মুজিব মিয়া বলেন, মশা নিধনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের যথেষ্ট বরাদ্দ থাকার পরও নগরবাসীকে মশার কামড়ের ধকল সহ্য করতে হচ্ছে কেন? মশক নিধনে সিসিকের যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন ছিল তাও লক্ষ্য করছে না নগরবাসী। অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, নগরবাসীর মনে প্রশ্ন মশাই যদি না মারা যায় তাহলে মেয়র-কাউন্সিলরদের থাকার দরকার কি?

তিনি আরো বলেন, মশা নিধনের ওষুধ ছিটিয়ে সফলতা পেতে হলে উড়ন্ত মশা মারার ফগিং পরিচালনা কমিয়ে লার্ভা নিধনে লার্বিসাইট ওষুধের ব্যবহার বাড়াতে হবে। জনস্বাস্থ্যের ব্যাপারে তাদের উদাসীনতা কিংবা অবহেলা যতদিন দূর না হবে ততদিন মশার দাপট কমবে না-এটাই মনে করে নগরবাসী।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোহেল আহমদ রিপন বলেন, এলাকায় মশা নিধনের পরিকল্পনা আছে। এখনও সঠিক করে বলতে পারবো না কবে থেকে মশা নিধনের ঔষধ ছিটানো হবে। সিটি কর্পোরেশনে আলোচনা হয়েছে। তবে গত কয়েক মাস আগে মশা নিধনের ঔষধ ছিটানো হয়েছে।

করোনাভাইরাসের মহামারীর সময়ে মশাবাহিত রোগ থেকে দূরে থাকতে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। মশাবাহী ছয়টি রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকাঘুরে দেখা যায়, কিউলেক্স মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী। মশার কামড় থেকে বাচতে অনেকই দিনের বেলা মশারী টাঙ্গিয়ে পড়ালেখা করছেন।

এ বিষয়ে সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, কিউলেক্স মশার কামড়ে ফাইলেরিয়াসিস ও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফাইলেরিয়াসিসে আক্রান্ত হতে হলে ১০ হাজারবার কিউলেক্স মশার কামড় খেতে হবে। আর যে কোনো মশার শরীরে ওয়েস্ট লাইন ভাইরাস থাকলে ওই মশা কামড়ালেই চিকুনগুনিয়ার মতো একধরণের জ্বরে আক্রান্ত হবে মানুষ।

মশার কামড় থেকে আত্মরক্ষাই সবচেয়ে বড় সমাধান। বসন্তকাল থেকে শুরু হয় মশাবাহিত অসুখ-বিসুখের প্রকোপ, বর্ষাকালে সবচেয়ে বাড়ে। মশা থেকে বাঁচতে হালকা রঙের কাপড় পরবেন, ফুলস্লিভ হলে ভালো। বাড়িতে নেট ব্যবহার করতে পারেন। রাতে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করবেন। শিশুরা ঘুমালে দিনেও তাই। পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে গেলে অবশ্যই সাবধান থাকবেন, সঙ্গে ফুলহাতা জামা ও মশা তাড়ানোর ওষুধ নেবেন। বাড়িঘরের আশপাশে বদ্ধ পানি নিয়মিত সাফ করবেন। টবের নিচে, এসির নিচে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখবেন। প্রয়োজনে পাড়ার সবাই মিলে নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং পানি ও আবর্জনামুক্ত রাখার বিষয়ে একতাবদ্ধ হোন।

এদিকে মশা নিধনে নগর কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে গত এক বছরে সিসিক কোটি টাকার মশার ঔষধ ছিটিয়েছে বলে জানালেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী।

তিনি বলেন, ইদানীং একটু মশার প্রকোপ বাড়ছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে মশা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবো। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১ কোটি টাকার উপরে মশা নিধনের ঔষধ ক্রয় করা হয়েছে। এখনও প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ঔষধ আমাদের কাছে মজুদ আছে। এখন আরো ঔষধ লাগবে তা টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা ক্রয় করা হবে। তৃতীয় ধাপের ঔষধ ছিটালে মশার উপদ্রব কমে আসবে বলেও জানান তিনি।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে কাজ হচ্ছে না, এমন অভিযোগ সঠিক না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্র হয়তো কিছুটা হতে পারে। সিসিকের কাজগুলো মাঠ পর্যায়ে আমরা মনিটরিং করে থাকি, তাই মাঠ পর্যায়ে কাজ হচ্ছে না এসব অভিযোগ সত্য নয়। আমাদের আন্তরিকতা আছে। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মশা নিধনের জন্য শুধু ঔষধ প্রয়োগ করলে হবে না। জনগণকে সচেতন হতে হবে। নাগরিক অধিকার ব্যস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন- একজন নাগরিক যখন তার অধিকার সম্পর্কে জানবে, তখন তার কি কি কাজ করণীয় তা করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য আমাদের সিলেটের মানুষের মাঝে সচেতনতা বা সেই অধিকার বোধ নাই। নগরবাসী যত্রতত্র ময়লা ফেলছেন। এতে করে নগরীর ড্রেনগুলো ময়লায় ভরে যাচ্ছে। সিসিকের কর্মীরা দিনে রাতে কাজ করেও ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখতে পারছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত নগরবাসী সচেতন না হবে ততদিন এর সুফল ভোগ করা যাবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 66 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

Design & Developed By : amdads.website