Voice of SYLHET | logo

১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতিতে এগিয়ে হাই-টেক পার্ক

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০, ১২:৪৯

ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতিতে এগিয়ে হাই-টেক পার্ক

নিউজ ডেস্কঃ-

সরকার সারাদেশে হাই-টেক পার্ক নির্মাণ করছে। এরমধ্যে দুটো পুরোপুরি চালু হয়েছে। একটির নির্মাণ কাজ চললেও সেখানে যেসব প্রতিষ্ঠানকে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তারমধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করেছে। কয়েকটির হাই-টেক পার্কের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। গত জুন মাস পর্যন্ত সেগুলোর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতিতে এগিয়ে দেশের এসব হাই-টেক পার্ক,যা বর্তমানে দৃশ্যমান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্কগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হলে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানও এসব পার্কে কাজের সুযোগ পাবে। ফলে প্রযুক্তিভিত্তিক বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা আরও সহজ হবে।  সরকারের আশা, ২০৩০ সাল নাগাদ এসব হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক থেকে এক হাজার কোটি ডলারের সফটওয়্যার রফতানি করা যাবে।

এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘দেশের ৫টি হাই-টেক পার্ক বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে এসব হাই-টেক পার্কে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান হবে ‘  তিনি আশাবাদী,আমাদের যে পরিকল্পনা তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে এসব হাই-টেক পার্ক এক হাজার কোটি ডলার আয় করবে সফটওয়্যার রফতানি করে।

বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি, কালিয়াকৈর

শুরুতে প্রযুক্তিভিত্তিক পার্কটির নাম বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্ক নামকরণ করা হলেও পরে নাম বদলে রাখা হয়েছে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ২৩২ একর জমির ওপর বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পিপিপি মডেলে বাস্তবায়নের জন্য ২৩২ একর জমিকে ৫টি ব্লকে ভাগ করে উন্নয়নের লক্ষ্যে দুটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ৩ নম্বর ব্লকে একটি মাল্টি টেনেন্ট বিল্ডিং, ২ নম্বর ব্লকে একটি এমটি বিল্ডিং এবং ৫ নম্বর ব্লকে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিল্ডিং থাকছে।

বর্তমানে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৩৭টি কোম্পানিকে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে বিজনেস অটোমেশন নামের প্রতিষ্ঠান কিয়স্ক সহ ডাটা সফট আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) যন্ত্রাংশ তৈরি করছে বলে জানা গেছে। এদিকে ওরিক্স বায়োটেক নামের একটি প্রতিষ্ঠান  বায়োটেকনোলজি নিয়ে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য বায়োটেকনোলজিক্যাল পণ্য উৎপাদন। প্রতিষ্ঠানটি এখানে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন নামের প্রতিষ্ঠানটি সিটিতে কিডনি ডায়ালাইসিসের যন্ত্রপাতি উৎপাদন করছে বলে জানা যায়।

বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি-২, কালিয়াকৈর

বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির পাশেই গড়ে তোলা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি-২। প্রায় ৩৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সিটিতে হাই-টেক শিল্প গড়ে তোলা হবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সিটির ভেতরে রাস্তা, ভূমি উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, গ্যাস সংযোগ ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি-২ নির্মাণের উদ্দেশ্য। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে।

শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, যশোর

শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ১২-১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই পার্কের উদ্বোধন করেন। বর্তমানে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এই পার্কে। শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম ডাটা সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে। আর ওই ডাটা সেন্টারের ব্যাকআপ স্টেশন তৈরি হচ্ছে যাশোরে।

যশোরের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লার্নিং আর্নিং, প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে এখানে। নবীন উদ্যোক্তা বা স্টার্টআপগুলোর জন্য প্রতিটি হাইটেক পার্কের মতো এই পার্কেও বিশেষভাবে জায়গা বরাদ্দ থাকছে। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যশোরের বেজপাড়া শংকরপুর এলাকায় এই আইটি পার্কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১২ দশমিক ১৩ একর জমির ওপর আইটি পার্কটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ৩০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাইটেক পার্কে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, সিলেট

সিলেটে ১৬২ দশমিক ৮৩ একর জমিতে পিপিপি মডেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলেছে। এই পার্ককে বিশেষায়িত  ইলেকট্রনিক সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এখানে বিশ্বমানের বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে বলে জানা গেছে, যেখানে ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে আইটি পেশাজীবীদের চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হবে। এরইমধ্যে আইটি বিজনেস সেন্টার, গেস্ট হাউজ, ইউটিলিটি ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের পথে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ।  সূত্র বলছে, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি প্রায় ৭৮ শতাংশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহী

রাজশাহীর পবার নবীনগরে গড়ে উঠছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক। ৩১ একর জমিতে ২ লাখ বর্গফুটের মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২১ সালের জুন মাসে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ডিপ টিউবওয়েল, বাইরের পানি সরবরাহ, রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সংক্রান্ত কাজের ৮৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে সাবস্টেশন, জেনারেটর ভবন, সীমানা প্রাচীর, ব্যারাক সংক্রান্ত কাজের ৮৫ ভাগ শেষ হয়েছে। পার্ক তৈরি উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এআর, ভিআর, এমআর রল্যাব তৈরি করা হয়েছে। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি ল্যাব)। এছাড়াও অন্যান্য কাজ প্রায় শেষের পথে।  এই পার্ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে রাজশাহীতে জ্ঞানভিত্তিক আইটি শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান, নতুন উদ্যোক্তাদের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সহজ হবে।

জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, ঢাকা

রাজধানীর কাওরান বাজারের জনতা টাওয়ারকে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে রূপান্তর করা হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকারের এই আয়োজন। বর্তমানে ১৫টি প্রতিষ্ঠান সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে কম দামে আইটি কোম্পানিগুলোর জায়গা (স্পেস বরাদ্দ পাওয়া) পাওয়া একটা সুযোগই বটে। নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেট, ডাটা কানেক্টিভিটি ইত্যাদি সুযোগ রয়েছে এখানে। আছে স্টার্টআপদের জন্য বিশেষ বরাদ্দের ফ্লোর। এরইমধ্যে প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের নতুন গন্তব্য হয়ে উঠেছে এই জনতা টাওয়ার।

এদিকে চট্টগ্রামেও তৈরি হচ্ছে চট্টগ্রাম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্মিত সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেটের ৬-১১ তলা নির্মাণ করে (ঊর্ধমুখী সম্প্রসারণ) তৈরি হচ্ছে চট্টগ্রাম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। ইতোমধ্যে পার্কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে এ বছরের সেপ্টেম্বর মাস অবধি।

জেলা পর্যায়ে আইটি ও হাইটেক পার্ক স্থাপন

জানা গেছে, দেশের ১২টি জেলায় সরকার আইটি ও হাইটেক পার্ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি বছরের জুনে এগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন মাস। তবে নির্মাণ কাজের অগ্রগতি হয়েছে। কোনও কোনওটির নির্মাণ কাজ একেবারে শেষের পথে। এই জেলাগুলো — হলো রংপুর, নাটোর (সিংড়া), খুলনা, বরিশাল, গোপালগঞ্জ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়),ঢাকা (ঝিলমিল আবাসিক এলাকা, কেরানীগঞ্জ), ময়মনসিংহ, জামালপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার (রামু)ও সিলেট (কোম্পানীগঞ্জ)।

প্রসঙ্গত, হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বেসরকারি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ঘোষণার গাইডলাইনের আওতায় ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি ৯টি আইটি প্রতিষ্ঠানকে হাইটেক ইন্ডাস্ট্রি বা হাই-টেক পার্ক হিসেবে ঘোষণা করেছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে কোম্পানিগুলোর জন্য সরকার বিশেষ প্রণোদনা সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১০ বছর কর মওকুফ, পার্ক ডেভেলপারের জন্য ১২ বছর পর্যন্ত কর মওকুফ, মূলধনী সম্পত্তি ও মেশিনারিজের ওপর আমদানি শুল্ক মওকুফ, প্রতিটি হাই-টেকপার্ককে ওয়্যারহাউজ স্টেশন হিসেবে বিবেচনা করা, ইউটিলিটি সেবার ওপর ভ্যাট মওকুফ, পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লভ্যাংশের ওপর কর মওকুফ, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আয়ের ওপর আয়কর মওকুফের সুবিধা দিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 36 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

Design & Developed By : amdads.website