Voice of SYLHET | logo

২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

‘কবে শেষ হচ্ছে কোম্পানীগঞ্জের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ’-

প্রকাশিত : আগস্ট ২৮, ২০১৯, ২১:৩৭

‘কবে শেষ হচ্ছে কোম্পানীগঞ্জের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ’-

 

লবীব আহমদ, কোম্পানীগঞ্জ থেকে:- সিলেট জেলার অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হচ্ছে কোম্পানীগঞ্জ।  কোম্পানীগঞ্জ মূলত বালু, পাথর আর পর্যটনের জন্য সারাদেশে বিখ্যাত। কিন্তু, এ এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা ততটা উন্নত নয়। এ এলাকায় যারা পড়ালেখা করে, তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।এ এলাকার মূলত প্রধান সমস্যা হচ্ছে যাতায়াত সমস্যা। যোগাযোগ ও আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় ভালো শিক্ষা অর্জনের জন্য সবাই শহরে গিয়ে পড়ালেখা ও করতে পারেনা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান খুবই সীমিত।ছয়টি ইউনিয়নে মাত্র পাঁচটি কলেজ রয়েছে। এর মধ্য স্কুল এন্ড কলেজ তিনটি , উচ্চ মাধ্যমিক  পর্যন্ত একটি। আর শুধুমাত্র একটি ডিগ্রী কলেজ রয়েছে। তাই এ কলেজগুলোই হচ্ছে কোম্পানীগঞ্জের মানুষের স্বপ্নের মূল কেন্দ্র। একসময় এ এলাকার প্রধান সমস্যা ছিল-  রাস্তা।  ঢাকা-সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কটি কোম্পানীগঞ্জের মূল রাস্তা।  এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কোম্পানীগঞ্জবাসী চলাচল করে থাকে। একসময় এ রাস্তাটির অবস্থা ছিল বেহাল খারাপ। তখন ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যেত। পরিবহণ এবং রাস্তা খারাপ থাকার কারণে সঠিক সময়ে স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের যেতে বিলম্ব হত। সবাই ভাবতো যে, রাস্তা ভালো হলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু, না। একটি সমস্যা যাচ্ছে তো আরেকটি সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে। আর বর্তমানে আরেকটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে- পরিবহণ সংকট। এ এলাকার মানুষ সাধারণত সিএনজি আর বাস দ্বারা চলাফেরা করে। এখনাকার মোটামুটি সমস্ত সিএনজি লাইসেন্সহীন। কমবয়সী ও অদক্ষ চালকের দ্বারা এসব গাড়ি চালিত হয়। এসব গাড়ি চড়েই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা- প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসা করতে হয়। আধা ঘণ্টা কিংবা এক ঘণ্টা পর ভোলাগঞ্জ থেকে আবার এদিকে মজুমদারী থেকে বাস আসে। কিন্তু, প্রতিটা বাস’ই যাত্রী দ্বারা পূর্ণ থাকে। আর সিএনজি তার স্টেশন থেকেই লোক বোঝাই করে থাকে। আবার অনেক সময় কিছু সিএনজি খালি যায় কিংবা দুই অথবা এক সিট খালি থাকে। ঐ গাড়িতে যদি কোনো শিক্ষার্থী সিগন্যাল দেয়, তাহলে গাড়ির ড্রাইভাররা তাদের নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। আবার অনেক সময় অন্যান্য যাত্রী গাড়িতে তুলে কিন্তু, শিক্ষার্থীদের গাড়িতে তুলে না। কারণ, তারা অর্ধেক পথ যাবে আর ভাড়া একটু কম দিবে বলে। কিন্তু, এ দেশের জাতির জনক শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য হাফ-ভাড়া ব্যবস্থা চালু করে গিয়েছিলেন। এভাবে অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর ও  তারা গাড়ি পায়না। অনেক সময় সঠিক সময়ে ক্লাসে যেতে বিলম্ব হয়।

গতকাল সরেজমিনে গৌরীনগর পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, দুজন কলেজ ছাত্র সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে।  যখনি গাড়ি আসছে, তখনি তারা সিগন্যাল দিচ্ছে। তখন সময় ৯ টা ২৫ মিনিট। কিন্তু, কোনো গাড়ি -ই তাদের সিগন্যাল মানছে না। আমি উপস্থিত থেকেই দেখলাম যে অনেক সিএনজি খালি যাচ্ছে, কিন্তু তারা শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে বোধহয় নিচ্ছে না। দেখতে দেখতে ৯টা ৫৫ বেজে গেল। তখন তাদের সাথে আলাপ করে জানতে পারলাম যে, ‘প্রতিদিনই এরকম হয়’। এরূপ অসুবিধার কারণে নাকি মেয়েরা প্রতিদিন কলেজে যায় না!
এ অসুবিধা পুরো উপলব্ধি করার জন্য ২ টার দিকে খাগাইল পয়েন্টে যাই। যে পয়েন্টে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করে ইমরান আহমদ কারিগরি কলেজের শিক্ষার্থীরা। সেখানে দেখি ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতেছে। প্রায় আধা ঘণ্টা আমি সেখানে অবস্থান করলাম। একজন, দুজন করে আস্তে আস্তে যাচ্ছে। কিন্তু, তখনো ১৮ জনের মত শিক্ষার্থী গাড়ির জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় রয়েছে। সকালের মতো আমি তখনো লক্ষ করলাম যে,অনেক গাড়ি খালি কিংবা ২-১ সিট খালি চলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের সিগন্যাল উপেক্ষা করে।

এ সমস্যা কি চলমানই থাকবে.?

এরকম আরো হাজারো সমস্যা রয়েছে ঐ এলাকার শিক্ষার্থীদের। যদি এরকম অসুবিধা হয়, তাহলে কিভাবে ঐ এলাকা উন্নত হবে আর ছেলে-মেয়েরা কিভাবে শিক্ষা অর্জন করবে। এজন্য অবশ্যই শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা করা হোক। আর শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবী ‘হাফ ভাড়া’ ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হোক। এক্ষেত্রে অবশ্যই এলাকার মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে। আর উপজেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের পর্যাপ্ত সুবিধা পায় – সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা প্রয়োজন।  নয়তো দেশ ডিজিটাল হলেও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ডিজিটাল থেকে পিছিয়ে পড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 605 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

Design & Developed By : amdads.website