Voice of SYLHET | logo

১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৮শে মে, ২০২০ ইং

ইবি শিক্ষার্থীর করোনা জয়ের গল্প

প্রকাশিত : মে ০৮, ২০২০, ১৭:১২

ইবি শিক্ষার্থীর করোনা জয়ের গল্প

 

ইবি প্রতিনিধি : ”ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালের বেডে ১৬ দিন কাটিয়েছি করোনায় আক্রান্ত হয়ে। এ কয়দিনে আমি স্বচক্ষে অনেক মানুষকে জীবন হারাতে দেখেছি। কিন্তু আমি ভেঙ্গে পড়িনি, হাল ছাড়িনি। আল্লাহর মহান কৃপায় আর নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় করোনা জয় করতে সক্ষম হয়েছি।”

কথাগুলো ডেইলি বাংলাদেশকে বলছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের করোনা জয়ী শিক্ষার্থী জায়েদ।

“হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক এক্স-রে, ব্লাড পরীক্ষা ও স্যাম্পল নিয়ে পেসক্রিপশন দিলে সে অনুযায়ী ওষুধ সেবন করি। অধিকাংশ ওষুধই বাহির থেকে সংগ্রহ করতে হতো। এরপর থেকে চিকিৎসক-নার্স তেমন খোঁজ-খবর নেয়নি বলেই চলে। চিকিৎসকেরা করোনার ভয়ে কাছে আসত না, আমাদের ওয়ার্ডের দরজার সামনে এসে কিছু কথা বলে চলে যেত। আমি গরম পানির ভাব, সঙ্গে আদা-লবঙ্গ-এলাচি খেতাম, গরম পানির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে গর্গরা করতাম। এভাবেই আস্তে আস্তে আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে উঠেছি।”

সুস্থ হয়ে গত পরশু রাতে বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার গ্রামের বাাড়িতে স্বপরিবারে ফিরেছেন তিনি। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় জায়েদ।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১৮ মার্চ ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা পরই জায়েদ তার নানা বাড়ি ঢাকার টিকাটুলিতে বেড়াতে যায়। বেড়াতে গিয়ে নিজেকে নিয়োজিত করে মানবতার সেবায়। মামার সঙ্গে থেকে বিভিন্ন সংগঠনের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি। এসময় তার মামার করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়। টেস্ট করালে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তার।

কিছুদিন পরেই জায়েদের নানার (৮৮) লক্ষণ দেখা দিলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এ সময় জায়েদ ও তার ছোট ভাইয়ের করোনা উপসর্গ দেখা দিলেও তা সেরে ওঠে। তবুও তারা কৌতুহলবশত গত ২০ এপ্রিল ঢাকার পিজি হাসপাতালে করোনা টেস্ট করেন। এ সময় তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

পরে তাদের ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তিনি ও তার নানা গত পরশু রাতে সুস্থ্ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এক সপ্তাহ আগে জায়েদের ছোট ভাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানা গেছে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.হারুন উর রশিদ আসকারী, বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান সহ বিভাগের সকল শিক্ষক মুঠোফোনে খোঁজখবর রাখলেও করোনা প্রতিরোধ সেল কোনো খোঁজ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন জায়েদ।

করোনাকালীন সময়ে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও চিকিৎসা সেবার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “নমুনা পরীক্ষার সময় থেকে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। চিকিৎসা সেবায় খামখেয়ালীভাব ও যত্নহীনতার ছাপ লক্ষ্য করেছি। নমুনা পরীক্ষায় গরমিল লক্ষ্য করেছি। এছাড়া একজন করোনা রোগী সম্পুর্ণ সুস্থ হওয়ার আগেই তাকে কর্তৃপক্ষ রিলিজ দিচ্ছেন।

বাড়িতে গিয়ে বর্তমানে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন জায়েদ ও তার পরিবার। তাদের উপস্থিতিতে প্রতিবেশিরাও আতঙ্কিত হয়েছেন বলে জানালেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 56 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

Design & Developed By : amdads.website