Voice of SYLHET | logo

১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৩১শে মে, ২০২০ ইং

অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নাকি সেশনজট? কি বলছেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত : মে ১৭, ২০২০, ২০:৩১

অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নাকি সেশনজট? কি বলছেন শিক্ষার্থীরা

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:অর্পণ দাস, কৃষি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-  প্রায় ২ মাস ধরে করোনার প্রাদুর্ভাবে যখন দেশের সম্পূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থাই অচল তখন একদিকে যেমন চলছে জীবন-মৃত্যুর খেলা আরেকদিকে শিক্ষার্থীদের চিন্তা সেশন জট নিয়ে। ক্লাস বন্ধের পাশাপাশি আবাসিক হলগুলো খালি করে দেয়া হয়েছে অনেক আগেই। সব শিক্ষার্থীই তাদের নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক অনলাইন ক্লাস করার আহ্বান জানান, যেটি একটি ভাল উদ্যোগ হলেও সব শিক্ষার্থী তাতে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশ এসেছে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল থেকে যেখানে এখনো ইন্টারনেটের সুবিধা নেই বললেই চলে। যেখানে ঘরের মধ্যে বসে মোবাইলে নেটওয়ার্কই পাওয়া যায় না, মোবাইলে কথোপকথনের জন্য তাদেরকে ঘর থেকে বেড়িয়ে খোলা স্থানে এসে নেটওয়ার্কের সন্ধান করতে হয় সেখানে তাদের পক্ষে অনলাইনে ক্লাস করা প্রকৃতপক্ষে সম্ভবও নয়। সাথে ইন্টারনেটের মেগাবাইট কেনার খরচ তো রয়েছেই। সেটিও সবার পক্ষে বহন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বিশেষ করে টেকনিকাল ভার্সিটি গুলোতে যেখানে সব কিছু ব্যবহারিক ভিত্তিক সেখানে অনলাইন ক্লাস কতটা কার্যকরি হবে তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। তাই সকল শিক্ষার্থীই বিকল্প কোন পদ্ধতির আশা করছে এই সেশন জটের প্রতিক‚লতা কাটিয়ে উঠতে।

অন্বেষা বিশ্বাস, আইন বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়- করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। স্থবির হয়ে পড়ে দেশের শিক্ষা কার্যক্রম। এতে করে আমরা সেশন জটের আশংকা করছি। উপরন্তু “সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে” প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর আমরা আরো বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েছি। সেশনজট এর কথা মাথায় রেখে অনেক সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস নেয়া শুরু করেছে।

যদিও বর্তমান সময়ের মতো যেকোনো জরুরী অবস্থায় প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখা নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ তবে এই মহামারীর সময়ে অনলাইন ক্লাস নিয়ে আমি বেশ দ্বিধান্বিতই বটে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশীরভাগ শিক্ষার্থীই অসচ্ছল যাদের জন্য মোবাইল ডেটা খরচ করে অনলাইন ক্লাস করা এখন নিছক বিলাসিতা।উপরন্তু এই অস্থির সময়ের আঘাতে তারা মানসিকভাবে পড়াশুনার জন্য কতটা প্রস্তুত সেটাও ভাবার বিষয়। প্রযুক্তির সমন্বয় সেশনজট কিছুটা হলেও হয়তো প্রশমিত করতে পারে এবং বর্তমানে তরুণ সমাজের ইন্টারনেট এবং অনলাইনের ওপর প্রবল ঝোঁক ভালো কাজে লাগানোরো এটি একটি সুযোগ।

তবুও এটা সত্য যে “অনলাইন ক্লাস” আমাদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা। যেহেতু অনেক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই; পাশাপাশি আমাদের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাই “অনলাইন ক্লাসের” সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

অনলাইন ক্লাসে আরো কিছু জটিলতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে:
প্রথমত, এখন অনেক শিক্ষার্থী নিজ গ্রামে অবস্থান করছে। গ্রামে উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রাপ্তির অসুবিধা রয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় অনেক সময় মোবাইল নেটওয়ার্কই থাকে না, উচ্চগতির ইন্টারনেট তো দূরের কথা।
দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীকেই টিউশনের উপর নির্ভর করে চলতে হতো। এখন টিউশন নেই, তাই বলা চলে, তাদের “পকেট ফাঁকা।” উচ্চ মূল্যে ইন্টারনেট কেনার সামর্থ্য তাদের এই মুহূর্তে নেই।

এছাড়াও, অনলাইন ক্লাসে শুধুমাত্র তত্বীয় ক্লাস নেয়া সম্ভব। যেহেতু ব্যবহারিক ক্লাস কিংবা পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয় তাই সেশনজট কমাতে অনলাইন ক্লাস কতটুকু কার্যকর প্রশ্ন থেকে যায়।

নিলয় সরকার,পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়-
করোনা ভাইরাসের কারনে থমকে গেছে পুরো পৃথিবী। বন্ধ হয়ে গেছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এমতাবস্থায় উচ্চশিক্ষায় দেখা দিয়েছে সেশন জট।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন এই সেশন জট নিরশনে অনলাইন ক্লাস পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কিন্তু এখন সত্যি বলতে সকল শিক্ষার্থীর পক্ষে এই ডাটা খরচ করা সম্ভব হবে না,তাছাড়া অনেকের হয়তো অনলাইন ক্লাস করার মত ইলেকট্রনিক ডিভাইসটাও নেই। এমন অবস্থায় অনলাইন ক্লাস করা আসলেই অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে অসম্ভব। অপরদিকে দীর্ঘ সময় লকডাউনে থাকলে আমরা পড়ব ৬ মাসের সেশন জটে। পৃথিবীর অবস্থা ঠিক হলে আমরা হয়তো বেশি ক্লাস করে, সরকারি ছুটি কমিয়ে এনে এই জটটা হয়তো কভার করতে পারব।তাই এখন সকল শিক্ষার্থীর দরকার পাশে দাঁড়ানোর, হয়ত অনেককেই না খেয়ে দিন পার করছে তাদের কাছে অনলাইন ক্লাস মোবাইল ডাটা কিনে করা বিলাসিতা ছাড়া কিছু না।

যুবায়ের আহমেদ, কৃষি অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- সারাবিশ্বে মহামারীর প্রকোপে জনজীবন বিপন্ন। শিক্ষা কার্যকম ও ব্যাহত হচ্ছে। ১৭ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বন্ধ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে খুব শীঘ্র বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলবে এমন কোনো আশা ও করা যাচ্ছে না। সেই ক্ষেত্রে লাখ-লাখ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন শেষ করতে অনেকটা সময় লেগে যাবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অনলাইনে পরীক্ষা ও ক্লাস কার্যক্রম চলমান কিন্তু আমাদের মতো টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে অনলাইনে শিক্ষা ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালানো একটু মুশকিলের ব্যাপার কারন আমাদের শিক্ষা-কার্যক্রম অনেকটা মাঠ ও ল্যাব নির্ভর। তাই অনলাইনে শিক্ষা ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালালে আমাদের ভালো বেগ পেতে হবে।

সাদিয়া আফরোজ, আইন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- বর্তমানে আমরা একটা রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতে আটকে আছি। আমরা জানি না এই পরিস্থিতির শেষ কখন কোথায়! করোনা ভাইরাসে পুরো পৃথিবী এখন গৃহবন্দী,সাথে পুরো বাংলাদেশ তো বটেই। এখন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অচল পুরোপুরি।  আমাদের হাতে এখন দুটো অপশন।  সেখানে হয় অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস-পরীক্ষা না হয় সেশন জট। বর্তমানে আমরা দেখতে পাই , বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি গুলো অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষাকে ফলো করলেও পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলো পিছিয়ে পড়েছে। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর জন্য অনলাইন ভিত্তিক পড়াশুনা অনেকটা কষ্টসাধ্য। আমরা অনলাইন ক্লাস করা শুরু করলে দেখা যাবে আমাদের ক্লাসের ৪০% স্টুডেন্টই সেখানে অনুপস্থিত। কারন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে থাকে,তাদের অনেকের এলাকায় নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা হয়তো ওতোটা উন্নত নয় বা পরিবারিক অবস্থাও অনেকের এতোটা ভালো না যে এখন পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা পিছে ফেলে অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হবে। আর আমরা ৬০% স্টুডেন্টরা চাই না আমাদের বাকি ৪০% সহপাঠীদের ছাড়াই ক্লাস চালিয়ে যেতে। সেখানে আমাদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া কোনো গতি নেই। কিন্তু ঘরে বসে অনলাইন ভিত্তিক পড়াশুনা বা জ্ঞান বিস্তারে সমর্থন জানাচ্ছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সংবাদটি পড়া হয়েছে 35 বার

যোগাযোগ

অফিসঃ-

উদ্যম-৬, লামাবাজার, সিলেট,

ফোনঃ 01727765557

voiceofsylhet19@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

সম্পাদক মন্ডলি

ভয়েস অফ সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

Design & Developed By : amdads.website